Saturday, June 11th, 2016
রাজনীতিবিদদের দেশ ভাবনা
June 11th, 2016 at 8:11 pm
রাজনীতিবিদদের দেশ ভাবনা

ফজলুর রহমান: আমরা এখনো বিশ্বাস করতে চাই, রাজনীতিবিদরা দেশ এবং দেশের জনগণ নিয়ে ভাবেন। ভাবেন বলেই তারা রাজনীতি করেন। তাদের ভাবনাগুলো সাকার করার জন্য ক্ষমতায় যেতে চান।

রাজনীতিবিদরা দেশ শাসন করবেন- এর কোনো ভালো বিকল্প এখনো উদ্ভাবন হয়নি, বিশেষ করে আমাদের মতো গরীব মানুষের দেশে। কথায় বলে না যেনতেন গণতন্ত্রও সামরিক শাসনের চেয়ে ভালো।

সাধারণ মানুষ হয়তো শুরুতে বুঝতে পারে না। তবে অবস্থা টের পেতেও বেশি সময় লাগে না। তারা যখন দেখে একে একে সব দরজা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তাদের জন্য তখন তারা আবার রাজনীতিবিদদের শাসন ফিরিয়ে আনার জন্য মাঠে নামে। সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান, এইচএম এরশাদের আমল থেকে মানুষ শিক্ষা কম পায়নি। নতুন করে আরো একবার শিক্ষা হয়েছিল ২০০৭ সালে। ‘১/১১’ নামে বাংলাদেশে এক আজব ধরণের সরকারের উদ্ভব ঘটেছিল। সামনে ছিল সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি, আর আড়ালে ছিল সামরিক বাহিনী।

সেসব দিন গেছে। এদেশের পোড় খাওয়া মানুষ এটা ভালো করে বুঝেছে, রাজনীতিবিদরা যতই মন্দ হোক তবু তার কাছে যাওয়া যায়। রাজনীতি করা একজন মানুষ উঠে আসেন তার জনগণের ভেতর থেকে এবং তিনি রাজনীতি করেন জনগণকে সঙ্গে নিয়ে। একজন রাজনীতিবিদের জন্য জনগণ যেমন শক্তির জায়গা তেমনি একজন সাধারণ মানুষ, অগণিত সাধারণ মানুষের জন্য ভরসার জায়গা হলো রাজনীতিবিদ। বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’পাঠ করলে এটা আরো স্পষ্ট হয়ে উঠে একজন রাজনীতিবিদ কীভাবে তৈরি হন তার জনগণকে নেতৃত্ব দিতে।

একজন আমির হোসেন আমু, একজন আবদুর রাজ্জাক, একজন তোফায়েল আহমেদ বা একজন আবদুল জলিলের দরজা সব সময় তার মানুষের জন্য খোলা ছিল, খোলা আছে। তারা যখন ক্ষমতায় ছিলেন বা ক্ষমতার  বাইরে ছিলেন তখন মানুষের জন্য সমান সুযোগ থেকেছে।  কেনো? কারণ এই রাজনীতিবিদরা মানুষের মাঝখান থেকে উঠে এসেছিলেন। তারা মানুষ নিয়ে ভাবতেন। ভাবতেন দেশ নিয়ে। তাই তাদের দরজা কখনোই মানুষের জন্য বন্ধ হয়ে যায় নি।

বিপরীতে অনির্বাচিত সরকার যখনই ক্ষমতা দখল করেছে তখন জনগণ উপেক্ষিত থেকেছে, অপমানিত হয়েছে।

রাজনীতিবিদরা যে দেশ এবং মানুষ নিয়ে ভাবেন তার প্রমাণ আবারও পাওয়া গেল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথায়। ১/১১-র সরকার শেখ হাসিনাকে বন্দি করেছিল। ১১ মাস বন্দিজীবন কাটিয়েছেন তিনি বিশেষ কারাগারে। সেসময় তিনি কী ভাবতেন, কী করতেন তার অনেক কিছু তিনি বলেছেন নানা সময়ে। নতুন করে আবারো বললেন তার কারামুক্তির দিনে।

 তার জবানিতে-‘জেলে বসে আমি বাংলাদেশের কোন কোন সেক্টরে উন্নয়ন করা যায়, তা আমি নোট প্যাডে লিখে রাখতাম।’

১১ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কারামুক্তি দিবস উপলক্ষ্যে   আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় স্মৃতি চারণ করেন।তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১১ মাস কারাগারে থাকার সময় আমি খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু আমাকে কোনো চিকিৎসা দেয়া হয়নি। এলার্জির কারণে আমার চোখ অন্ধ হতে বসেছিল। ফুপু একদিন দেখা করতে গেলে, তাকে বললাম আমার চোখের সমস্যার কথা। এরপর ফুপু নিজের বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে বললে জনগণের চাপে আমাকে চোখের ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়’।

একজন রাজনীতিবিদের সবচেয়ে বড় শক্তি যে জনগণ তা আবারও প্রমাণ করে দিলেন শেখ হাসিনা। জনগণের চাপেই সেনা সমর্থিত সরকার তাকে চোখের ডাক্তারের কাছে নিতে বাধ্য হয়েছিলো।

