Wednesday, August 5th, 2020
শেখ কামাল ‘সব্যসাচী কীর্তিমান বাঙালি তরুণ’
August 5th, 2020 at 1:58 pm
শেখ কামাল ‘সব্যসাচী কীর্তিমান বাঙালি তরুণ’

রুদ্র সাইফুল;

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের  বড়পুত্র প্রখ্যাত সংস্কৃতজন, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ও তরুণ রাজনীতবিদ  বীর মুক্তযিোদ্ধা শহীদ শেখ  কামাল ছিলেন  বাঙালরি রাজনীতির  ক্ষণজন্মা সব্যসাচী কীর্তিমান তরুণ, ক্রীড়া-সঙ্গীত-মঞ্চ নাটকে সমান পারর্দশী ছিলেন, তাছাড়া রাজনীতবিদ হিসেবেও  তিনি ছিলেন  বাঙালি তরুণ প্রজন্মরে আজন্ম আইডল। সরলমনা কামাল ছিলেন  বন্ধুবৎসল, সমাজের নিম্নস্তরের  মানুষরে সঙ্গওে ছিল  তাঁর নিবিড়  বন্ধুত্ব, তাঁর ভাবনায় ছিল অবহলেতি মানুষরে জীবনমান উন্নয়ন ও বাঙালরি সাংস্কৃতকি উন্নতি সাধনের  কথা।

শেখ  কামাল এশিয়া মহাদেশের অন্যতম ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে অল্প সময়রে মধ্যেই ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন, তিনি স্বাধীনতা পরর্বতী বাংলাদেশের  ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করেন  ‘আবাহনী ক্রীড়াচক্র’, ফুটবল ও ক্রিকেটের প্রতি দুর্বল ছিলেন শেখ কামাল। দারুণ ক্রিকেট খেলতেন তিনি।  তবে ফুটবলের সংগঠক হিসেবেও রেখেছেন অনন্য ভূমিকা । খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসা থেকেই শেখ  কামাল তাঁর জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেন তৎকালীন বাংলাদেশের সেরা এথলেট  সুলতানা কামালকে।    

শেখ  কামাল ১৯৭৫ সালের ক্রিকেট লীগের চ্যাম্পয়িন আবাহনী ক্লাবের নিয়মিত উদ্বোধনী বোলার ছিলেন।  তিনি ১৯৭৫ সালে বাস্কটেবল লীগ চ্যাম্পয়িন ওয়ার্ন্ডাস ক্লাবে নিয়মিত খেলেছেন । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট দলের হয়ে খলেছেনে। শেখ  কামাল ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের  সলিমুল্লাহ হলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার দ্রুততম মানব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতযিোগীতায় ব্যাডমন্টিনরে দ্বতৈ রার্নাস-আপ হয়ে কৃতিত্বের সাক্ষর রাখেন কামাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তঃহল ফুটবলওে নিয়মিত অংশ নিয়েছেন । শেখ কামাল তৎকালীন ফুটবল খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিও ছিলেন। খেলাধুলার বাইরেও শেখ কামাল নিয়মিত মঞ্চ নাটক করতেন , গান গাইতেন; দারুণ সেতার বাজাতেন। শেখ কামাল ছিলেন অনন্য-সাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী।  তিনি খুব সহজেই সাধারণের সঙ্গে মিশে যেতেন, জাতির পিতার  সন্তান হিসেবে কোনো অহংকার তাঁর ছিল না।

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নের জন্য শেখ কামাল ছুটে বেড়িয়েছেন পৃথিবীর বরেণ্য  ক্রীড়া সংগঠকদের দ্বারে দ্বারে।  তিনি চেয়েছিলেন ক্রিকেটের আলাদা আলাদা র্পূণাঙ্গ ইন্সটটিউিট করার, বিশ্বমানের  খলেোয়াড় তৈরী করতে চেয়েছিলেন তিনি – যারা সারা পৃথবিীময় ব্র্যান্ডিং  করবে বাংলাদেশের।  পঁচাত্তরের  ১৫ আগস্টের নির্মমতার  জন্যই শেখ কামালকে হারিয়ে আমরা পিছিয়ে পড়েছি। 

যুদ্ধ-বিধস্ত সদ্য-স্বাধীন বাংলাদেশে যেখানে আমাদের পেটের ক্ষুধা নিবারণের জন্য ভাবতে হচ্ছে জাতির পিতাকে, সেই সময়ে সারাবশ্বিে বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিং করার জন্য শেখ  কামাল নেমে পড়েন নতুন এক যুদ্ধে। সেই যুদ্ধ বাংলাদেশের সংস্কৃতি নিয়ে যুদ্ধ, সেই যুদ্ধ বাংলাদেশের  ফুটবলকে নিয়ে যুদ্ধ, সেই যুদ্ধ বাংলাদেশের ক্রিকেটকে নিয়ে যুদ্ধ। নতুনভাবে লাল-সবুজের বাংলাদেশকে সারা বিশ্বে অংকিত করার জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছুটে বেড়িয়েছেন শেখ কামাল।

শেখ কামাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার পরিবেশ উন্নতকরণের জন্য ‘শিক্ষা সংস্কার আন্দোলন’ নামে যে কাজটি শুরু করেছিলেন, তা বর্তমানেও  অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং কিছুটা হলেও আলোচনার দাবি রাখে। সেই সময় যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বা শিক্ষক ছিলেন, তারাও নিশ্চয়ই এই আলোচনায় আরও তথ্য যোগ করতে পারবেন।

শেখ কামালরে নেতৃত্বে সেই আন্দোলনের মূলকথা ছিল-দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের মেধাবী শিক্ষার্থীরা প্রথতিযশা শিক্ষকদের কাছ থেকে পাঠ নিচ্ছেন। এর পাঠ্যসূচি ও শিক্ষকরা যেমন  উন্নত, শিক্ষার  পরিবেশটুকুও তেমনই  উন্নত হওয়া চাই। পরিবেশ তৈরির দায়িত্ব সবটুকুই প্রশাসনের এমন ভাবলে চলবে না, শিক্ষার্থীদেরও এ ব্যাপারে অনেক কিছু করার আছে। তিনি এই আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আহবান জানালেন প্রতিটি বিভাগ থেকে সবচেয়ে মেধাবী তিনজন করে শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণের। কিন্তু এতে কোনো জোরাজুরি নেই।  যদি কোনো মেধাবী  ছাত্র  এতে যোগ দিতে না চান, তাহলে তার পরের মেধাবীজন যোগ দেবেন । তিনিও  না এলে তার পররেজন। আর স্টিয়ারিং কমিটি গঠিত হলে প্রতি বভিাগ থেকে একজন করে সবচয়েে মেধাবী মুখ নিয়ে। এই প্রতনিধিত্বিকারী ছাত্র বা ছাত্রী  তা ববিচ্যে নয়। সবার অধকিার সমান। কেন্দ্রীয়  কমিটি প্রতি মাসে একবার টিএসসিতে  বৈঠকে বসবে। আর স্টিয়ারিং কমিটি বসবে প্রয়োজন মতো, তবে দু’সপ্তাহে অন্তত একবার।

আবহাওয়া খারাপ না থাকলে সভা বসার ব্যাপারে শেখ কামালের  প্রথম পছন্দ ছিল  খোলা মাঠ। এভাবইে কলাভবন, র্কাজন হল, সায়েন্স এনেক্স  ও টিএসসির মাঠে ঘুরে ঘুরে অনেকবার সভা বসেছে শিক্ষা সস্কার আন্দোলন এর । ফেরিওয়ালার কাছ থেকে কেনা বাদাম আর চা ছিল সভার নিত্যকার মেন্যু।

দীর্ঘ চার দশকের ও বেশি সময় পার হওয়াতে বিস্মৃতিতে ঢেকে যাওয়া কমিটির সবার নাম খুঁজে পাওয়া দুস্কর। তবে র্কাজন হল এলাকার কয়েকজনের নাম এখনো খুঁজে পাওয়া যায় তাদের বিভিন্ন বক্তব্য থেকে।  যেমন ফিজিক্সের রাকীব ও ইকবাল, অ্যাপ্লাইড ফিজিক্সের তরকিুল, কেমিস্ট্রির জাহাঙ্গীর ও আলাউদ্দনি, বোটানির সানি , বায়োকেমিস্ট্রির রহমত ও মোসাদ্দেক , সয়েল সায়েন্সের এনায়েত, জিওলজির  বদরুল, ইকোনমিক্সের শিবলী, আইনের মকবুল প্রমুখ। এরা সবাই ছিলেন যার যার বিভাগের প্রথম শ্রেণীতে প্রথম বা দ্বিতীয়। আর ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্টিয়ারিং কমিটিতে প্রতিনিধিত্বের  জন্য আ ব ম ফারুককে মনোনীত করছেলিনে শেখ কামাল। শিক্ষা সংস্কার আন্দোলনের  তথ্যগুলো বলতে গয়িে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন  আ ব ম ফারুক, দু’চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পরে। 

