Thursday, June 30th, 2022
‘রাষ্ট্র যারা চালান তাদের স্বার্থেই পরিচালিত হচ্ছে রাষ্ট্র’
March 23rd, 2017 at 9:55 pm
‘রাষ্ট্র যারা চালান তাদের স্বার্থেই পরিচালিত হচ্ছে রাষ্ট্র’

এম কে রায়হান, ঢাকা: সময়ের বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সব কিছুরই পরিবর্তন হয়েছে। ঢাকার বেলায়ও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। ঢাকা পৃথিবীর অন্যতম একটি মেগাসিটি এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান শহর।

বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। এটি দেশের বৃহত্তম শহর। শুধু রাজধানী হিসেবে এর বয়স ৪০০ বছরের অধিক। ঢাকায় প্রায় ২ কোটি মানুষের বসবাস। এটি বিশ্বের নবম বৃহত্তম এবং সর্বাপেক্ষা জনবহুল শহরগুলির মধ্যে অন্যতম। নিউজনেক্সটবিডি ডটকম’র প্রতিনিধি এম কে রায়হান এর সঙ্গে ঢাকার অতীত ও বর্তমান নিয়ে কথা হয় নগর পরিকল্পনাবিদ খন্দকার নিয়াজ রহমান এর। বিশেষ এই সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে ঢাকার অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও মানুষের মৌলিক চাহিদার বিভিন্ন দিক। নিউজনেক্সটবিডি ডটকম’র পাঠকদের জন্য সেই আলাপচারিতা ৩টি পর্বে সাজানো হয়েছে। আজ পড়ুন প্রথম পর্ব।

এনএনবিডি: ঢাকা সম্পর্কে কিছু বলুন।

নিয়াজ রহমান: আমরা সবাই যেভাবে ঢাকার খারাপ দিকগুলোকে উপস্থাপন করি তাতে আমার মনে হয় ঢাকার প্রতি একটু অবিচার করা হচ্ছে। কারণ আমাদের মনে রাখতে হবে, ঢাকা বাংলাদেশের প্রায় দুই কোটি মানুষের কর্মসংস্থান এবং থাকার ব্যবস্থা করছে। ঢাকার সঙ্গে আমি যদি পৃথিবীর অন্য কোনো বড় শহর যেমন পুত্রজায়া, ইসলামাবাদ, চন্ডিগড়, ব্রাসিলিয়া, সিঙ্গাপুরের সঙ্গে তুলনা করি তাহলে আমাকে বলতে হবে ঢাকার মধ্যে মায়ের যে বৈশিষ্ট আছে তা পৃথিবীর অন্য অনেক শহরে নেই। অনেকের স্বপ্নের শহর হতে পারে চন্ডিগড়, ওয়াসিংটং ডিসি, পুত্রজায়া কিন্তু মনে রাখতে হবে সেখানে সব শ্রেণির মানুষ থাকতে পারছে না। আইনে মানা না থাকলেও তার অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা সেখানে সেই দেশের সকল শ্রেণির মানুষকে সেই শহরে থাকতে দিবে না। আর সেদিক থেকে যদি আপনি ঢাকার দিকে তাকান তাহলে দেখবেন যে এখানে অশিক্ষিত থেকে পিএইচডি ধারী, সবচেয়ে ধনী কিংবা পথের ফকির সবাই থাকতে পারছে এই শহরে।

এনএনবিডি: অনেকেই বলেন ঢাকা একটা অপরিকল্পিত শহর, এর ব্যাখ্যায় আপনি কি বলবেন?

