Thursday, February 8th, 2018
রোহিঙ্গাদের জীবন দুর্বিষহ করে রেখেছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ
February 8th, 2018 at 10:36 pm
রোহিঙ্গাদের জীবন দুর্বিষহ করে রেখেছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ

ডেস্ক: লুন্ঠন, অপহরণ এবং ইচ্ছাকৃতভাবে অনাহারে রাখার মাধ্যমে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নারী-পুরুষ এবং শিশুদের জীবন দুর্বিষহ করে রেখেছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই অভিযোগ করেছে।

গত বুধবার অ্যামনেস্টির প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যেন মিয়ানমার ত্যাগ করতে বাধ্য হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপই গ্রহণ করছে দেশটির সরকার।

মানবাধিকার এই সংস্থাটির দাবি, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে এখনো জাতিগত নির্মূলকরণ প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার সময় চেকপয়েন্টে রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে বিভিন্ন দ্রব্যাদি লুন্ঠন করছে। এছাড়া রোহিঙ্গা গ্রাম থেকে নারী এবং কিশোরীদের অপহরণ করা হচ্ছে। এসবের মাধ্যমে সংখ্যালঘু এই জনগোষ্ঠীকে ভীতির মধ্যে রাখার চেষ্টা করছে তারা।

তবে এখনো বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আগমনের কারণ হিসেবে খাদ্য স্বল্পতাকে দায়ী করছেন আগতরা। রাখাইন রাজ্যের বুথিডংয়ের ৩০ বছর বয়সি দিলদার বেগম অ্যামনেস্টিকে বলেন, ‘আমরা খাবার সংগ্রহ করতে পারছি না, তাই আমরা পালিয়ে চলে আসছি।’

অ্যামনেস্টি জানায়, মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর কারণেই রাখাইনের মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। কেন না নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা রোহিঙ্গাদের নিজেদের শষ্যক্ষেতে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না, বাজারে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে। এছাড়া ওই অঞ্চলে দাতব্য সংস্থাগুলিকেও খাদ্য সহায়তা দিতে বাধা দেয়া হচ্ছে।

সংস্থাটির অভিযোগ, রাখাইনের গ্রামগুলিতে এখনো যেসব রোহিঙ্গা অবশিষ্ট আছে, তারা যেন অনাহারে থাকে সেই চেষ্টা করে যাচ্ছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ।

গত ডিসেম্বর এবং জানুয়ারিতে যেসব রোহিঙ্গা শরণার্থী রাখাইন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি ১১ জন রোহিঙ্গা পুরুষ এবং ৮ জন নারীর সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলে।

অ্যামনেস্টি জানায়, এতদিন মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ এবং শিশুদের নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ ও রোহিঙ্গা গ্রামগুলিকে জ্বালিয়ে দিয়ে ভীতি সঞ্চার করেছিল। এখন তারা ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে। রোহিঙ্গাদের দেশ ত্যাগে বাধ্য করার জন্য তাদের অনাহারে রাখার পথ অবলম্বন করা হচ্ছে।

গত বছরের আগস্টের শেষদিকে সন্ত্রাস দমনের নামে রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযান চালানো হয়। সেসময় মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী এবং স্থানীয় উগ্র বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের উপর নির্মম অত্যাচার, নির্যাতন চালায়। তাদের নৃশংসতার কবল থেকে বাঁচার জন্য রোহিঙ্গারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এই পর্যন্ত সাড়ে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ।   সূত্র: আল জাজিরা

গ্রন্থনা: ফারহানা করিম


সর্বশেষ

আরও খবর

সাম্প্রদায়িক নৈরাজ্যে আক্রান্ত ২৩ জেলা

সাম্প্রদায়িক নৈরাজ্যে আক্রান্ত ২৩ জেলা


ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছে ইভ্যালি কর্তৃপক্ষ

ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছে ইভ্যালি কর্তৃপক্ষ


ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ জনের মৃত্যু

ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ জনের মৃত্যু


পেঁয়াজের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড

পেঁয়াজের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড


মিরপুরে খালে পড়ে নিখোঁজ ব্যক্তিকে ৬ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার

মিরপুরে খালে পড়ে নিখোঁজ ব্যক্তিকে ৬ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার


কুমিল্লার ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

কুমিল্লার ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী


ফেসবুকে কিডনি বেচাকেনা, চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

ফেসবুকে কিডনি বেচাকেনা, চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার


সেই ভুয়া অতিরিক্ত সচিবের বিরুদ্ধে মামলা করবেন মুসা বিন শমসের

সেই ভুয়া অতিরিক্ত সচিবের বিরুদ্ধে মামলা করবেন মুসা বিন শমসের


হাসপাতালে ভর্তি হলেন খালেদা জিয়া

হাসপাতালে ভর্তি হলেন খালেদা জিয়া


শান্তিতে নোবেল পেলেন দুই সাংবাদিক

শান্তিতে নোবেল পেলেন দুই সাংবাদিক