Wednesday, January 4th, 2017
রোহিঙ্গা গণহত্যার কোনো প্রমাণ পায়নি তদন্ত কমিশন
January 4th, 2017 at 7:55 pm
রোহিঙ্গা গণহত্যার কোনো প্রমাণ পায়নি তদন্ত কমিশন

ইয়াঙ্গুন: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে বাস করা সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী পরিচালিত গণহত্যার যে অভিযোগ উঠেছে তার সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিশন। মঙ্গলবার(৩ জানুয়ারি) এই কমিশন তাদের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করে।

গত বছরের ৯ অক্টোবর সন্ত্রাসী হামলায় মিয়ানমারের ৯ জন সীমান্ত পুলিশ নিহত হয়। এই ঘটনার জন্য রোহিঙ্গা জঙ্গিদের দায়ী করে রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনী এক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। সেসময় তারা নারী, পুরুষ, শিশু নির্বিশেষে সবাইকে হত্যা করে এবং গ্রামের পর গ্রাম রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়। এছাড়া সংখ্যালঘু মুসলিম এই জনগোষ্ঠীর হাজার হাজার মানুষকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়। ফলে মানবাধিকার কর্মী থেকে শুরু করে জাতিসংঘের কক্সবাজার কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা পর্যন্ত অভিযোগ করেছেন, মিয়ানমার সরকার গণহত্যার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূল করার চেষ্টা করছে।

এধরনের পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের রক্ষায় কিছু না করার অভিযোগে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী দেশটির নেত্রী অং সান সুচি। যদিও মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।

অবশেষে আন্তর্জাতিক চাপে পড়ে মিয়ানমার সরকার এই বিষয়ে তদন্ত করার জন্য একটি কমিশন গঠন করে। এই কমিশনের নেতৃত্ব দেন সাবেক জেনারেল মিন্ট সোয়ে। কমিশন যদিও মঙ্গলবার অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কিন্তু চূড়ান্ত প্রতিবেদন জানুয়ারি মাস শেষ হওয়ার আগে পাওয়া যাবে বলে জানা গেছে।

এদিকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনে কমিশন জানায়, রোহিঙ্গা নারীদের ব্যাপকহারে ধর্ষণের যে অভিযোগ উঠেছিল সে বিষয়েও পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অবশ্য নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক মানুষ হত্যার বিষয়ে প্রতিবেদনে কিছু বলা হয়নি।

রাখাইন রাজ্যে এখনো রোহিঙ্গা মুসলমানরা বাস করছেন এবং তাদের ধর্মীয় উপাসনালয় ধ্বংস করা হয়নি বিধায় এই অঞ্চলে গণহত্যার কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে উল্লেখ করা হয় অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনে। এছাড়া নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক নারী ধর্ষণের বিষয়েও পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে রোহিঙ্গাদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, তাদের নির্বিচারে গ্রেফতার এবং নির্যাতনের বিষয়ে এখনো তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে কমিশন।

বিবিসির মিয়ানমার সংবাদদাতা জোনাহ ফিশার জানান, মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুতর যে অভিযোগ রয়েছে তা হলো, তারা রোহিঙ্গা জঙ্গির হামলার জবাবে সমষ্টিগত শাস্তি হিসেবে নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করছে। কিন্তু বিস্ময়করভাবে তদন্ত কমিশন এই বিষয়টি এড়িয়ে গেছে।

রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আসলে কি ঘটছে তা খতিয়ে দেখা সাংবাদিকদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ মিয়ানমার সরকার এই অঞ্চলে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সূত্র: বিবিসি

গ্রন্থনা: ফারহানা করিম, সম্পাদনা: জাহিদ

 


সর্বশেষ

আরও খবর

সিনেটে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি ডলারের করোনা সহায়তা বিল পাস

সিনেটে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি ডলারের করোনা সহায়তা বিল পাস


বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা


ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ৫০ বছর

ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ৫০ বছর


কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর

কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর


একদিনেই সড়কে ঝড়ল ১৯ প্রাণ

একদিনেই সড়কে ঝড়ল ১৯ প্রাণ


শাহবাগে মশাল মিছিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, আটক ৩

শাহবাগে মশাল মিছিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, আটক ৩


গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা

গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা


করোনায় ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩২৭

করোনায় ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩২৭


নামাজ পড়ানোর সময় সিজদারত অবস্থায় ইমামের মৃত্যু

নামাজ পড়ানোর সময় সিজদারত অবস্থায় ইমামের মৃত্যু


ভাষার বৈচিত্র্য ধরে রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ভাষার বৈচিত্র্য ধরে রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর