Friday, July 1st, 2022
শিবালয়ের জেলেরা সরকারি সহায়তা পাননি
October 31st, 2016 at 8:08 pm
শিবালয়ের জেলেরা সরকারি সহায়তা পাননি

মানিকগঞ্জ: ২ নভেম্বর পর্যন্ত নদীতে মাছ ধরার উপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি থাকায় মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয়ে দরিদ্র জেলে পরিবারগুলোতে চলছে দুর্দিন। সরকারি নিষেধাজ্ঞার ২০ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত সরকারি কোনো সহায়তা পাননি জেলেরা। ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটছে তাদের।

মাছ ধরা বন্ধ থাকায় জেলেদের অনেকেই বাড়িতে বসে অলস সময় পার করছেন, আবার কেউ কেউ জাল বুননের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন নদীতে ইলিশ মাছ ধরা, বেচাকেনা ও মজুদের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এসময়ে অন্যান্য জেলায় জেলেদের জন্য ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে ২০ কেজি করে চাল বরাদ্দ রয়েছে। কিন্ত মানিকগঞ্জে এ রকম কোনো বরাদ্দ না থাকায় শিবালয়ের জেলেদের অনেক কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে।

মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর, শিবালয় ও হরিরামপুর উপজেলার মধ্য দিয়ে  পদ্মা-যমুনা নদী প্রবাহিত। শিবালয় উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার জেলে পরিবার রয়েছে। মাছ ধরতে না পাড়ায় শত অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে এদের দিন কাটলেও দেখার কেউ নেই।

এদিকে সরকারি সহায়তা দেয়ার কথা বলে ইউপি সদস্যরা জেলেদের কাছ থেকে ভোটার আইডি কার্ড ও নাম ঠিকানা নিয়ে গেছে। কিন্ত অদ্যাবধি জেলেরা সরকারি কোনো সহায়তা পাননি। ফলে নদীতে মাছ ধরতে না পেরে অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন জেলেরা।

শিবালয় উপজেলার শুধু তেওতা ইউনিয়নের জাফরগঞ্জ,পালপাড়া, ঢালা, তেওতা ও কৃষ্ণপুরসহ বিভিন্ন এলাকাতে রয়েছে প্রায় ১১ থেকে ১২’শ জেলে পরিবার। নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় এসব জেলে পরিবারগুলোতে চলছে দুর্দিন। সরকারি সহায়তা তারা এখনও পাননি।

শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের ধীরেন হালদার (৫০) বলেন, ‘শুনেছি মাছ ধরা বন্ধের জন্য সরকার নাকি আমাদের চাল দেবে। মেম্বার আমাদের নাম লিস্ট করে ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি নিয়ে গেছে। কিন্ত আজ পর্যন্তও আমরা চাল পাইনি। তিন ছেলে ও ছেলের বউসহ ছয় জনের সংসার। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় নদীতে যেতে পারতেছি না। এমনিতেই অভাবের সংসার, তার পর মাছ ধরা বন্ধ। ফলে অনেক কষ্টে দিন কাটাতে হইতেছে।’

কৃষ্ণপুর গ্রামের নিরঞ্জন হালদার (৫৮)জানান, তার একটি নৌকা রয়েছে। তিনি নদীতে মাছ ধরেই তিন জনের সংসার পরিচালনা করেন। তার সঙ্গে আরো ১৩ জন জেলে রয়েছে। তাদের সংসারের আয়ের এক মাত্র উৎসই হচ্ছে, নদীতে মাছ ধরে বিক্রি করা। নিষেধাজ্ঞার পর থেকে তারা বেকার-অলস দিন কাটাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার এ সময়ে যারা মাছ ধরছে, তারা প্রকৃত জেলে না। এদের মধ্যে বেশীর ভাগই মৌসুমী জেলে। এরা শুধু নিষেধাজ্ঞার এ কয়দিন নদীতে মাছ ধরে মোটা অংকের টাকা কামিয়ে কেটে পড়বে। প্রকৃত জেলে যারা তারা মাছ ধরাতো দুরের কথা, পুলিশের ভয়ে নদীতেই নামছে না। এ পর্যন্ত প্রশাসনের হাতে যারা ধরা পড়েছে, তাদের অধিকাংশই মৌসুমী জেলে।’

একই গ্রামের কার্তিক, গৌতম, দীনুবন্ধু ও পতিত হালদারসহ অনেকেই বলেন, ‘মাছ ধরা বন্ধ থাকায় সরকার আমাদেরকে চাল দিবে শুনেছি। কিন্ত তা এখনও পাইনি। অথচ নিষেধাজ্ঞার সময় শেষ হতে চলেছে, চাল কবে পাব তা বলতে পারছি না।’

এব্যাপারে শিবালয়ের মৎস্য কর্মকর্তা রফিকুল আলম জানান, মাছ ধরা বন্ধের এ সময়ে অন্যান্য জেলার মত তাদের এলাকায় সরকারী সহায়তার কোন বরাদ্দ নেই। এখানে শুধু জাটকা নিধন বন্ধের সময় অর্থাৎ মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত চার মাস ২০৬ জন গরীব, দুঃস্থ জেলে পরিবারকে ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে ৪০ কেজি করে চাল দেয়া হয়।

প্রতিবেদক: শাহজাহান বিশ্বাস, সম্পাদনা: ফারহানা করিম


সর্বশেষ

আরও খবর

সংসদে ৬,৭৮,০৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব

সংসদে ৬,৭৮,০৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব


আ’লীগ নেতা বিএম ডিপোর একক মালিক নন

আ’লীগ নেতা বিএম ডিপোর একক মালিক নন


চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় বাংলাদেশ

চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় বাংলাদেশ


তৎপর মন্ত্রীগণ, সীতাকুণ্ডে থামেনি দহন

তৎপর মন্ত্রীগণ, সীতাকুণ্ডে থামেনি দহন


যে গল্প এক অদম্য যোদ্ধার

যে গল্প এক অদম্য যোদ্ধার


আফগান ও ভারতীয় অনুপ্রবেশ: মে মাসে আটক ১০

আফগান ও ভারতীয় অনুপ্রবেশ: মে মাসে আটক ১০


সীমান্ত কাঁটাতারে বিদ্যুৎ: আলোচনায় বিজিবি-বিজিপি

সীমান্ত কাঁটাতারে বিদ্যুৎ: আলোচনায় বিজিবি-বিজিপি


চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর সরকার

চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর সরকার


সাংবাদিকতা বিরোধী আইন হবে না: মন্ত্রী

সাংবাদিকতা বিরোধী আইন হবে না: মন্ত্রী


সেনাবাহিনীতে নিরপেক্ষ মূল্যায়ন চান প্রধানমন্ত্রী

সেনাবাহিনীতে নিরপেক্ষ মূল্যায়ন চান প্রধানমন্ত্রী