Wednesday, December 13th, 2017
লাল-সবুজের ফেরিওয়ালাদের গল্প
December 13th, 2017 at 4:47 pm
লাল-সবুজের ফেরিওয়ালাদের গল্প

এম কে রায়হান, ঢাকা: চলছে বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। আর কদিন পরেই দেশবাসী পালন করবে ৪৭তম মহান বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালে মহানস্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বাঙালি জাতি। আর দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর ছিনিয়ে আনে লাল-সবুজের পতাকা। তাই বিজয়ের দিনে জাতীয় পতাকা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ওইদিন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ দোকানপাট সর্বত্র পৎ পৎ করে উড়বে লাল সুবজের জাতীয় পতাকা।

আর তাই এ মাসে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আগমন ঘটে ভ্রাম্যমাণ মৌসুমি পতাকা বিক্রেতার। ক‌য়েক ফুট লম্বা বাঁশের ওপর থে‌কে নিচ পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে বড় থেকে ছোট আকারের পতাকা বেঁধে প‌থে প‌থে ঘু‌রে পতাকা বি‌ক্রি করে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। শুধু পতাকা নয়, মাথায় ও হা‌তে বাঁধতে লাল-সবু‌জের ব্যাচ, বাচ্চা‌দের জন্য প্লাস্টিকের হাতলসহ পতাকাও বি‌ক্রি করেন তারা।

তেমনি একজন স্বপন মিয়াঁ। বছরের অন্যান্য সময় বিভিন্ন কাজ করলেও বিজয়ের মাসে ফেরি করে জাতীয় পতাকা বিক্রি করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘অন্য কাজ করলে রোজ হিসেবে পাই ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। আর এখন ভাগ্য ভালো থাকলে এই ১ সপ্তাহ পতাকা বিক্রি করলে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা আয় হতে পারে।’

পতাকার দাম সম্পর্কে তিনি বলেন, আকার ভে‌দে একেকটি পতাকা ২০ টাকা থে‌কে ৫০০ টাকা আর ব্যাচ বি‌ক্রি হয় ১০ টাকা ক‌রে।

রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত জায়গা ফার্মগেটে কথা হয় রবিউল ইসলামের সাথে। গত চার বছর ধ‌রে তিনি ডিসেম্বর মাসে পথে পথে পতাকা ফেরি করে বিক্রি করছেন। তিনি নিউজনেক্সটবিডিকে বলেন, ‘বছরের অন্যান্য দিন আমি রঙ্গের কাজ করি। আর ডিসেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থে‌কেই বি‌ভিন্ন স্থা‌নে ঘু‌রে ঘু‌রে পতাকা বিক্রি করি। শ্যামপুর থে‌কে পতাকা ও ব্যাচ কি‌নে আনি। পতাকা বেশি বিক্রি হয় ১৫ আর ১৬ তারিখে।’

তিনি জানান, সব পতাকা বিক্রি না হলেও সমস্যা নাই। কারন যেখান থেকে পতাকা কিনে আনি সেখানে আবার অবিক্রিত পতাকা ফেরত দেয়া যায়।

মোহাম্মদপুরে কথা হয় মোহাম্মদ ইলিয়াসের সাথে। বয়স প্রায় ৬০ বছর। পেশায় ফেরিওয়ালা হলেও বিজয়ের মাসে তার পরিচয় ভিন্ন, বিজয়ের মাসে তিনি লাল-সবুজের ফেরিওয়ালা। সারা বছর তিনি নানা রকম পণ্য ফেরি করে বিক্রি করলেও ডিসেম্বর ও মার্চ মাসে তিনি ফেরি করে বিক্রি করেন পতাকা। এই কাজে তিনি নাকি অন্যরকম এক তৃপ্তি পান।

দৈনিক কয়টা পতাকা বিক্রি করেন সে তথ্য তিনি না জানাতে পারলেও দৈনিক ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকার পতাকা বিক্রি করেন। দাম নির্দিষ্ট না করে যার কাছ থেকে যেমন টাকা নেয়া যায় সে হিসেবে তিনি পতাকা বিক্রি করে থাকেন। তিনি আরো জানান, বিদেশি নাগরিকরা বেশি টাকা দিয়ে পতাকা কেনেন। আর এই মৌসুমি ব্যবসায় ভালোই লাভ।

বনানীতে পতাকা বিক্রি করা ১৬ বছর বয়সী রাজন জানালেন, আগে তিনি হোটেলে কাজ করতেন। ডিসেম্বরে বেশি লাভের আশায় এ ব্যবসায় নেমেছেন। স্বপন পতাকা বিক্রি করেন উত্তরা ও বনানীতে। কারণ হিসাবে জানালেন, এসব এলাকায় পতাকার দাম বেশি পাওয়া যায়। এছাড়া এ এলাকায় বেশি বিদেশি নাগরিক থাকে, যাদের কাছ থেকে ইচ্ছেমত দাম নেয়া যায়।

সম্পাদনা: জাই


সর্বশেষ

আরও খবর

ফুট ওভার ব্রীজ ব্যবহারে অনীহা

ফুট ওভার ব্রীজ ব্যবহারে অনীহা


বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস আজ

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস আজ


সিটি সেন্টারে গাড়ি পার্কিং: অনিয়ম যেন নিয়ম

সিটি সেন্টারে গাড়ি পার্কিং: অনিয়ম যেন নিয়ম


‘বাড়ি কই’ অ্যাপে সফল আল-আমিন

‘বাড়ি কই’ অ্যাপে সফল আল-আমিন


এলইডি বিলবোর্ডে স্বাস্থ্য ঝুঁকি, রয়েছে দূর্ঘটনার আশঙ্কা

এলইডি বিলবোর্ডে স্বাস্থ্য ঝুঁকি, রয়েছে দূর্ঘটনার আশঙ্কা


ঢাকা-চট্টগ্রামসহ ৮৭ রুটে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক

ঢাকা-চট্টগ্রামসহ ৮৭ রুটে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক


সুফল মিলছে না বিআরটিএ’র ডিজিটাল নাম্বার প্লেটের, ক্ষুব্ধ যানবাহন মালিকরা

সুফল মিলছে না বিআরটিএ’র ডিজিটাল নাম্বার প্লেটের, ক্ষুব্ধ যানবাহন মালিকরা


যে গল্পের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই

যে গল্পের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই


ঐতিহ্যকে লালন করছে দোয়েল চত্ত্বরের শো-পিস মার্কেট

ঐতিহ্যকে লালন করছে দোয়েল চত্ত্বরের শো-পিস মার্কেট


মৃণাল হক: শিল্পকর্ম এবং শিল্পের ঠিকাদারী

মৃণাল হক: শিল্পকর্ম এবং শিল্পের ঠিকাদারী