সেই সময় তাকে নানা চাপ সামাল দিতে হয়েছে, এবং সেই চাপের মুখেও অটল ছিলেন তিনি। তিনি জানান, ‘কারাগারে আমি হাল ছেড়ে দিইনি। বহু লোভ দেখানো হয় আমাকে, বাংলাদেশে যেনো কোনো নির্বাচন না হয়। আমাকে বলা হয়, আপনাকে প্রধানমন্ত্রীর সবধরনের সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে। তখন আমি তাদের বলেছিলাম, আমার বাবা বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, আমি প্রধানমন্ত্রী হয়েছি আমার কোনো সুযোগ সুবিধার দরকার নেই। আমার শুধু দরকার আবার প্রধানমন্ত্রীর পাওয়ার। যেই পাওয়ার দিয়ে দেশের জনগণের কল্যাণ করতে পারব, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।’

লেখার শুরু থেকে আমি কেনো বার বার রাজনীতিবিদদের দেশ ভাবনা, জনগণ ভাবনার কথা বলছি তারও একটি উদাহরণ পাওয়া গেলো শেখ হাসিনার বয়ানে। তিনি বলছেন, ‘কারাগারে যখন গিয়েছিলাম তখন মনে একটা আত্মবিশ্বাস ছিলো, আমি বের হলেই দেশে নির্বাচন হবে আর তাই জেলে বসেই নোট প্যাডে বাংলাদেশকে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে  যাবো তার পরিকল্পনা লিখে রাখতাম। এরপর যখন কারাগার থেকে বের হলাম নির্বাচন হলো। আওয়ামী লীগ জয়ী হল সেই পরিকল্পনা সঙ্গে আরো নতুন কিছু যোগ করে কাজ  শুরু করে ছিলাম।’

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা এখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। তিনি তার ভাবনা, তার পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করছেন একে একে। রাজনীতিবিদ, রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকলে দেশ এবং জনগণের কী লাভ হয় তা এখন স্পষ্ট। উত্তর বঙ্গে ‘মঙ্গা’ ছিল যুগ যুগ ধরে চলে আসার এক ব্যাধির নাম। সেই মঙ্গা এখন ইতিহাস কেবল। নিকট অতীতে অনাহারে মানুষ কেউ মারা গেছে এমন দাবি তুমুল বিরোধী পক্ষও তুলতে পারছে না। মানুষের মাথা পিছু আয় বেড়েছে। জীবনযাত্রার মান বেড়েছে। রোগ-শোক নিয়ন্ত্রণের ফলে মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। তবে এটাও সত্য স্বাধীনতার ৪৫ বছরে বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি। অন্য কথায় বলতে গেলে তাকে পৌঁছতে দেয়া হয়নি। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে যদি নির্মমভাবে হত্যা করা না হতো, দেশে যদি রাজনৈতিক সরকারের ধারাবাহিকতা থাকতো তাহলে বাংলাদেশ এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যেতো।

rudলেখক: সাংবাদিক

 

 


সর্বশেষ

আরও খবর

আমি বাংলার, বাংলা আমার, ওতপ্রোত মেশামেশি…

আমি বাংলার, বাংলা আমার, ওতপ্রোত মেশামেশি…


শেখ হাসিনার ৭৪ তম জন্মদিন: ‘পুতুল’ খেলার আঙিনায় বেজে উঠুক ‘জয়’র বাঁশি

শেখ হাসিনার ৭৪ তম জন্মদিন: ‘পুতুল’ খেলার আঙিনায় বেজে উঠুক ‘জয়’র বাঁশি


বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর আগেই পাকিস্তান ক্ষমা চাইবে ?

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর আগেই পাকিস্তান ক্ষমা চাইবে ?


শেখ হাসিনা কতোখানি চ্যালেঞ্জিং এখনো?

শেখ হাসিনা কতোখানি চ্যালেঞ্জিং এখনো?


প্রণব মুখোপাধ্যায় : বিশ্ব-রাজনীতির মহাপ্রাণ

প্রণব মুখোপাধ্যায় : বিশ্ব-রাজনীতির মহাপ্রাণ


দয়া করে ক্রসফায়ারের স্ক্রিপ্টটি ছিঁড়ে ফেলুন

দয়া করে ক্রসফায়ারের স্ক্রিপ্টটি ছিঁড়ে ফেলুন


দক্ষিণ এশিয়াঃ সীমান্তবিহীন এক অবিভাজিত অচলায়তন

দক্ষিণ এশিয়াঃ সীমান্তবিহীন এক অবিভাজিত অচলায়তন


লুণ্ঠন ঢাকতে বারো মাসে তেরো পার্বণ

লুণ্ঠন ঢাকতে বারো মাসে তেরো পার্বণ


লেটস্ কল অ্যা স্পেড অ্যা স্পেড!

লেটস্ কল অ্যা স্পেড অ্যা স্পেড!


পররাষ্ট্রনীতিতে, ম্যারেজ ইজ দ্য এন্ড অফ লাভ

পররাষ্ট্রনীতিতে, ম্যারেজ ইজ দ্য এন্ড অফ লাভ