শেখ কামালের শিক্ষা সংস্কার আন্দোলনের  অন্যতম একটি বৈশিষ্টর কথা উল্লেখ করতে হয়। তখন অধকিাংশ মেধাবীরা রাজনীতবিমিুখ ছিলেন  না। তাই কেন্দ্রীয় কমিটি তো বটেই স্টিয়ারিং কমিটিতেও অধিকাংশই ছিলেন রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় এবং ছাত্রলীগের পাশাপাশি ছাত্র ইউনয়িন, বিপ্লবী ছাত্র ইউনয়িন, সমাজবাদী ছাত্র জোট প্রভৃতি সংগঠনের সদস্য। কিন্তু অন্য ছাত্র সংগঠনের হলেও তাদের সবাইকে নিয়ে শিক্ষা সংস্কার  আন্দোলন করতে শেখ কামালের কোনো সমস্যা হয়নি।  শিক্ষা সংস্কার আন্দোলনের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে সবচয়েে গুরুত্বর্পূণ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন । তখন বাণিজ্য অনুষদের সবগুলো বিভাগ ছিল কলাভবনে অবস্থতি। ক্লাসরুম খালি না থাকাতে বিভিন্ন বিভাগের অনেক ক্লাস সময়মতো হতো না। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কোনো বিভাগ অনেক জায়গা অপ্রয়োজনে দখল করে রাখলেও অনেক বিভাগের  প্রয়োজনীয় জায়গাটুকুও ছিলোনা। কার্জনহলের বিভাগগুলোরও অনেকের  এই সমস্যা ছিল। ছাত্র সংখ্যার তুলনায় আবাসকি হলরে সংখ্যাও যথষ্টে ছিল না। সদ্য স্বাধীন দেশটির অর্থনীতিক সীমাবদ্ধতা মাথায় রেখেও যথাসম্ভব জরুরী ভত্তিতিে অবকাঠামো সম্প্রসারণের জন্য শেখ কামালের নেতৃত্বে শিক্ষা সংস্কার আন্দোনলএর দাবিটি তাই অত্যন্ত জোরালো হয়েছিল।

সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি একাডেমিক ভবন, লাইব্রেরি, রেজিস্ট্রার বিল্ডিং, টিএসসি, আবাসিক হল, ও রাস্তার পাশের দেয়ালগুলো ছিল    দেয়াল লিখন ও পোস্টারে কণ্টকিত । এমনকি শ্রেণীকক্ষের ভেতরেও স্লোগান লেখা বাদ ছিল না। সরকারি দল ও বিরোধী দল নির্বিশেষে সব ছাত্র সংগঠনই বক্তব্য প্রচারের জন্য সভা-মিছিলের পাশাপাশি দেয়াল লিখনের ওপর জোর দিতো । এসব লেখা সবগুলোই যে খুব রুচিসম্মত ছিল তাও নয়। ফলে সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন ও দেয়ালগুলোর চেহারা ছিল কদর্য। এটি যে দেশের সর্বোচ্ছ বিদ্যাপীঠ এবং তা কিছুটা পরিপাটি  থাকাই বাঞ্ছনীয়, সে বোধটুকু অনেকের মধ্যইে ছিল অনুপস্থতি। শিক্ষা সংস্কার আন্দোলন থেকে সব সংগঠনকে অনুরোধ করা হয়েছিল সৌর্ন্দয ও পরিবেশ রক্ষার্থে ভবনগুলোর দেয়ালে বা অভ্যন্তরে পোস্টার না লাগাতে বা দেয়াল লিখন না করতে। শিক্ষা সংস্কার আন্দোলন প্রশাসনের  কাছে দাবি করলো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থানে স্থানে বড় বড় র্বোড নির্মাণের, যাতে সবার স্লোগান লেখা যায় বা পোস্টার লাগানো যায়। এতে সৌর্ন্দয রক্ষার পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীরাও র্বোডগুলো থেকেই কোন সংগঠনের কী বক্তব্য তা সহজেই জেনে নিতে পারবেন । বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তখন বড় না হলেও বেশ কয়েকটি পাকা র্বোড বিভিন্ন স্থানে নির্মাণ করে দিয়েছিলো, যার দুটি এখনও কার্জন  হল এলাকায় রয়েছে। 