নিয়াজ রহমান: আমি এই কথার সঙ্গে একেবারেই একমত না। আপনি কি কোনো বটগাছের আকার আকৃতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন? তার বেড়ে ওঠাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন? নিশ্চয়ই না। ঢাকাও সেইরকম একটা জীবন্ত স্বত্বা, যে কোনো শহরই প্রকৃত পক্ষে একটি জীবন্ত স্বত্বা। যেটা সময়ের বিবর্তনে তার কোনো অংশে ক্ষয় ধরে কোনো অংশে বৃদ্ধি পায়। সেখানে যারা আশ্রয় নিচ্ছে তাদের প্রয়োজনে বড় হচ্ছে। ঢাকা এমন একটি শহর যে দুর্গত মানুষকে আশ্রয় দেয়, স্বপ্নতাড়িত মানুষকে আশ্রয় দেয়, লড়াকু মানুষকে আশ্রয় দেয়, অসহায় মানুষকে আশ্রয় দেয় যা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। আর যারা এই শহরকে অপরকিল্পিত বলেন আমার তাদের সঙ্গে ঘোর বিরোধ আছে। কারণ ঢাকাকে আমরা চন্ডিগড়, পুত্রজায়া কিংবা সিঙ্গাপুর বানাতে চাই না। সিঙ্গাপুরে যারা গেছেন তারা জানেন, ওখানে প্রায় সবকিছু কিন্তু কৃত্তিম। এমনকি রাস্তার পাশে যে বাগান দেখবেন তার শতভাগ কিন্তু প্রাকৃতিক গাছ নয়। এটা একটা সম্প্রতি গড়ে ওঠা বাণিজ্যিক শহর যার সাংস্কৃতিক পরিচয় খুব দুর্বল। ঢাকার মতো যে শহরের রাজধানী হিসেবেই ইতিহাস ৪০০ বছরের আর সভ্যতার ইতিহাস ২ হাজার বছরের সেই শহর সিঙ্গাপুরের মতো একটা কৃত্তিম শহর হতে পারে না। তার মানে কিন্তু এই না যে আমি রাস্তায় বাকি জীবন যানজট চাই, রাস্তায় ধুলা দেখতে চাই, বন্যা দেখতে চাই, খালবিল দূষিত দেখতে চাই। ঢাকা কিন্তু আসলেই এমন ছিল না। এই সব কিছুই কিন্তু সমসাময়িক ঘটনা। এমনকি গত ২০-২৫ বছরের আগের ঢাকার সঙ্গে এখনকার ঢাকাকে মিলানো যাচ্ছে না। বিভিন্ন কারণে ঢাকা তার ঐতিহ্য হারাচ্ছে।

এনএনবিডি: কেন মিলানো যাচ্ছে না? কেন ঢাকা তার ঐতিহ্য হারাচ্ছে?

নিয়াজ রহমান: তার সৌষ্ঠব তার ঐতিহ্য হারাচ্ছে বিভিন্ন কারণে। এর প্রধান কারণ ঢাকার প্রাকৃতিক ও সামাজিক বৈশিষ্ট্যকে আমরা ঠিক মতো ব্যবহার করতে পারছি না। এই শহরের অর্ন্তগত শক্তিকে আমরা আমাদের নগর পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারছি না। উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো সাধারণ মানুষ কেন্দ্রিক না। প্রতিটি উন্নয়নে লাভবান হচ্ছেন নির্দিষ্ট ধনি শ্রেণির মানুষ, যাদের সংখ্যা চার শতাংশের কম। যত বড় বড় প্রকল্প হচ্ছে তাতে সাধারণ মানুষ তুলনামূলক ভাবে কম উপকৃত হচ্ছেন। কারণ যারা রাষ্ট্র চালান তাদের স্বার্থেই রাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছে। এমন এমন প্রকল্প হাতে নেয়া হয় যা সাধারণ মানুষের সামান্যই কাজে আসবে বরং রাষ্ট্র যারা চালায় তাদের বেশি লাভ হবে। উদাহরণ স্বরূপ বলতে পারি ফ্লাইওভার এর কথা, মেট্রোরেল এর কথা। সড়ক পথে উন্নয়নের নামে রেলপথ ও পানি পথকে ধ্বংস করার কথা। শুধু ঢাকা শহরে প্রায় ১২০ কিলোমিটারের বেশি খাল ছিলো, যার মধ্যে ৩৫ কিলোমিটার বন্ধ হয়ে গেছে। এই জলপথ ধ্বংস করে ভিন দেশী প্রযুক্তি ও ঋণের অর্থে মোটরযান উপযোগী সড়ক ব্যবস্থা জনস্বার্থে তৈরি করা হয়েছে বলে বিশ্বাসযোগ্য নয়।

এনএনবিডি: ঢাকাকে এক বাক্যে কি বলবেন?

