Saturday, August 20th, 2016
লাশঘরে বেওয়ারিশ অবস্থায় ছিলেন মাহবুবা
August 20th, 2016 at 10:10 pm
লাশঘরে বেওয়ারিশ অবস্থায় ছিলেন মাহবুবা

প্রীতম সাহা সুদীপ, ঢাকা: মৃত ভেবে লাশের সঙ্গে রেখে দিয়েছিলো তাকে। লাশঘরে বেওয়ারিশ অবস্থায় পড়ে ছিলেন অনেক ক্ষণ। আজও ভুলতে পারেনি সেই কথা।

এক যুগ পরও দুঃসহ যন্ত্রণাময় জীবনের অবসান ঘটেনি ২১ আগস্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় আহত ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মাহবুবা পারভীনের। শরীরের স্প্লিন্টারগুলোর পাশাপাশি সেদিনের ভয়াবহতার স্মৃতিগুলো সঙ্গে নিয়েই জীবন কাটছে তার।

সাভারের ব্যাংক কলোনী এলাকার বাসিন্দা মাহবুবা বলেন, ‘সেদিন গ্রেনেড হামলায় জ্ঞান হারানোর পর আমাকে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাশঘরে ফেলে রাখেন। লাশঘরে বেওয়ারিশ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফখরুল আলম সমর ও সাংবাদিক কামরুজ্জামান খান আমাকে শনাক্ত করে প্রথমে নিয়ে যান ধানমণ্ডির নিবেদিতা নার্সিং হোমে।’

mahbuba 2

তিনি বলেন, ‘ওই রাতেই আমাকে নিয়ে আসা হয় মহাখালীর মেট্রোপলিটন হাসপাতাল এবং পরদিন সকালে নেয়া হয় পিজি হাসপাতালে। পরে আহত অবস্থায় আমাকে শেখ হাসিনার নির্দেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় কলকাতার পিয়ারলেস হাসপাতালে। ঘটনার ২৫ দিন পর পিয়ারলেস হাসপাতালেই আমার জ্ঞান ফেরে।

২০০৪ সালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ট্রাকের ওপর তৈরি মঞ্চের সামনে আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভির রহমানের পাশে দাঁড়িয়ে প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য শুনছিলেন মাহবুবা পারভীন। দিনটির ভয়াল অভিজ্ঞতার কথা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে নিউজনেক্সটবিডি ডটকম’র কাছে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি।

মাহবুবা জানান, সেদিন আইভী রহমানের ঠিক পাশেই দাড়িয়ে ছিলেন তিনি। স্থানীয় এক নেত্রী তাকে ডাক দিলে আইভি রহমানের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে তিনি সেখানে যান। ঠিক সে সময়ই হঠাৎ বিকট শব্দে গ্রেনেড বিস্ফোরণ, তারপর আর কিছুই তার মনে নেই।

mahbuba parvin 1

বর্তমান শারিরীক অবস্থা জানতে চাইলে নিউজনেক্সটবিডি ডটকম’কে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১২ বছর চিকিৎসা গ্রহণের পরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারিনি। শরীরে ১৮০০ স্প্লিন্টার ছিল যার মধ্যে তিনটা বের করা গেছে। প্রতি রাতেই স্প্লিন্টারের যন্ত্রণায় চিৎকার করে উঠি। বেশি যন্ত্রণা হয় মাথায়। কেননা এখনো মাথায় দুটি স্পিন্টার রয়ে গেছে। সামনের কয়েকটি দাঁতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চোখের সমস্যা দেখা দিয়েছে, একটা কানে কিছু শুনতে পাই না।’

মাহবুবা বলেন, ‘২০১৪ সালে দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে বিশেষ চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে পাঠিয়েছিলেন। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে এককালীন ১২ লাখ টাকা অর্থসহায়তা পেয়েছি। আর জাতির জনক মেমোরিয়াল কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে প্রতি মাসে চিকিৎসা খরচ বাবদ ১০ হাজার টাকা পাচ্ছি। চিকিৎসা করিয়েই যাচ্ছি তবু পুরোপুরি সুস্থ হতে পারছি না।’

সম্পাদনা: সজিব ঘোষ


সর্বশেষ

আরও খবর

গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে ২ মামলা

গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে ২ মামলা


করোনায় সারাদেশে আরও ২৪ জনের মৃত্যু

করোনায় সারাদেশে আরও ২৪ জনের মৃত্যু


দাখিল পরীক্ষা শুরু ১৪ নভেম্বর

দাখিল পরীক্ষা শুরু ১৪ নভেম্বর


এ বছরই দেশে ফাইভ জি চালু হবে: জয়

এ বছরই দেশে ফাইভ জি চালু হবে: জয়


বিমানবন্দরে শুরু হলো করোনার পরীক্ষামূলক পরীক্ষা

বিমানবন্দরে শুরু হলো করোনার পরীক্ষামূলক পরীক্ষা


ই-কমার্স বন্ধ না করে প্রতারণা ঠেকাতে আইন করার মতামত ৪ মন্ত্রীর

ই-কমার্স বন্ধ না করে প্রতারণা ঠেকাতে আইন করার মতামত ৪ মন্ত্রীর


করোনায় আরও ২৬ জনের মৃত্যু, চার মসে সর্বনিম্ন

করোনায় আরও ২৬ জনের মৃত্যু, চার মসে সর্বনিম্ন


ভারতে দুই হাজার টন ইলিশ রফতানির অনুমতি

ভারতে দুই হাজার টন ইলিশ রফতানির অনুমতি


করোনায় আরও ৪৩ জনের মৃত্যু

করোনায় আরও ৪৩ জনের মৃত্যু


রবিবার থেকে প্রতিদিন ৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে সিএনজি স্টেশন

রবিবার থেকে প্রতিদিন ৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে সিএনজি স্টেশন