কলাভবনের সামনের বটতলার ঐতিহাসিক মুলা কথা ভেবে এখানে প্রায়ই বিভিন্ন সংগঠনের সভা হতো। সভা চলাকালীন মাইকের আওয়াজে ক্লাস করা ছিল খুবই অসুবিধাজনক। শিক্ষা সংস্কার আন্দোলন থেকে প্রস্তাব করা হয়েছিল, ক্লাস চলাকালীন এখানে সভা না করে মল চত্বরে সভা-সমাবেশ করার জন্য। বলা হয়েছিল , মল চত্বরে থাকবে উন্মুক্ত মঞ্চ এবং এম্ফথিয়েটারের মতো সিমেন্ট নির্মিত গোলাকার বসার ব্যবস্থা। এজন্য উপাচার্যের বাসভবনের বিপরীতে মল চত্বরে স্থান নির্বাচন করা হয়েছিল এবং ছাত্রলীগসহ কয়কেটি সংগঠন সেখানে বেশ  কিছুদিন  সভাও করছেলিো। শিক্ষা সংস্কার আন্দোলন থকেে দাবি করা হয়েছিল মল চত্বরের  মাঝামাঝি জায়গায় মুক্তিযুদ্ধের একটি বড় স্মারক ভার্স্কয নির্মাণের। এখানেও থাকবে একটি মঞ্চ এবং এর চারপাশের বাগান শোভিত সবুজ প্রাঙ্গণে দর্শক-শ্রোতারা বিভিন্ন রাজনৈতিক  বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন । দাবির প্রেক্ষিতে প্রক্ষেতিে প্রশাসন থেকে তার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। তখনকার উপার্চায অধ্যাপক ড. মোজাফফর আহমেদ  চৌধুরীর স্থাপন করা সেই ভিত্তি প্রস্তরটি এখনও জরাগ্রস্ত অবস্থায় বাণিজ্য ভবনের পশ্চিমে মল চত্বরে কোনো মতে টিকে আছে । নামের সঙ্গে মিল রেখে  তখন মল চত্বরে শেখ কামালের নতেৃত্বে শিক্ষা সংস্কার আন্দোলনের উদ্যোগে সত্যি সত্যইি বাগান করা হয়ছেলিো। লাগানো হয়েছিল  অনকে কৃষ্ণচূড়া, রাঁধাচূড়া, জারুল, কণকচাঁপা, কামিনী ,শিউলি  ও মহুয়ার গাছ। এর মাঝের  রাস্তাগুলোর দু’ধারে লাগানো হয়েছিল সারিবদ্ধ  ঝাউ গাছ। বাগান পরর্চিযার জন্য বশ্বিবদ্যিালয় প্রশাসন থেকে নিয়োগ  করা হয়েছিল চারজন মালি ।কিন্তু কালক্রমে বাগানটি আর টেকেনি।

 শাহবাগের ফুলের দোকানিরা তোড়া বানাবার জন্য প্রতিদিন  ভোরে এখানকার ঝাউ গাছগুলোর ডাল ভাঙ্গতো নির্বিবাদে। এছাড়া আরেক  উপদ্রব ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের  কর্মচারীদের গৃহপালিত অগুনিত  গরু-ছাগলের এই বাগানে অবাধ বিচরণ। এখনও মল চত্বরে সেই সময়কার মাত্র কয়কেটি কৃষ্ণচূড়া, রাঁধাচূড়া, জারুল, কণকচাঁপার গাছ টিকে আছে । আর আছে বিশ্ববিদ্যালয়  এলাকার একটিমাত্র মহুয়ার গাছ। র্বতমান শিক্ষার্থীরা হয়তো জানেইনা যে মল চত্বরের এই সবুজের মধ্যে জেগে থাকা লাল কৃষ্ণচূড়া গাছগুলো রোপন করেছিলেন শেখ কামালের নেতৃত্বে  একঝাঁক তরুণ প্রাণ।

