Saturday, April 24th, 2021
শিক্ষা ক্যাডারের সংলাপ: পিছিয়ে রাখা চলবে না
April 24th, 2021 at 10:36 pm
শিক্ষা ক্যাডারের সংলাপ: পিছিয়ে রাখা চলবে না

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্যাডার হচ্ছে শিক্ষা। প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার মেধাবী কর্মকর্তার সম্মিলন এই ক্যাডারে। শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দিতে হলে আবশ্যিকভাবে সবার মাস্টার্স ডিগ্রি থাকতে হবে। প্রফেশনাল ক্যাডার ব্যতীত অন্যান্য সাধারণ ক্যাডারে পাস কোর্সে ডিগ্রী পাস করেও বিসিএস দিয়ে যোগ্যতা বলে ক্যাডার কর্মকর্তা হওয়া যায়। কিন্তু সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে মাস্টার্স পাশ হওয়া বাধ্যতামূলক। এত যোগ্যতা সম্পন্ন একটি ক্যাডারকে নানা ষড়যন্ত্র করে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। এই ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে নবীন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের জন্য একটি নিরাপদ এবং সম্মানজনক ক্যাডার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করতে হবে।

গত বুধবার বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির আয়োজনে ধারাবাহিক অনলাইন সংলাপ-১ এ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সদস্য সচিব প্রফেসর মো. শাহেদুল খবির চৌধুরী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জনাব সৈয়দ মইনুল হাসান, উপ-পরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। অনলাইন ধারাবাহিক সংলাপে সারা বাংলাদেশ থেকে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের বিভিন্ন ব্যাচের প্রতিনিধিবৃন্দ, সমিতির আহবায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং শিক্ষা ক্যাডারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সঞ্চালক সৈয়দ মইনুল হাসান বলেন, শিক্ষা ক্যাডারের কিছু সমস্যা নতুনভাবে আরোপিত হয়েছে। সংকট থেকে উত্তরণের উপায় বের করার জন্যই আমাদের এই ধারাবাহিক অনলাইন সংলাপ পর্ব।

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সদস্য সচিব প্রফেসর মো. শাহেদুল খবির চৌধুরী একই সাথে শিক্ষা ক্যাডারের সকল সমস্যা সমাধানে সবসময় সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার শপথ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে তরুণদেরকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সামনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। শিক্ষা ক্যাডারের বর্তমান সমস্যার নেপথ্যে বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে চিহ্নিত করেন।

বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের পদোন্নতি না দেওয়াকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কিছু ব্যক্তির ষড়যন্ত্রের অংশ বলে তিনি মনে করেন। এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন যে, ‘সকল ক্যাডারের রিক্রুটমেন্ট রুলস একই হওয়া সত্ত্বেও ১৯৮২ সালের পর হতে অন্যান্য ক্যাডার বিকাশ লাভ করলেও শিক্ষা ক্যাডার বিকাশ লাভ করতে পারেনি। কেননা একটি অংশ সব সময় দেশকে শিক্ষা খাতকে পিছিয়ে রাখতে চেয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বিভাজিত করাও এই চক্রান্তের একটি অংশ। একই চক্রান্তের অংশ হিসেবে ২০০৪ সালে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে অন্য ক্যাডার কর্মকর্তার পদায়ন।’

তিনি বলেন, ‘আলোচনার একটি মূল উদ্দেশ্য বর্তমান সরকারকে সহায়তা করা এবং শিক্ষা ক্যাডারের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে সরকারকে অবহিত করা।’

এই সংগঠনকে (বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি) শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের জন্য একটি পরিবর্তিত সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা জনাব হারুনুর রশিদ দাবি হিসেবে অন্যান্য ক্যাডারের ন্যায় যোগদানের পরপরই বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং আইসিটি ক্যাডারের জন্য নতুন পদ সৃজনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

