Sunday, December 10th, 2017
রাজধানীতে বাড়ি ভাড়ায় নৈরাজ্য 
December 10th, 2017 at 10:03 pm
রাজধানীতে বাড়ি ভাড়ায় নৈরাজ্য 

এম কে রায়হান, ঢাকা: প্রায় দুই কোটি মানুষের বসবাস রাজধানী ঢাকায়। তবুও জীবিকার তাগিদে এই নগরীকেই বেছে নিচ্ছেন সবাই। তাই প্রতিদিনই এ সংখ্যা বাড়ছে। আর বাইরে থেকে আসা মানুষের একমাত্র আশ্রয়স্থল ভাড়া বাসা। আর এ সুযোগে কোনো প্রকার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বাড়ির মালিকরা ভাড়ার বাড়তি বোঝা চাপিয়ে দেন ভাড়াটিয়াদের কাঁধে।

এছাড়া বাড়ির ভাড়া কেমন হবে, কখন ভাড়া বাড়বে, ভাড়াটিয়াকে কখন উচ্ছেদ করা যাবে, অগ্রিম জামানত গ্রহণ, ভাড়া আদায়ের রশিদ প্রদান, লিখিত চুক্তি, বাড়ি মেরামত ও বসবাস যোগ্য কিনা- বিষয়গুলো নিয়ে কোনো ধরণের আইনে তোয়াক্কা করেন না বাড়ির মালিকরা। অন্যদিকে, বেশির ভাগ ভাড়াটিয়া বিষয়গুলো না জানায় সব অনিয়ম মুখ বুজে সহ্য করেন।

একটি সূত্রে জানা যায়, সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক গুলশান এলাকার প্রতি বর্গফুট বাড়িভাড়া ১৫ থেকে ১৮ টাকা, বনানীতে ১৪ থেকে ১৬, মহাখালীতে ১১ থেকে ১২, নাখালপাড়াতে ৬ থেকে ৭, উত্তরায় ৫ থেকে ৯, শান্তিবাগে ৫ থেকে ৬ টাকা, নয়াপল্টনে ৯ টাকা, শান্তিনগরে ৮ থেকে ৯ টাকা, কল্যাণপুর-পল্লবীতে ৬ টাকা, জিগাতলায় ৮ টাকা ও ধানমন্ডিতে ১১ দশমিক ২৫ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু বাড়ির মালিকরা ভাড়া আদায় করছেন এর দ্বিগুণ থেকে তিনগুণেরও বেশি।

পুরো রাজধানীজুড়েই যেন চলছে বাড়িভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য। বাড়িওয়ালারা যখন ইচ্ছা তখন বাড়িভাড়া বাড়াচ্ছেন। আর বিদ্যুৎ, গ্যাস ও নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়িভাড়ায় নৈরাজ্য ভাড়াটিয়া জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে।

প্রতি বছর জানুয়ারি এলেই ভাড়া বৃদ্ধির খড়গ নামে ভাড়াটিয়াদের উপর। আর প্রতি বছরের ন্যায় ঢাকায় প্রায় সব বাড়িওয়ালাই ইতোমধ্যে আগামী জানুয়ারি থেকে ভাড়া বৃদ্ধির নোটিশ দিয়েছেন ভাড়াটিয়াদের। এ বৃদ্ধির পরিমাণ সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বলে জানিয়েছেন ভাড়াটিয়ারা।

জাতীয় ভাড়াটিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক হোসেন নিউজনেক্সটবিডি ডটকমকে বলেন, ‘বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়নের পর ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকা ও অবস্থানভেদে ভাড়ার হারও নির্ধারণ করে। বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সেই হার পুনর্নির্ধারণ করে বাস্তবায়নের জন্য সরকারের বিভিন্ন দফতরে দিয়েছি। আইনটি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছি। কিন্তু কেউই তা আমলে নিচ্ছে না। এ সুযোগে বাড়িওয়ালারা ইচ্ছা মত ভাড়া আদায় করে নিচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকার ৮৩ শতাংশ মানুষ ভাড়া থাকে। অথচ বেশির ভাগ বাড়িওয়ালাই ভাড়ার রশিদ দেন না। চুক্তি করেন না। কোন বাড়ির মালিক চুক্তি করলেও সব শর্ত থাকে নিজের পক্ষে। জোর করে ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ, ইচ্ছা মতো ভাড়া বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো সবার চোখের সামনে হচ্ছে। কিন্তু দেখার কেউ নাই। বাড়ি ভাড়া এখন লাভজনক বড় ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। এ অবস্থা নিরসনে সরকার পদক্ষেপ না নিলে বাড়িওয়ালা-ভাড়াটিয়ার বিরোধ বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নেবে।’