এমন মহৎ প্রাণের অধিকারী শেখ কামালের পেছনেও গুজব ছড়িয়েছে স্বাধীনতা বিরোধী চক্র। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা ক্রমাগতভাবে শেখ  কামালের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়াতে থাকে – বঙ্গবন্ধুর পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা গুজব রটিয়ে দীর্ঘদিন মানুষের মন থেকে তাদের সরয়িে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় , বিশেষ করে শেখ কামালকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা  করা হয় প্রতিনিয়ত; তবে শেখ কামালের বিরুদ্ধে  সকল গুজবই আজ কালের গর্ভে হারিয়ে গিয়েছে।  

শেখ কামালের জন্ম হয়েছিল গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামের খুব সাধারণ এক পরিবারে  ১৯৪৯ সালের আগস্টের পাঁচ তারিখ । পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয় । খুব ছোট বেলা থেকেই ডানপিটে কামাল পিতার আদর স্নেহ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। সত্যি বলতে কী শেখ কামাল জন্মের পর থেকেই তাঁর পিতার সাথে  ভালোমতো দেখায় হয়নি ।কারণ তাঁর পিত  শেখ মুজিবুর  রহমান তখন বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠেছেন, বাঙালি জাতির মুক্তিদূত  হয়ে উঠেছেন । পাকিস্তানী শোষকদের নির্মম শোষণের বিরুদ্ধে কথা  বলবার কারণে, প্রতবিাদ করবার কারণে তাঁর পিতাকে প্রায়ই কারাবরণ করতে হয়।  

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ  কামাল ঢাকার শাহীন স্কুলে থাকাকালীন ছিলেন স্কুলের প্রতটিি খেলার অপরিহার্য  অংশ। এরমধ্যে ক্রিকেটটা  তাঁকে টানতো সবচয়েে বেশি। দীর্ঘদেহী  ফাস্ট বোলার ছিলেন, নিখুঁত লাইন-লেন্থে আর প্রচণ্ড গতি দিয়ে  খুব সহজেই  টালমাটাল করে দিতেন প্রতিপক্ষের  ব্যাটসম্যানক। অবিভক্ত পাকিস্তানের  অন্যতম উদীয়মান পেসার ছিলেন, কিন্তু একমাত্র বাঙালি হবার কারণে এবং বঙ্গবন্ধুর পুত্র হবার অপরাধে জুয়লে, রকিবুলদের  মতো এই প্রতিভাও অবহলেতি, উপক্ষেতি হয়েছিলেন নিদারুণভাবে । আরেক ক্রিকেট  অন্তপ্রাণ মুস্তাকের  তলি-তলি পরশ্রিম আর চেষ্টায় গড়া আজাদ বয়েজ ক্লাব তখন শেখ কামালের মতো উঠতি প্রতিভাদের লালনকেন্দ্র । এখানেই শেখ কামাল প্রথম বভিাগ ক্রিকেট খেলেছেন র্দীঘদনি। শুধু খেলাধুলাই  নয়, পড়াশোনা, সঙ্গীতর্চচা, অভিনয় , বিতর্ক , উপস্থিত  বক্তৃতা থেকে শুরু করে বাঙলা সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে  তুলে ধরবার চেষ্টা, কোথায় নেই শেখ  কামাল!

