Saturday, August 6th, 2016
রবির প্রয়াণে
August 6th, 2016 at 8:27 pm
রবির প্রয়াণে

ডেস্কঃ

“আমার এই দেহখানি তুলে ধরো, তোমার ওই দেবালয় এর প্রদীপ করো…”

বাঙ্গালী ও বাংলা সাহিত্যের প্রাণ-প্রদীপ হয়ে জ্বলছেন তিনি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, আজ ২২ শে শ্রাবণ তার প্রয়াণ দিবসে রইলো শ্রদ্ধা।

১৩৪৮ সালের ২২ শে শ্রাবণ পৃথিবী থেকে বিদায় নেন বাংলাসাহিত্যের ক্ষণজন্মা এই প্রবাদপুরুষ। তার অবদানেই বাংলা সাহিত্য আধুনিকতা আর উত্তরাধুনিকতাবাদের মুখ দেখেছিলো। সাহিত্যের এমন কোন শাখা নেই যেখানে এই মহান কবি তার লেখনীর ছাপ রেখে যাননি।

কবিগুরু জন্মগ্রহণ করেছিলেন কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে। ১৯১৩ সালে প্রথম বাঙ্গালী হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পান তিনি। ভাবগভীরতা, গীতিধর্মিতা, চিত্ররূপময়তা, আধ্যাত্মচেতনা, ঐতিহ্যপ্রীতি, প্রকৃতিপ্রেম, মানবপ্রেম, স্বদেশপ্রেম, বিশ্বপ্রেম, রোমান্টিক সৌন্দর্যচেতনা, ভাব, ভাষা, ছন্দ ও আঙ্গিকের বৈচিত্র তার কাব্যসাহিত্যের বৈশিষ্ট্য।

রবীন্দ্রনাথের গদ্যভাষাও কাব্যিক। ভারতের ধ্রুপদি ও লৌকিক সংস্কৃতি এবং পাশ্চাত্য বিজ্ঞানচেতনা ও শিল্পদর্শন তার রচনায় গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল। কথাসাহিত্য ও প্রবন্ধের মাধ্যমে তিনি সমাজ, রাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে নিজ মতামত প্রকাশ করেছিলেন। সমাজকল্যাণের উপায় হিসেবে তিনি গ্রামোন্নয়ন ও গ্রামের দরিদ্র জনসাধারণকে শিক্ষিত করে তোলার পক্ষে মতপ্রকাশ করেন। এর পাশাপাশি সামাজিক ভেদাভেদ, অস্পৃশ্যতা, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধেও তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।

রবীন্দ্রনাথের দর্শনচেতনায় ঈশ্বরের মূল হিসেবে মানব সংসারকেই নির্দিষ্ট করা হয়েছে; তিনি দেববিগ্রহের পরিবর্তে কর্মী অর্থাৎ মানুষ ঈশ্বরের পূজার কথা বলেছিলেন। সংগীত ও নৃত্যকে তিনি শিক্ষার অপরিহার্য অঙ্গ মনে করতেন। রবীন্দ্রনাথের গান তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি। বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কার জাতীয় সঙ্গীত তার রচিত।  কাব্য, সঙ্গীত, নৃত্যকলা, নাটক, উপন্যাস, চিত্রকলা, গবেষণা সকল ক্ষেত্রেই তার বিচরণ বাঙ্গালীকে দান করেছে এক বিশাল শিল্প সম্ভার।

জীবনের শেষ চার বছর ছিল তার ধারাবাহিক শারীরিক অসুস্থতার সময়। এই সময়ের মধ্যে দুইবার শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছিলেন তিনি।

১৯৩৭ সালে একবার অচেতন হয়ে বেশ আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন কবি। সেবার সেরে উঠলেও ১৯৪০ সালে অসুস্থ হওয়ার পর আর জাগতে পারেননি পুরনো উদ্যমে। এই সময় পর্বে রচিত রবীন্দ্রনাথের কবিতাগুলি ছিল মৃত্যুচেতনাকে কেন্দ্র করে সৃজিত কিছু অবিস্মরণীয় পংক্তিমালা। মৃত্যুর সাত দিন আগে পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথ সৃষ্টিশীল ছিলেন।

দীর্ঘ রোগভোগের পর ১৯৪১ সালে জোড়াসাঁকোর বাসভবনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

নিউজনেক্সটবিডিডটকম/এসকেএস


সর্বশেষ

আরও খবর

প্রধানমন্ত্রীপরিচয়ে তাজউদ্দীন ইন্দিরার সমর্থন আদায় করেন যেভাবে!

প্রধানমন্ত্রীপরিচয়ে তাজউদ্দীন ইন্দিরার সমর্থন আদায় করেন যেভাবে!


প্রকৃতির নিয়ম রেখেছিল ঢেকে রাতের কালো, বিধাতার ডাকে বঙ্গবন্ধু এলো

প্রকৃতির নিয়ম রেখেছিল ঢেকে রাতের কালো, বিধাতার ডাকে বঙ্গবন্ধু এলো


সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ

সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ


বঙ্গবন্ধুর মুক্তির নেপথ্যে

বঙ্গবন্ধুর মুক্তির নেপথ্যে


প্রয়াণের ২১ বছর…

প্রয়াণের ২১ বছর…


বীর উত্তম সি আর দত্ত আর নেই, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক

বীর উত্তম সি আর দত্ত আর নেই, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক


সংগীতের ভিনসেন্ট নার্গিস পারভীন

সংগীতের ভিনসেন্ট নার্গিস পারভীন


সিরাজগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে কামাল লোহানীকে

সিরাজগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে কামাল লোহানীকে


জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আর নেই

জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আর নেই


ওয়াজেদ মিয়ার ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ওয়াজেদ মিয়ার ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