Wednesday, October 5th, 2016
রাজধানীর যানজটের প্রধান তিন পয়েন্ট ফার্মগেট মহাখালী বিমানবন্দর
October 5th, 2016 at 10:48 am
রাজধানীর যানজটের প্রধান তিন পয়েন্ট ফার্মগেট মহাখালী বিমানবন্দর

ডেস্ক: যানজট নিয়ে নিত্যদিন ভোগান্তির অভিজ্ঞতা রয়েছে রাজধানীর প্রায় সব অধিবাসীর। এক দশক ধরে সরকার নানা উদ্যোগ নিলেও যানজটের এ তিক্ততা না কমে বরং বাড়ছে। রাজধানীজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এ যানজটের জন্য দায়ী মূলত তিনটি পয়েন্টে যানবাহনের অস্বাভাবিক চাপ। এগুলো হলো— ফার্মগেট, মহাখালী ও বিমানবন্দর।

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে উচ্চপ্রযুক্তির ডিভাইস ব্যবহার করে যান চলাচল শনাক্তের মাধ্যমে সম্প্রতি এমন তথ্য দিয়েছে আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল গ্রোথ সেন্টার (আইজিসি)। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের যৌথ প্রতিষ্ঠান হচ্ছে আইজিসি। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সঙ্গে যৌথভাবে একটি প্রকল্পের আওতায় এ গবেষণা পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটি। যান চলাচলের তথ্য নিতে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোর নির্দিষ্ট স্থানে বসানো হয় রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি) টাওয়ার। একটি নির্দিষ্ট দিনে ওইসব এলাকার যান চলাচলের তথ্য সংগ্রহের পর তা বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে যানবাহনের চাপ তুলনামূলক বেশি থাকে ১২টি পয়েন্টে। এগুলো হলো— গাবতলী, সায়েন্স ল্যাব, বিমানবন্দর সড়ক, কুড়িল বিশ্বরোড, গুলশান ২ নম্বর, মহাখালী, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, কাকরাইল, জিরো পয়েন্ট, বুড়িগঙ্গা সেতু ও পোস্তগোলা সেতু। এর মধ্যে যানবাহনের চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে বিমানবন্দর সড়ক, মহাখালী ও ফার্মগেট পয়েন্টে।

তথ্য সংগ্রহের নির্দিষ্ট দিনে এ তিন স্থানে ৩২ হাজারের বেশি যানবাহন চলাচল করেছে। এছাড়া কুড়িল বিশ্বরোড, গুলশান-২ ও সায়েন্স ল্যাব দিয়ে চলাচল করে ২০ হাজারের কাছাকাছি যানবাহন। গাবতলী ও কাকরাইলে ১০ হাজার এবং কারওয়ান বাজার, জিরো পয়েন্ট ও পোস্তগোলা ব্রিজে ৮-১০ হাজার যানবাহন চলাচল করে। আর বুড়িগঙ্গা সেতুতে এ সংখ্যা দেড় হাজারের বেশি।

২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি আইজিসির তথ্য সংগ্রহের সময় রাজধানীতে চলাচলকারী মোটরযানের সংখ্যা ছিল ৭ লাখ ৮০ হাজার। তবে বিআরটিএর ২০১৬ সালের আগস্টের তথ্য বলছে, এর পরের দুই বছরে ঢাকার রাস্তায় যুক্ত হয়েছে আরো ২ লাখ ৪২ হাজার নতুন মোটরযান। ফলে ওই সময় পয়েন্টগুলোয় গাড়ির যে চাপ ছিল, তা এখন আরো বেড়েছে। যুক্ত হওয়া নতুন গাড়ির কারণে বিমানবন্দর, মহাখালী ও ফার্মগেটে প্রতিদিন চলাচল করা যানবাহনের সংখ্যা ৪০ হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। একইভাবে কুড়িল বিশ্বরোড, গুলশান-২ ও সায়েন্স ল্যাবে চলাচল করা যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজারের বেশি। গাবতলী ও কাকরাইলে সাড়ে ১২ হাজার এবং কারওয়ান বাজার, জিরো পয়েন্ট ও পোস্তগোলা ব্রিজে ১০-১২ হাজার যান চলাচল করে। আর বুড়িগঙ্গা ব্রিজে এ সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে।

রাজধানীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হলো মতিঝিল থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত। অন্য রাস্তাগুলো এর সংযোগ সড়ক হিসেবে রয়েছে। মূল সড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ পরবর্তীতে অন্যান্য সড়কেও ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে মূল সড়কের সমান্তরাল একাধিক সড়ক থাকে। ফলে যানবাহনের চাপ একটি সড়কের ওপর নির্ভরশীল নয়। কিন্তু রাজধানীতে এ সড়কটির এক স্থানের যানজট পর্যায়ক্রমে অন্যান্য স্থানেও ছড়িয়ে পড়ছে।

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, অনেক দিন ধরেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থিগুলোয় যানজট লক্ষ করা যাচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে আমরা ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছি। এজন্য উন্নত মানের তিন হাজার বাস চালুর চেষ্টা করছি। এছাড়া ইউলুপ করার পরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে।

আইজিসির প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মূলত সকাল ৬টা থেকে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার জন্য অপেক্ষমাণ মানুষের যাতায়াত শুরু হয় এ সময়। সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ঢাকার রাস্তায় সবচেয়ে বেশি যানবাহন চলাচল করে। এ সময় প্রতি ঘণ্টায় চলাচল করে গড়ে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার যানবাহন। সকাল ৮টায় চলাচল করে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার যানবাহন; সকাল ৯টায় যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১০ হাজারে। এর পর যানবাহনের চাপ কিছুটা কমলেও বেলা ২টার পর আবার বাড়তে থাকে। সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর সড়কগুলোয় যানবাহন চলাচল করে প্রায় ১২ হাজার। সবচেয়ে কম যানবাহন চলে রাত ৩টায়, দেড় হাজারের মতো।