ঢাকার শাহীন স্কুল থেকে এসএসসি ও ঢাকা কলজে থকেে এইচএসসি পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হবার পর ভর্তি হলেন  প্রাচ্যের  অক্সর্ফোড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের  সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে। পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতকি পরমিণ্ডলে বিস্তৃত  হলো তাঁর কর্মপরিধি। ছায়ানটের সেতারবাদন বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী শেখ কামাল, নাট্যজন নাসরিউদ্দনি ইউসুফ বাচ্চু আর নাট্যকার সেলিম  আল দীনের সঙ্গে মাইল  প্রতিষ্টা করলেন  ঢাকা থিয়েটার। সু-অভনিতো হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যাঙ্গনে সুপরচিতি ছিলেন তিনি । এদকিে খেলাধুলাও কিন্তু চলছে পুরোদমে। সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী শেখ  কামাল বাস্কেটবল টিমের  ক্যাপ্টেন ছিলেন । বাস্কেটবলে  তাঁর দক্ষতা বিশ্ববিদ্যালয়ে  তাঁর হলের শ্রেষ্ঠত্ব  বজায় রেখেছিলো তাঁর সময়কালীন পুরোটা সময়জুড়ে। এর মাঝে ১৯৬৯ সালে পাকিস্তানী সামরিক সরকার রবীন্দ্রসঙ্গীত নিষিদ্ধ করলো নিকৃষ্টতম ধর্মান্ধতার পরিচয় দিয়ে । কিন্তু  শেখ কামালকে কি আর  থামানো যায়!

বাঙালি জাতির  র্সবকালরে র্সবশ্রষ্ঠে নেতার সন্তান তিনি ,নেতৃত্বগুণ  আর জাতীয়তাবোধের চেতনা তাঁর ধমনীতে জন্ম থেকেই  বাই ডফিল্ট সেটআপ করা। তাঁর প্রতিবাদের ভাষা হলো রবীন্দ্রসঙ্গীত, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে যখন যেখানেই সুযোগ পেলেন , তখনই বশ্বিকবির গান গেয়ে অহিংস প্রতিবাদের অসাধারণ  উদাহরণ রাখলেন তিনি। কিন্তু ২৫ র্মাচ ১৯৭১-এ পাকিস্তানী শাহকেরা ছাড়িয়ে গেলো নিষ্ঠুরতার সকল সীমা। শেখ কামালের পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখন পাকিস্তানী কারাগারে, পুত্র শেখ কামাল বাঙলা মায়রে সম্ভ্রম রক্ষা করতে ঝাঁপিয়ে পড়লেন মুক্তিযুদ্ধে।

বন্ধুরাষ্ট্র ভারত থেকে ট্রেনিং নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের  প্রধান সেনাপতি  জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীর এডিসি হিসেবে  গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন শেখ  কামাল। তাঁর মতো বাঙলা মায়ের  এমন অসংখ্য বীর সন্তানের  অভূতর্পুব বীরত্বগাঁথায় নয় মাসরে রক্তাক্ত পথ পাড়ি দিয়ে পৃথবিীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ালো নতুন এক স্বাধীন র্সাবভৌম দেশ-বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ।

মুক্তিযুদ্ধে পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়া দেশ  পুনর্গঠনে নিজের অসামান্য মেধা আর অক্লান্ত কর্মক্ষমতা নিয়ে জাতির পিতার  ডান বাহু হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লেন শেখ কামাল। বন্ধু স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের ম্যানেজার তানভীর মাজহার তান্নার সাথে যুদ্ধের সময় প্রায়ই আলাপ হতো শেখ  কামালের। বারবার আক্ষেপ  আর আশাবাদের মিশেলে বলতেন শেখ কামাল, ‘তান্না, আমরা কি আর দেশে ফায়ার যেতে  পারবো না? দেখে নিস, দেশ স্বাধীন হলেখেলার ছবিটাই বদলে দেব আমি ‘ .

কথা রেখেছিলেন কামাল। স্বাধীনতার পরে দেশে ফিরেই আবাহনী সমাজকল্যাণ সংস্থা গড়ে ১৯৭২ সালে সেই  সংস্থার নামে কেনা  হলো ইকবাল স্পোর্টিং ফুটবল দল। ক্রিকেট আর হকির দোল কেন হলো ইস্পাহানী স্পোর্টিং । এগুলোর সমন্বয়ে নতুন যাত্রা শুরু হলো আবাহনী ক্রীড়া চক্র নামে একটা ক্লাবের । ক্রিকেটার তানভীর মাজহার তান্না হলেন এই ক্লাবের ফাউন্ডার ভাইস প্রেসিডেন্ট । ফুটবল, ক্রিকেট, হকি এই খেলাগুলোকে আআন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতেন শেখ কামাল। স্বপ্ন দেখতেন একদিন বাংলাদেশ  আন্তর্জাতিন ক্রীড়াঙ্গনে এক পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে।  সেই লক্ষ্যে আমূল পরিবর্তন এনেছিলেন সবক্ষেত্রেই, উপমহাদেশের মধ্যে প্রথমবারের  মতো আধুনিকতার  ছােঁয়ায় পাল্টে দিয়েছিলেন সব খেলার খোলনলচে।  ক্র্যাক প্লাটুনের  বীর যোদ্ধা আবদুল হালমি চৌধুরী জুয়েলের মতো অসাধারণ সব প্রতভিাগুলো যেন আর হারিয়ে না যায়, সেই লক্ষ্যে ক্রিকেটকে ঢেলে সাজাবার মাস্টারপ্ল্যান করেছিলেন শেখ কামাল । দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ক্রিকেটারদের  খুঁজে বের করে র্পযাপ্ত সুযোগ সুবিধা দিয়ে তৈরী করেছিলেন নতুন দিনের জন্য।