৩৭ তম বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের প্রতিনিধি জ্যাক পারভেজ রোজারিও, ৩৬ তম ব্যাচের প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান হাবিব, ৩৫ তম ব্যাচের প্রতিনিধি মোঃ নাসির উদ্দিন মিয়া, ৩৪ তম ব্যাচের সফিউল্লাহ সরকার দিদার, তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী, ৩৩ তম ব্যাচের শাহিনুর রহমান, ৩০তম ব্যাচের প্রতিনিধি মোঃ তরিকুল ইসলাম, জনাব কাওসার আহমেদ, ২৯ তম ব্যাচের কায়েস হোসেন, ২৮ তম ব্যাচের সিদ্দিকুর রহমান, ২৭ তম ব্যাচের দাউদ হোসেন রাজা, ২৫ তম ব্যাচের প্রতিনিধি আব্দুল কাদের, ২৪ তম ব্যাচের সৈয়দ মুস্তাফিজুর রহমান লিখন, জনাব এস এম সাইফুল ইসলাম, ২২ তম ব্যাচের মোঃ আশরাফ উদ্দৌলা, ১৮ ব্যাচের এস এম এমদাদুল কবির, মোঃ মনির হোসেন, মোঃ কামাল উদ্দিন, ১৭ তম ব্যাচ থেকে মোঃ আক্তারুজ্জামান ভূঁইয়া, ১৬ তম ব্যাচ প্রফেসর ড. শাহ মো. আমির আলী, ড. লোকমান ভূঁইয়া, মোঃ হোসাইন প্রমুখ অনলাইন সংলাপে অংশগ্রহণ করেন এবং শিক্ষা ক্যাডারের বিভিন্ন সমস্যা এবং এগুলোর সমাধানের উপায় নিয়েও আলোকপাত করেন। আলোচক ব্যতীত আরো প্রায় অর্ধ শতাধিক কর্মকর্তা উক্ত আলোচনা উপস্থিত ছিলেন

সমিতির সাবেক দপ্তর সম্পাদক এবং বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সৈয়দ মইনুল হাসান বলেন, আমরা প্রমোশন এবং ক্যাডারের ন্যায্য পাওনা আদায়ে মন্ত্রণালয়ের মুখাপেক্ষী হয়ে আর থাকবো না। আমাদের নিজস্ব সক্ষমতা নিয়ে আমরা সামনে মুভ করবো। প্রয়োজনে সকল ব্যাচকে নিয়ে আমরা অবস্থান কর্মসূচি হাতে নিতে পারি। এছাড়াও নতুন তিনটি ব্যাচকে ভোটার করার প্রক্রিয়াও শীঘ্রই শুরু করা হবে বলে তিনি জানান। ঈদের পরে সবার সাথে আলোচনা করে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরুর কথাও তিনি বলেন। সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি এবং বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাসুদা বেগম অধ্যাপক পদ সৃষ্টি করে পদোন্নতি সমস্যার সমাধান এবং শিক্ষাবিদ ইনস্টিটিউট স্থাপন বিষয়ে আলোকপাত করেন।

প্রধান অতিথি বলেন একটি জাতি গঠনের মৌলিক উপাদান এবং শক্তি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শিক্ষাকে সকল কিছুর উপরে রাখতে চেয়েছেন এবং এ খাতের সঠিক বিকাশ না হলে একটি জাতি অন্ধকারে নিমজ্জিত হতে বাধ্য বলে তিনি মনে করেন। শিক্ষা ক্যাডার বিগত দুই বছরে বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত হয়েছে এবং তার প্রায় সব কটিতেই মন্ত্রণালয়ের ধীরগতি, সদিচ্ছা এবং আন্তরিকতার অভাব রয়েছে বলে মনে করেন। পদোন্নতি সহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করা, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের প্রতারণার বিরুদ্ধে কঠোর জবাব প্রদান, শিক্ষা ক্যাডারের দাবি আদায়ে জনমত সংগঠন, প্রিন্ট মিডিয়াতে প্রচার, ক্যাডার স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা যুক্ত করেন তিনি।

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির আয়োজনে এই সংলাপে শিক্ষা ক্যাডারের বিভিন্ন ব্যাচের প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যাচ প্রতিনিধি, সমিতির কর্মকর্তা, শিক্ষা ক্যাডারের সিনিয়র কর্মকর্তা সহ শতাধিক ক্যাডার কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেছিলেন।


সর্বশেষ

আরও খবর

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫ শতাংশ কর আরোপের প্রতিবাদে মানববন্ধন

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫ শতাংশ কর আরোপের প্রতিবাদে মানববন্ধন


ঈদের পর স্কুল-কলেজ খোলার ইঙ্গিত শিক্ষামন্ত্রীর

ঈদের পর স্কুল-কলেজ খোলার ইঙ্গিত শিক্ষামন্ত্রীর


শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটির এক বছর

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটির এক বছর


করোনায় ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩২৭

করোনায় ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩২৭


তারুণ্যের ইচ্ছার স্বাধীনতা কোথায়!

তারুণ্যের ইচ্ছার স্বাধীনতা কোথায়!


এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ


গবেষণায় জালিয়াতি করায় ঢাবির তিন শিক্ষকের শাস্তি

গবেষণায় জালিয়াতি করায় ঢাবির তিন শিক্ষকের শাস্তি


ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারিরা কেন আওয়ামী লীগ করতে পারেন না!

ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারিরা কেন আওয়ামী লীগ করতে পারেন না!


জুন-জুলাইয়ে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা

জুন-জুলাইয়ে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা


ঢাবি শিক্ষক সমিতি নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নীল দল জয়ী

ঢাবি শিক্ষক সমিতি নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নীল দল জয়ী