রাজধানীতে চলাচলকারী যানবাহনের মধ্যে সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি প্রাইভেট কার। এ ধরনের গাড়ি সারা দিন চললেও সবচেয়ে বেশি চলাচল করে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। ঢাকার রাস্তায় চলাচলকারী অন্যান্য যানবাহনের মধ্যে রয়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, বাস, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল ইত্যাদি।

গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ছাড়াই বড় বড় ফ্লাইওভার বানানোর কারণে শহরে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। যখন গাড়ির অতিরিক্ত চাপ থাকে, তখন ফ্লাইওভারের ওপরে ও নিচে সব দিকেই যানজট শুরু হয়। উন্নত দেশগুলো কখনই শহরের ভেতরে ফ্লাইওভার তৈরি করে না। কিন্তু আমরা করি। এখন এ সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ হচ্ছে গণপরিবহনকে গুরুত্ব দেয়া। কারণ পিক আওয়ারে যাত্রীরা যদি ভালো সেবা পায়, তাহলে সড়কের ওপর থেকে চাপ অনেকটাই কমবে।

ঢাকা ইন্টিগ্রেটেড ট্রান্সপোর্ট স্টাডির তথ্যানুযায়ী, ঢাকায় সড়কের দৈর্ঘ্য তিন হাজার কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রাইমারি সড়ক রয়েছে ২০০ কিলোমিটার। এর বাইরে সেকেন্ডারি সড়ক রয়েছে ১১০ কিলোমিটার, ফিডার (শাখা) সড়ক ১৫০ কিলোমিটার ও সংকীর্ণ রাস্তা ২ হাজার ৫৪০ কিলোমিটার। সব মিলিয়ে রাজধানীতে সড়কের পরিমাণ রাজধানীর মোট আয়তনের মাত্র ৭ শতাংশ। যদিও একটি পরিকল্পিত নগরীতে রাস্তা থাকতে হয় ২৫ শতাংশ।

বিআরটিএর তথ্যানুযায়ী, ঢাকায় রাস্তার পাশে ১০০টির বেশি স্থানে উন্মুক্ত বাজার ও তিন হাজারের বেশি শপিংমল রয়েছে। কিন্তু এসব বাজার ও শপিংমলের বেশির ভাগেরই নিজস্ব পার্কিংয়ের সুবিধা নেই। সড়কের ওপরই যানবাহন পার্ক করে রাখতে হচ্ছে।

নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোয় শপিং সেন্টার ও হোটেলের অনুমোদন দেয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে আমরা নিজেরাই যানজট তৈরির সুযোগ করে দিচ্ছি। বিশ্বের কোনো দেশেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থিগুলোয় হোটেল বা শপিংমল নির্মাণের অনুমোদন দেয়া হয় না। এসব দেখার দায়িত্ব ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ)। ডিটিসিএ যদি এসব বিষয়ে নজরদারি না বাড়ায়, তাহলে এক-দুই বছরের মধ্যে আরো ভয়াবহ যানজটের কবলে পড়বে ঢাকা।

ঢাকা স্ট্রাকচার প্ল্যানের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজধানীতে মোট ট্রিপ হয় প্রায় সাড়ে তিন কোটি। এর মধ্যে ৭ দশমিক ২২ শতাংশ ব্যক্তিগত গাড়িতে, ৩৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ বাসে, ৩৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ রিকশায় ও ১৭ দশমিক ৭২ শতাংশ হয় হেঁটে। বাকি ট্রিপের মধ্যে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ রেল ও নৌপথে এবং শূন্য দশমিক ১৪ শতাংশ অন্যান্য মাধ্যমে। কিন্তু যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম সড়কের এমন দশা জনজীবনে ফেলছে বিরূপ প্রভাব।

গ্রন্থনা: প্রণব


সর্বশেষ

আরও খবর

প্রধানমন্ত্রীপরিচয়ে তাজউদ্দীন ইন্দিরার সমর্থন আদায় করেন যেভাবে!

প্রধানমন্ত্রীপরিচয়ে তাজউদ্দীন ইন্দিরার সমর্থন আদায় করেন যেভাবে!


সামার অফ সানশাইন

সামার অফ সানশাইন


ঢাকার ১৫ মাইলের মধ্যে মিত্রবাহিনী

ঢাকার ১৫ মাইলের মধ্যে মিত্রবাহিনী


যুক্তরাষ্ট্রের হুমকীর মুখেও অটল ভারত

যুক্তরাষ্ট্রের হুমকীর মুখেও অটল ভারত


বেসামাল প্রেসিডেন্ট, গভর্নর দিশেহারা

বেসামাল প্রেসিডেন্ট, গভর্নর দিশেহারা


পালানোর চেষ্টা ব্যর্থ নিয়াজির

পালানোর চেষ্টা ব্যর্থ নিয়াজির


২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪, জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু

২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪, জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু


করোনা সংক্রমন ঠেকাতে ব্রিটিশ সরকারের নতুন আইন লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ  ১০ হাজার পাউন্ড জরমিানা

করোনা সংক্রমন ঠেকাতে ব্রিটিশ সরকারের নতুন আইন লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ১০ হাজার পাউন্ড জরমিানা


ভাইরাসের সাথে বসবাস

ভাইরাসের সাথে বসবাস


মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা

মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা