Monday, January 20th, 2020
সিপিবি’র সমাবেশে বোমা হামলাঃ ১০ জনের ফাঁসি, খালাস ২
January 20th, 2020 at 11:43 am
১৯ বছর পর সেই একই তারিখে রায় দিল আদালত
সিপিবি’র সমাবেশে বোমা হামলাঃ ১০ জনের ফাঁসি, খালাস ২

বিশেষ প্রতিনিধি,

ঢাকাঃ প্রায় দুই দশক আগে ঢাকার পল্টন ময়দানে সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলার ঘটনায় দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিচার শেষে হরকাতুল জিহাদের (হুজি) ১০ জঙ্গির ফাঁসির রায় দেয়া হয়েছে।

ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক রবিউল আলম সোমবার (২০ জানুয়ারি, ২০২০ইং) এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। মামলার জীবিত ১২ আসামির মধ্যে দুইজনকে খালাস দেন তিনি।

২০০১ সালে যে দিনটিতে বোমা হামলা চালিয়ে পাঁচজনকে হত্যা করা হয়েছিল, ১৯ বছর পর সেই একই তারিখে রায় দিল আদালত।

বিচারক তার ১০৪ পৃষ্ঠার রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেন, এই জঙ্গিরা সিপিবিকে কাফের মনে করত। তাদের নস্যাত করার জন্য তারা ওই হামলা চালায়।

কোরানের ৩২ নম্বর আয়াত থেকে উদ্ধৃত করে বিচারক বলেন, “হত্যাকারীর ক্ষমা নেই।”

হরকাতুল জিহাদের শীর্ষ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানও ছিলেন এ মামলায় অভিযুক্ত আসামি। অন্য মামলায় ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় এ মামলার অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দশ আসামির মধ্যে মুফতি মঈন উদ্দিন, আরিফ হাসান সুমন, সাব্বির আহমেদ, শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ রায়ের সময় কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

আর মুফতি মঈন উদ্দিন শেখ, আরিফ হাসান সুমন, সাব্বির আহমেদ, শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মো. মশিউর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মহিবুল মুত্তাকিন, আমিনুল মুরসালিন, মুফতি আব্দুল হাই, মুফতি শফিকুর রহমান পলাতক।

রায়ে এই দশ আসামিকে সর্বোচ্চ সাজার পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া পলাতক দুই আসামি রফিকুল ইসলাম মিরাজ ও নুর ইসলামকে খালাস দিয়েছেন বিচারক।

আদালতে উপস্থিত আইনজীবী জিয়াদ আল মালুম বলেন, “মিরাজ ও নুর ইসলাম ছিলেন সিপিবির কর্মী। রায়ে বিচারকও সে কথা বলেছেন।”

এর আগে, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সমাবেশে বোমা হামলা মামলার রায় উপলক্ষে সোমবার (২০ জানুয়ারি, ২০২০ইং) মামলার চার আসামিকে আদালতে আনা হয়। রায় ঘোষণা উপলক্ষে আদালতপাড়ায় নেয়া হয় কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা।

২০০১ সালের যেদিনটিতে হামলা চালিয়ে পাঁচজনকে হত্যা করা হয়েছিল, ১৯ বছর পর আজ সেই দিনটিতেই মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত। গত ১ ডিসেম্বর মামলার যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার এদিন ধার্য করা হয়েছিল।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলার মাধ্যমে দেশে রাজনৈতিক দলের সমাবেশে বোমা দিয়ে হত্যাকাণ্ডের সূচনা করে জঙ্গিরা। ওই হামলার তাৎক্ষণিক বিচার না হওয়ায় আরও অনেক বর্বর ঘটনা ঘটেছে এবং ওই সব ঘটনার দুঃখজনক পরিণতি দেশবাসী দেখেছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ বিলম্বের পর এ মামলার রায় ঘোষণা হতে যাচ্ছে। এ রায়ের মাধ্যমে যেন অপরাধীরা সর্বোচ্চ শাস্তি পায় এবং ইন্ধনদানকারী রাজনৈতিক শক্তি চিহ্নিত হয়- এটিই আমাদের প্রত্যাশা।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি মো. আবদুল্লাহ আবু বলেন, আদালতে সাক্ষীরা না আসায় ও আসামিদের গরহাজিরের কারণে মামলাটির বিচারকাজে বিলম্ব হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত ছিল। রায়ে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ন্যায়বিচার পাবে বলে প্রত্যাশা করছি।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর সালাউদ্দিন হাওলাদার বলেন, মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষ সক্ষম হয়েছে। আশা করছি আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ বলেন, মামলায় অনেক সাক্ষীই সাজানো-বানোয়াট। কারণ ঘটনার সময় যেসব সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন- তারা কেউই এর সপক্ষে মেডিকেল সার্টিফিকেট দেখাতে পারেননি। আমরা ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।

