Tuesday, November 8th, 2016
যুক্তরাষ্ট্রকে ফিরিয়ে দিতে হবে নানার খুনিকে: জয়
November 8th, 2016 at 10:08 am
যুক্তরাষ্ট্রকে ফিরিয়ে দিতে হবে নানার খুনিকে: জয়

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি দণ্ডপ্রাপ্ত রাশেদ চৌধুরীকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তার দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। আমার নানার খুনিদের অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রকে ফেরত দিতে হবে শিরোনামে নিউইয়র্ক টাইমসে লেখা নিবন্ধে জয় এ আহ্বান জানান।

সোমবার প্রকাশিত নিবন্ধে জয় লেখেন, “১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সামরিক অভ্যুত্থানে বাংলাদেশের নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। সৈন্যরা রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনে হামলা চালিয়ে পরিবারের ১৮ সদস্যের সাথে নানাকেও গুলি করে হত্যা করে। তাদের মধ্যে নানি, তিন মামা ও আমার গর্ভবতী মামিও ছিলেন। আমার মা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জার্মানিতে তার বোনের সাথে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।”

তিনি আরো লেখেন, “জানামতে, রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থীর মর্যাদা পায়নি। অতএব সে প্রত্যার্পণ প্রক্রিয়া মুক্ত নয়। তাকে প্রত্যার্পণে বিলম্ব করার যুক্তি নেই। এ বিষয় নিষ্পত্তিতে বাংলাদেশের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের সাড়া দেয়া উচিত, যাতে বিচার সম্পন্ন করা যায়। রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রের লিবার্টিতে বসবাস করছে। ঢাকার আদালতে এ হত্যাকাণ্ডে ঘটনায় তার বিচার হয়। ১৯৯৬ সালের পর থেকে রাশেদ পলাতক থাকায় তাকে শাস্তি দেয়া সম্ভব হয়নি। ২০০০ সালের পর থেকে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে প্রায় দেড় দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এবার বিচারের মুখোমুখি করতে তাকে দেশে পাঠাতে হবে।”

নিবন্ধে নানার স্মৃতিচারণ করে জয় লেখেন, “নানা যখন খুন হন, আমার বয়স তখন চার বছর। তার মৃত্যুতে আমার ও পরিবারের ব্যক্তিগত ক্ষতির চেয়েও বেশি ক্ষতি হয় সমগ্র বাঙালি জাতির। তিনি বাংলাদেশের জাতির পিতা এবং প্রথম রাষ্ট্রপতি। বঙ্গবন্ধু হিসাবেই তিনি বেশি পরিচিত। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি নেতৃত্ব দেন। এটি আমার জন্মের বছর।”

তিনি আরো লেখেন, “নানাকে হত্যার পর দেশে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও সামরিক শাসন চলে। সামরিক জান্তা অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে ঘাতকদের রক্ষা করে। এ হত্যাকাণ্ডে প্রধান সুবিধাভোগীদের একজন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের বিচারে বাধাই শুধু সৃষ্টি করেননি, তাদের নিরাপত্তাও দেন। তাদেরকে সরকারে ও কূটনৈতিক মিশনে গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেন।”

সজীব ওয়াজেদ জয় লেখেন, “আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও আমার মা শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আরোহন করে প্রধানমন্ত্রী হন। এর পরপরই বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হয়। দ্রুত রায় বাস্তবায়নের জন্য জনগণের পক্ষ থেকে চাপ ছিল, কিন্তু আমার মা জানতেন, রায় বাস্তবায়ন করলেই চলবে না, সবার চোখে ন্যায্যভাবে তা প্রদর্শিত হতে হবে। রায় বাস্তবায়নে আইনের শাসন মেনে স্বচ্ছতা অনুসরণ করা হয়। সাংবিধানিক সকল সুরক্ষার সুযোগ দিয়ে হত্যাকারীদের বেসামরিক আদালতে বিচার করা হয়।”

গ্রন্থনা: মাহতাব শফি, সম্পাদনা: আবু তাহের


সর্বশেষ

আরও খবর

আসামে বন্দী রোহিঙ্গা কিশোরীকে কক্সবাজারে চায় পরিবার

আসামে বন্দী রোহিঙ্গা কিশোরীকে কক্সবাজারে চায় পরিবার


ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক


ঢাকা-দিল্লি ৫ সমঝোতা স্মারক সই

ঢাকা-দিল্লি ৫ সমঝোতা স্মারক সই


করোনায় আরও ৩৯ মৃত্যু

করোনায় আরও ৩৯ মৃত্যু


করোনায় আক্রান্ত শচীন

করোনায় আক্রান্ত শচীন


নাশকতা ঠেকাতে র‍্যাব-পুলিশের কঠোর অবস্থান

নাশকতা ঠেকাতে র‍্যাব-পুলিশের কঠোর অবস্থান


শুক্র ও শনিবার যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে

শুক্র ও শনিবার যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে


মতিঝিলে মোদিবিরোধী বিক্ষোভ, শিশুবক্তা রফিকুলসহ অন্তত ১০ জন আটক

মতিঝিলে মোদিবিরোধী বিক্ষোভ, শিশুবক্তা রফিকুলসহ অন্তত ১০ জন আটক


ঈদের পর স্কুল-কলেজ খোলার ইঙ্গিত শিক্ষামন্ত্রীর

ঈদের পর স্কুল-কলেজ খোলার ইঙ্গিত শিক্ষামন্ত্রীর


৮ মাস পর দেশে করোনায় এক দিনে সর্বোচ্চ ৩৫৫৪ শনাক্ত

৮ মাস পর দেশে করোনায় এক দিনে সর্বোচ্চ ৩৫৫৪ শনাক্ত