আপাতত লক্ষ্য আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি । শেখ কামালের স্বপ্ন কিন্তু এখানেই শেষ নয়, দৃষ্টিসীমা ছাড়িয়ে সেটা বহুদূরে বিস্তৃত ।

আর ফুটবলে তো রীতিমতো বিপ্লব সৃষ্টি করেছিলেন শেখ কামাল। দূরদর্শিতা আর আধুনিকতার অর্পূব সমন্বয়ে রীতিমতো তোলপাড় সৃষ্টি করলেন  তিনি গোটা উপমহাদেশে।  সেই  ১৯৭৩ সালে আবাহনীর জন্য বিদেশী  কোচ বলি হার্টকে এনে স্রেফ দেশের ফুটবল প্রেমিকদেরই  নয়, তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন এশিয়ার অন্যান্য ফুটবল পরাশক্তিকেও! তখন ক্লাব তো দূরের কথা, এই উপমহাদেশে জাতীয় দলের কোনো বিদেশী  কোচ ছিল না । ১৯৭৪ সালে আবাহনী যখন কলকাতার ঐতহ্যিবাহী ‘আইএফএ’ শিল্ড  টুর্নামেন্ট কেবলতে যায়, তখন আবাহনীর বিদেশী কোচ আর পশ্চিমা বেশভূষা দেখে সেখাকার কর্মকর্তা অরে সমর্থকদের  চোখ ‘ছানাবড়া’ হয়ে যায়! পুরো টুর্নামেন্টে  অসাধারণ খেলা উপহার দিয়ে  আবাহনী ক্রীড়াচক্র দর্শকদের অবাক মুগ্ধতা অর্জন করেছিল  মাটি কামড়ে ছোট ছোট পাসে সাড়া মাঠজুড়ে চমৎকার খেলা  উপহার দিয়ে । ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন কমল বসু’সহ আকাশবাণীর প্রথতিযশা ধারাভাষ্যকারবৃন্দ। শেখ কামালের  হাত ধরেই বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছিলো  পুরো উপমহাদেশের ফুটবলে। 

হকিতেও  নতুন দিনের সূচনা করেছিলেন শেখ  কামাল। যোগ্যতা, দক্ষতা আর মোস্ট ইম্পরট্যান্টলি দেশপ্রেমের অসামান্য স্ফুরণে  কামাল বদলে দিচ্ছিলেন সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের পুরো ক্রীড়া ক্ষেত্র ।

শুধু ক্রীড়াই নয়, শিল্প-সাহিত্যের  সব শাখা পুনর্গঠনে তিনিই পালন করেছিলেন অসামান্য অবদান। যারা এই দেশকে চায়নি,  চায়নি স্বাধীনতা, এই উন্নতি,  নতুন দিনের  আগমন তাদের কেন সহ্য হবে ? জাতির পিত  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অপবাদ দেবার মতো দুঃসাহস কিংবা  বুজের পাটা কখনই হয়নি অন্ধকারের ঘাতকচক্রের । তাই তারা বেছে নিয়েছিল বঙ্গবন্ধুর সন্তানদের । যে শেখ কামাল ছিলেন মাটির মানুষ, কেউ  কোনোদিন কোনো সাহায্যে তার কাছে এসে বিফল মনোরথে ফায়ার গিয়েছেন  বলে তাঁর শত্রুরাও  কোনোদিন বলতে পারবে না, সেই শেখ কামালের বিরুদ্ধে স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতকচক্র ফাঁদলো একের পর এক বানোয়াট গল্প। যে গল্পের নিখুঁত পরিবেশনায় কোনো ফাঁক ছিল না, অকল্পনীয় নিরেট মিথ্যায় মোড়ানো  যে গল্প আজও বিশ্বাস করে এদেশের স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতকচরের অনুসারী মানুষেরা । 

