Thursday, September 8th, 2016
শুভ জন্মদিন সোহরাওয়ার্দী
September 8th, 2016 at 2:39 pm
শুভ জন্মদিন সোহরাওয়ার্দী

বিধুনন জাঁ সিপাই:

‘আমার একমাত্র ভরসা হল গণতন্ত্র আর গণতান্ত্রিক দল। অর্থাৎ আমার দেশের দরিদ্র জনগণ, তারাই আমার একমাত্র ভরসা। কারণ তাদের কল্যাণই আমার লক্ষ্য। এই শাসন ব্যাবস্থার দুর্বলতা সম্পর্কে আমি সচেতন। গণতন্ত্র মানুষেরই সৃষ্টি, এরও অনেক দূতি আছে। কিন্তু মোটের উপর গণতন্ত্রই হচ্ছে প্রগতি ও বিবর্তনের একমাত্র নিশ্চিত পথ। কোনো ব্যক্তির খেয়ালের উপর নয় বরং জনগণের ইচ্ছাই সরকারী নীতির ভিত্তি হবে। গণতন্ত্রকে স্বতঃসিদ্ধরূপে গ্রহণ করতে হবে। নির্ভুল নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্র কখনো ব্যর্থ হতে পারে না।’ 

তিনি শুধু বাঙালী পরিচয়ে জীবনের ইতি টানেন নি, গোটা উপমহাদেশের রাজনীতিতে এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে আছেন। গত শতকে আমাদের নায়কের আসনে আসীন হয়ে আছেন যে ক’জন তাদের মধ্যে অন্যতম একটা নাম হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। ১৮৯২ সালের ০৮ সেপ্টেম্বর মেদিনীপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তুখোড় মেধাবী হোসেন সোহরাওয়ার্দী, ১৯১৮ সালে ‘গ্রে’স ইন’ হতে ‘বার এট ল’ ডিগ্রী অর্জন করেন। এরপর ১৯২১ সালে কলকাতায় ফিরে এসে আইন পেশায় নিয়োজিত হন।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, ১৯৪৬ এর নির্বাচনে বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের বিপুল বিজয়ে তিনি এবং আবুল হাশিম মূল কৃতিত্বের দাবীদার ছিলেন। ১৯৪৬ সালে বাংলার মূখ্যমন্ত্রী হিসেবে পাকিস্তান আন্দোলনে তিনি ব্যাপক সমর্থন প্রদান করেন। পূর্ব বাংলার মূখ্যমন্ত্রী হিসেবে ১৯৪৬ সালে তিনি পাকিস্তান আন্দোলনের প্রতি তার সমর্থন এবং সহযোগিতা প্রদান করেন। কলকাতায় হিন্দু মুসলমান রায়টে তার বিতর্কিত ভূমিকার কারণে হিন্দুদের নিকট তার গ্রহণযোগ্যতা কমে যায়। ফলে শরৎচন্দ্র বসু ছাড়া কংগ্রেসের আর কোন নেতা তার অখণ্ড বাংলার ধারণার সাথে একমত ছিলেন না। ১৯৪৭ সালে তিনি বাংলার মূখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে যান।

বটবৃক্ষের মত আদর্শবান শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন গত শতাব্দীর তরুণদের অনুসরণ করার মত ব্যক্তিত্ব। বিশাল কর্মময় জীবনে অনেক রাজনৈতিক অনুসারীদের মধ্যে অন্যতম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার অনুসারীরা অনেকে ১৯৪৮ এর শুরুর দিকে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ এবং ১৯৪৯ এর জুনে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে ধর্মনিরপেক্ষতার চর্চা এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগঠনটির নাম থেকে পরে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়।

প্রতিষ্ঠালগ্নে পূর্ব পাকিস্তান ‘আওয়ামী মুসলিম লীগ’র’ সভাপতি হন আবদুল হামিদ খান ভাসানী, শামসুল হক হন সাধারণ সম্পাদক। কারাগারে অন্তরীণ থাকা অবস্থাতেই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান শেখ মুজিবুর রহমান। শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক নীতি এবং অবিচল আস্থা’র বীজ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দি রোপন করে ছিলেন। আজীবন তাই শেখ মুজিবুর রহমান তার রাজনৈতিক শিক্ষকের প্রতি ছিলেন চরম আস্থাশীল, অনুগত এবং বিনয়ী।

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ঐসকল মহত্মা মানুষের অন্তর্ভুক্ত যারা কেবল নির্মান করেন। চিত্রকলার প্রতি অসীম আগ্রহী এই মানুষটাই পরিচর্যা করে আবিষ্কার করেছেন এস.এম সুলতান নামক একটা সভ্যতার। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী শারীরিক অসুস্থতার কারণে ১৯৬৩ সালে দেশের বাইরে যান এবং লেবাননের রাজধানী বৈরুতে অবস্থানকালে সে বছর ৫ ডিসেম্বর একাকী নির্জন হোটেল রুমে ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যু অনেকের কাছে এখনও রহস্যমণ্ডিত হয়ে আছে।

সম্পাদনা: তুসা


সর্বশেষ

আরও খবর

প্রয়াণের ২১ বছর…

প্রয়াণের ২১ বছর…


দুইদিনের বিক্ষোভের ডাক বিএনপির

দুইদিনের বিক্ষোভের ডাক বিএনপির


ভোট সুষ্ঠু হয়েছে; দাবি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের

ভোট সুষ্ঠু হয়েছে; দাবি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের


জাতীয় পার্টির ‘ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন’ বিরোধী সমাবেশ

জাতীয় পার্টির ‘ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন’ বিরোধী সমাবেশ


গালিগালাজের ভয়েস নিজের না দাবি নিক্সন চৌধুরীর

গালিগালাজের ভয়েস নিজের না দাবি নিক্সন চৌধুরীর


বিএনপি মহাসচিবের বাসায় ঢিল: ১২ নেতা সাময়িক বহিষ্কার

বিএনপি মহাসচিবের বাসায় ঢিল: ১২ নেতা সাময়িক বহিষ্কার


‘সুপারম্যান‘ ট্রাম্প করোনাভাইরাসের ‘সুপারপাওয়ার‘ বুঝতে ভুল করেছেন

‘সুপারম্যান‘ ট্রাম্প করোনাভাইরাসের ‘সুপারপাওয়ার‘ বুঝতে ভুল করেছেন


লন্ডনে টাওয়ার হ্যামলেটস এর স্পীকার হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ব্রিটিশ বাঙ্গালী আহবাব হোসেন

লন্ডনে টাওয়ার হ্যামলেটস এর স্পীকার হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ব্রিটিশ বাঙ্গালী আহবাব হোসেন


ভেঙে গেলো গণফোরাম

ভেঙে গেলো গণফোরাম


২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪, জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু

২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪, জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু