Thursday, August 25th, 2016
রাষ্ট্রাত্ব ৩ ব্যাংকের ঘাটতি ৫ হাজার কোটি টাকা
August 25th, 2016 at 8:38 pm

ঢাকা: জুনের শেষে প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণ করতে ব্যর্থ হয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তিন ব্যাংক। ৫ হাজার ৫০৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে সোনালী, রূপালী ও বেসিক ব্যাংকের।

খেলাপি ঋণের ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৈরি করা (এপ্রিল-জুন ‘২০১৬) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোনালী ব্যাংকের ১ হাজার ৯২ কোটি ৯০ লাখ, রূপালী ব্যাংকের ৭৭৫ কোটি ৫৬ লাখ ও বেসিক ব্যাংকের ৩ হাজার ৬৫১ কোটি ৩১ লাখ টাকা ঘাটতি রয়েছে।

ব্যাংক ব্যবস্থার খেলাপি ঋণের বিপরীতে নির্ধারিত পরিমাণের অর্থ সংরক্ষণের (প্রভিশন) বিধান রয়েছে। সে অনুসারে প্রভিশন সরক্ষণ করতে ব্যর্থ এই ব্যাংক গুলো।

জানা গেছে, ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের যে পরিমাণ ঋণ বিতরণ করে তার বেশির ভাগই আমানতকারীদের অর্থ। আমানতকারীদের অর্থ যেন কোনো প্রকার ঝুঁকির মুখে না পড়ে সে জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা আছে। এর একটি হলো প্রভিশন সংরক্ষণ। নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকের অশ্রেণিকৃত বা নিয়মিত ঋণের বিপরীতে দশমিক ২৫ থেকে পাঁচ শতাংশ হারে প্রভিশন রাখতে হয়।

নিম্নমান বা সাব স্ট্যান্ডার্ড ঋণের বিপরীতে রাখতে হয় ২০ শতাংশ, সন্দেহজনক ঋণের বিপরীতে ৫০ শতাংশ এবং মন্দ বা কুঋণের বিপরীতে ১০০ শতাংশ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়।

ব্যাংকের আয় খাত থেকে অর্থ এনে এ প্রভিশন সংরক্ষণ করা হয়। খেলাপি ঋণ বাড়লে, আর সে অনুযায়ী ব্যাংকের আয় না হলে প্রভিশন ঘাটতি দেখা দেয়। ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, প্রভিশন ঘাটতি থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খেলাপি ঋণ বাড়ার কারণেই ব্যাংকিং খাতে বাড়ছে প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৩ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা। যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ১০ দশমিক ০৬ শতাংশ।

আগের প্রান্তিক তথা মার্চ শেষে এ খাতে খেলাপিঋণ ছিল প্রায় সাড়ে ৫৯ হাজার কোটি টাকা। যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ। ফলে মার্চ থেকে জুন এই তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। গেল বছরের ডিসেম্বরে এ খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ৫১ হাজার কোটি টাকার মতো।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংকিং খাতে প্রভিশন সংরক্ষণের প্রয়োজন ছিল ৩৬ হাজার ১৭৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এর বিপরীতে সংরক্ষণ করা হয়েছে ৩১ হাজার ৭৩৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪৪৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।

গত মার্চ পর্যন্ত ব্যাংক খাতের সামগ্রিক প্রভিশন ঘাটতি ছিল ৪ হাজার ১২৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। ফলে তিন মাসের ব্যবধানে প্রভিশন ঘাটতি বেড়েছে ৩২১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।

প্রতিবেদন: দেলোয়ার মহিন, সম্পাদনা- জাহিদুল ইসলাম

 


সর্বশেষ

আরও খবর

দু-তিন দিনের মধ্যে আলুর দাম কমবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

দু-তিন দিনের মধ্যে আলুর দাম কমবে: বাণিজ্যমন্ত্রী


আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম

আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম


পেঁয়াজে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার

পেঁয়াজে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার


হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আটকেপড়া পেঁয়াজ ঢুকছে বাংলাদেশে

হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আটকেপড়া পেঁয়াজ ঢুকছে বাংলাদেশে


স্বর্ণের দাম বাড়ল ভরিতে ২ হাজার ৪৪৯ টাকা

স্বর্ণের দাম বাড়ল ভরিতে ২ হাজার ৪৪৯ টাকা


ভারত থেকে আসছে না পেঁয়াজ

ভারত থেকে আসছে না পেঁয়াজ


রোববার থেকে ৩০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি করবে টিসিবি

রোববার থেকে ৩০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি করবে টিসিবি


সৌন্দর্যসেবায় আয় কমেছে সবার: বেকার ৪০ শতাংশ উদ্যোক্তা-কর্মী

সৌন্দর্যসেবায় আয় কমেছে সবার: বেকার ৪০ শতাংশ উদ্যোক্তা-কর্মী


ইভ্যালির ব্যবসা পর্যালোচনায় ই-ক্যাবের কমিটি গঠন

ইভ্যালির ব্যবসা পর্যালোচনায় ই-ক্যাবের কমিটি গঠন


অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি সংবাদপত্র শিল্প

অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি সংবাদপত্র শিল্প