শেখ কামালের বিরুদ্ধে স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতকচক্রের  অন্যতম গুজব হচ্ছে  কামাল ব্যাংক ডাকাত ছলিনে, বেশ তোলপাড় করে দেয়া এক অভিযোগ । জাতির পিতার ছেঁকে হয়ে কীভাবে শেখ কামাল ব্যাংক ডাকাতি করতে পারনে? তাঁর ব্যাংক ডাকাতি করবার কারণ কি ? যে কারোর মনে প্রথমে এই দুটো প্রশ্ন আসাই স্বাভাবিক। এই ঘটনা ঘটবার সময় লন্ডনের ডেইলি টেলিগ্রাফের  তৎকালীন সাংবাদিক পিটার  হেজেল হার্স্ট  ছিলেন ঢাকায়। জাসদের  মুখপত্র গণকণ্ঠ’র পক্ষ থেকে  তাঁকে এই খবরটি খাওয়ানোর চেষ্টা করলে (যাতে তিনি টেলিগ্রাফে  খবরটি ছাপেন ) তিনি বলেছিলেন, ‘একজন প্রধানমন্ত্রীর ছেলের ব্যাংক ডাকাতির দরকার কী? টাকা চাইলে তো ব্যাংক ম্যানেজাররাই তাঁকে টাকা এনে দেবেন।’

১৯৭৫ সালের  ১৫ আগস্ট কিছু নিকৃষ্টতম বিশ্বাসঘাতকের  নির্মম ব্রাশফায়ারে সপরিবারে  শহীদ হয়েছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল। তিনি  হৃদয়ের  সবটুকু উচ্ছ্বাস আর আবেগ জড়িয়ে ভালোবেসেছিলেন সুলতানাকে, মারা যাবার ক’দনি আগে বিয়ে হয়েছিল শেখ কামাল আর সুলতানা কামালের। রূপকথার চেয়েও অসম্ভব সুন্দর তাদের ভালোবাসার পরিণয় স্থায়ী হয়েছিল মাত্র একমাস। সুলতানার হাতের মেহেদির  রঙ শুকায়নি তখনো, টকটকে তাজা রক্ত স্রোতে ডুবে গিয়েছিলো সব। বিশ্বাসঘাতকদের ভিড়ে  একজন শেখ কামালকে খুব বেশি  প্রয়োজন ছিল আজ।

রুদ্র সাইফুল

সর্বশেষ

আরও খবর

করোনায় আরও ২১ জনের মৃত্যু

করোনায় আরও ২১ জনের মৃত্যু


২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪, জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু

২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪, জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু


সরকারি কেনাকাটায় অস্বাভাবিক দাম নিয়ন্ত্রনে ৬ নির্দেশনা

সরকারি কেনাকাটায় অস্বাভাবিক দাম নিয়ন্ত্রনে ৬ নির্দেশনা


ভূরাজনৈতিক বিরোধে জাতিসংঘকে দুর্বল না করার আহবান প্রধানমন্ত্রীর

ভূরাজনৈতিক বিরোধে জাতিসংঘকে দুর্বল না করার আহবান প্রধানমন্ত্রীর


ভাইরাসের সাথে বসবাস

ভাইরাসের সাথে বসবাস


দেশে করোনায় আরও ৪০ জনের মৃত্যু

দেশে করোনায় আরও ৪০ জনের মৃত্যু


ইভান শাহরিয়ার সোহাগ ৭ দিনের রিমান্ডে

ইভান শাহরিয়ার সোহাগ ৭ দিনের রিমান্ডে


ইউএনও ওয়াহিদার ওপর হামলার দায় স্বীকার রবিউলের

ইউএনও ওয়াহিদার ওপর হামলার দায় স্বীকার রবিউলের


পেঁয়াজে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার

পেঁয়াজে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার


মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও দুজনের মৃত্যু

মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও দুজনের মৃত্যু