যদি ৮৩ শতাংশ মানুষ ঢাকায় ভাড়া থাকেন তাহলে বলা যায় ঢাকার ১৭ শতাংশ বাড়ি মালিকের কাছে এই ৮৩ শতাংশ ভাড়াটিয়া জিম্মি।

মিরপুর ১ এর বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এখন যে বাসায় আছি সেখানে তিন বছরে ভাড়া বেড়েছে ৫ হাজার টাকা। ১২ হাজার টাকা ভাড়ায় উঠেছি। এখন দিতে হচ্ছে ১৭ হাজার টাকা। এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে গেলে বাড়িওয়ালা বাসা ছেড়ে দিতে বলে।’

মোহাম্মদপুরের নিয়ামুল ইসলাম নামের আরেক ভাড়াটিয়া বলেন, ‘জানুয়ারি হচ্ছে ভাড়া বৃদ্ধির মাস। প্রতি বছর বাড়ি ভাড়ার সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধিও নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে টিকে থাকা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠেছে।’

সরকার ১৯৯১ সালে ‘বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন’ প্রণয়ন করে। বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন এলাকায় নিয়ন্ত্রক, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রক ও উপ-নিয়ন্ত্রক নিয়োগেরও বিধান রাখা হয়েছে আইনে। আইনটি প্রণয়নের পর ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকা ও অবস্থানভেদে ভাড়ার হারও নির্ধারণ করে। কিন্তু পরে এসব কিছুই আর বাস্তবায়ন করা হয়নি।

বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণের জন্য ২৬ বছর আগে আইন করা হলেও তার বাস্তব প্রয়োগ দেখা যায়নি কোনোদিন। বাড়িভাড়া নিয়ে বিরোধের কারণ চিহ্নিত করতে ২০১৫ সালের ১ জুলাই উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিশন গঠন করার জন্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। ছয়মাসের মধ্যে এই কমিশন গঠন করতে বলে উচ্চ আদালত। কিন্তু এ বিষয়েও সরকারের কোনো পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি।

সম্পাদনা: ফারহানা করিম


সর্বশেষ

আরও খবর

ফুট ওভার ব্রীজ ব্যবহারে অনীহা

ফুট ওভার ব্রীজ ব্যবহারে অনীহা


বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস আজ

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস আজ


সিটি সেন্টারে গাড়ি পার্কিং: অনিয়ম যেন নিয়ম

সিটি সেন্টারে গাড়ি পার্কিং: অনিয়ম যেন নিয়ম


‘বাড়ি কই’ অ্যাপে সফল আল-আমিন

‘বাড়ি কই’ অ্যাপে সফল আল-আমিন


এলইডি বিলবোর্ডে স্বাস্থ্য ঝুঁকি, রয়েছে দূর্ঘটনার আশঙ্কা

এলইডি বিলবোর্ডে স্বাস্থ্য ঝুঁকি, রয়েছে দূর্ঘটনার আশঙ্কা


ঢাকা-চট্টগ্রামসহ ৮৭ রুটে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক

ঢাকা-চট্টগ্রামসহ ৮৭ রুটে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক


সুফল মিলছে না বিআরটিএ’র ডিজিটাল নাম্বার প্লেটের, ক্ষুব্ধ যানবাহন মালিকরা

সুফল মিলছে না বিআরটিএ’র ডিজিটাল নাম্বার প্লেটের, ক্ষুব্ধ যানবাহন মালিকরা


যে গল্পের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই

যে গল্পের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই


ঐতিহ্যকে লালন করছে দোয়েল চত্ত্বরের শো-পিস মার্কেট

ঐতিহ্যকে লালন করছে দোয়েল চত্ত্বরের শো-পিস মার্কেট


মৃণাল হক: শিল্পকর্ম এবং শিল্পের ঠিকাদারী

মৃণাল হক: শিল্পকর্ম এবং শিল্পের ঠিকাদারী