 নিয়াজ রহমান: ‘সিটি অফ কন্ট্রাডিকসন’। এই শহরটির একটি অস্বাভাবিক গুণ আছে। এই শহরটি যেকোনো পরিবর্তন খুব তাড়াতাড়ি মানিয়ে নিতে পারে। কোনো ভাবে যদি আপনি এই শহরের বর্তমান সমস্যা যেমন বায়ু, পানি, শব্দ দূষণ, যানজট নিরসনের জন্য সঠিক পদক্ষেপ নেয়া হয় তাহলে দেখবেন আগামী ৫ বছরের মধ্যে এটি পৃথিবীর সেরা শহরগুলোর একটি হবে। তখন আপনি কাউকে বিশ্বাস করাতে পারবেন না যে ঢাকা আগে পৃথিবীর অন্যতম দূষিত একটি শহর ছিল।

এনএনবিডি: তাহলে বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ কি?

নিয়াজ রহমান: আমাদের আগে প্রধান সমস্যাগুলো খুঁজে বের করতে হবে। তারপর সেই অনুযায়ী কাজ করতে হবে। আপনাকে মনে রাখতে হবে রাজউক হলো আমলাতান্ত্রিক একটি সংগঠন আর সিটি কর্পোরেশন হল জনপ্রতিনিধিত্বকারী একটি সংগঠন। শহরের মাস্টার প্ল্যান করার দায়িত্ব রাজউকেরও আছে সিটি কর্পোরেশনেরও আছে। কিন্তু জনপ্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনকে না দিয়ে একটি আমলাতান্ত্রিক সংগঠনকে এই দায়িত্ব দেয়ার কারণেই দুর্নীতি এবং উচ্চবিত্ত স্বার্থে কাজগুলো হচ্ছে। অথছ এই কাজগুলো যদি সিটি কর্পোরেশনের কাছে থাকতো তাহলে এর ন্যূনতম একটা জবাবদিহিতা থাকতো। সিটি কর্পোরেশনকে দিয়ে কাজ না করিয়ে আমলাতান্ত্রিক একটা সংগঠনকে দিয়ে কাজ করানোর জন্যই আজকে ঢাকার এ অবস্থা হয়েছে। ঢাকাকে বাঁচাতে হলে রাজউকের পরিবর্তে মেয়র এর হাতে এই শহরের দায়িত্ব দিতে হবে, যাকে আমরা নির্বাচিত করেছি আমাদের কাজ করার জন্য। চলবে

সম্পাদনা: জাহিদ


সর্বশেষ

আরও খবর

সংসদে ৬,৭৮,০৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব

সংসদে ৬,৭৮,০৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব


আ’লীগ নেতা বিএম ডিপোর একক মালিক নন

আ’লীগ নেতা বিএম ডিপোর একক মালিক নন


চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় বাংলাদেশ

চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় বাংলাদেশ


ভোজ্যতেল ও খাদ্য নিয়ে যা ভাবছে সরকার

ভোজ্যতেল ও খাদ্য নিয়ে যা ভাবছে সরকার


তৎপর মন্ত্রীগণ, সীতাকুণ্ডে থামেনি দহন

তৎপর মন্ত্রীগণ, সীতাকুণ্ডে থামেনি দহন


অত আগুন, এত মৃত্যু, দায় কার?

অত আগুন, এত মৃত্যু, দায় কার?


যে গল্প এক অদম্য যোদ্ধার

যে গল্প এক অদম্য যোদ্ধার


আফগান ও ভারতীয় অনুপ্রবেশ: মে মাসে আটক ১০

আফগান ও ভারতীয় অনুপ্রবেশ: মে মাসে আটক ১০


সীমান্ত কাঁটাতারে বিদ্যুৎ: আলোচনায় বিজিবি-বিজিপি

সীমান্ত কাঁটাতারে বিদ্যুৎ: আলোচনায় বিজিবি-বিজিপি


চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর সরকার

চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর সরকার