প্রসঙ্গত, ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি ঐতিহাসিক পল্টন ময়দানে সিপিবির সমাবেশে ঘটনাস্থলেই নিহত হন দলটির নেতা হিমাংশু মণ্ডল, আবদুল মজিদ, আবুল হাশেম ও মুক্তার হোসেন। আহত হন ২০ জন। আহত হওয়ার ১৩ দিন পর চিকিৎসাধীন মারা যান ছাত্র ইউনিয়ন নেতা বিপ্রসাদ। হামলার ঘটনায় সিপিবির তৎকালীন সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান খান বাদী হয়ে রাজধানীর মতিঝিল থানায় মামলাটি করেন।

তদন্ত শেষে ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো তথ্যপ্রমাণ না পাওয়ায় এ মামলায় ফাইনাল রিপোর্ট (আসামিদের অব্যাহতি দিয়ে প্রতিবেদন) দেয় পুলিশ। এর পর ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা ও ২০০৫ সালের আগস্টে দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলা হয়।

এসব ঘটনায় জঙ্গিরা জড়িত বলে প্রমাণ পাওয়ার পর ফের এ মামলার তদন্ত শুরু হয়। সাত কর্মকর্তার হাত ঘুরে মামলার তদন্তভার পান পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক মৃণাল কান্তি।

তদন্তকালে তিনি আসামি মুফতি মাঈনুদ্দিন শেখকে গ্রেফতার করেন। মাঈনুদ্দিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে জানায়, এ ঘটনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত হরকাতুল জিহাদ (হুজি) জড়িত।

অন্যদিকে আসামি মুফতি আবদুল হান্নান ২০০৬ সালে গ্রেফতার হওয়ার পর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে জানায়, সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলার ঘটনায় তার দল হুজি জড়িত। দীর্ঘ পুনঃতদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ২৬ নভেম্বর ১৩ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুটি চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

এর পর হত্যা মামলায় ২০১৪ সালের ২১ আগস্ট ও বিস্ফোরক মামলায় ৪ সেপ্টেম্বর ওই ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জ (অভিযোগ) গঠন করেন আদালত। এরপর শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। হত্যা মামলায় ৪৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়।

এই মামলার আসামিরা হলেন- জঙ্গিনেতা মুফতি আবদুল হান্নান, মুফতি মাঈনুদ্দিন শেখ, মাওলানা সাব্বির আহমেদ, শওকত ওসমান, আরিফ হাসান সুমন, মাওলানা মশিউর রহমান, আবদুল হাই, শফিকুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম বদর, নুরুল ইসলাম, মহিবুল মুস্তাকিম, আনিসুল মুরসালিন ও রফিকুল ইসলাম।

আসামিদের মধ্যে জঙ্গিনেতা মুফতি আবদুল হান্নানের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।

এছাড়া শেষের সাত পলাতক ও বাকি পাঁচজন কারাগারে আছে। কারাগারে থাকা পাঁচ আসামির সবাই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত।

এএমএন/


সর্বশেষ

আরও খবর

সাগরপথে ইতালি পৌঁছালেন ৩৬২ বাংলাদেশি

সাগরপথে ইতালি পৌঁছালেন ৩৬২ বাংলাদেশি


করোনায় আরও ৪১ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৩৬০

করোনায় আরও ৪১ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৩৬০


দুর্নীতিবাজ যেই হোক ব্যবস্থা নেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

দুর্নীতিবাজ যেই হোক ব্যবস্থা নেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী


৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইতালিতে বাংলাদেশিদের প্রবেশ নিষেধ

৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইতালিতে বাংলাদেশিদের প্রবেশ নিষেধ


করোনায় আরও ৪৬ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩৪৮৯

করোনায় আরও ৪৬ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩৪৮৯


রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যানকে খুঁজছে র‌্যাব

রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যানকে খুঁজছে র‌্যাব


রিজেন্টের মিরপুর শাখাও সিলগালা, আটক সাতজনের ৫ দিনের রিমান্ড

রিজেন্টের মিরপুর শাখাও সিলগালা, আটক সাতজনের ৫ দিনের রিমান্ড


টেস্ট না করেই করোনার রিপোর্ট দিতো রিজেন্ট হাসপাতাল

টেস্ট না করেই করোনার রিপোর্ট দিতো রিজেন্ট হাসপাতাল


চলে গেলেন এন্ড্রু কিশোর, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক

চলে গেলেন এন্ড্রু কিশোর, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক


এবারের হজে স্পর্শ করা যাবে না কাবা শরীফ

এবারের হজে স্পর্শ করা যাবে না কাবা শরীফ