Saturday, June 25th, 2016
সত্যেন্দ্র, সুধীন্দ্র, জগদানন্দ স্মরণে
June 25th, 2016 at 2:27 am
সত্যেন্দ্র, সুধীন্দ্র, জগদানন্দ স্মরণে

ডেস্কঃ বাংলা সাহিত্যের জন্য নিঃসন্দেহে এক দূর্ভাগ্যের দিন আজ; নয়তো বাংলা ভাষার বাগান থেকে এই একই ২৫ জুন তারিখেই কেন ঝরে যেতে হবে তিন-তিনটি তাজা সুগন্ধী ফুল? ১৯২২ সালের এই দিনে আমরা হারিয়েছি ছন্দের জাদুকর সত্যেন্দ্রনাথ দত্তকে, ১৯৩৩ সালে হারিয়েছি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী রচনার পথিকৃৎ ও অগ্রদূত জগদানন্দ রায়কে, ১৯৬০ সালের এদিনে কবি ও প্রাবন্ধিক সুধীন্দ্রনাথ দত্ত আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তাদেরকে স্মরণ করার ও করাবার ক্ষুদ্র প্রয়াস নিয়ে আজকের সাহিত্য আয়োজন।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত

জন্ম: কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি। 

মৃত্যু: ১৯২২ সালের ২৫ জুন কলকাতায়। 

বৈশিষ্টময় লেখনী: ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি। প্রথম জীবনে  মাইকেল মধুসূদন দত্ত, দেবেন্দ্রনাথ সেন, অক্ষয়কুমার বড়াল প্রমুখ দ্বারা প্রভাবিত হলেও পরে রবীন্দ্রানুসারী হয়ে ওঠেন, যদিও কবিস্বভাবে স্বতন্ত্রতার প্রকাশ রয়েছে। ছন্দ নির্মাণ ও ছন্দ উদ্ভাবনে বিশেষ পারদর্শীতা প্রকাশ পায় তার পদ্যে। বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তার কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দরাজ’ নামে খ্যাত।

১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায়  ছন্দ সম্পর্কিত তার প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়। বাংলা শব্দের সঙ্গে আরবি-ফারসি শব্দের সমন্বিত ব্যবহার দ্বারা বাংলা কাব্যভাষার শক্তি বৃদ্ধির প্রাথমিক কৃতিত্ব তার ঝুলিতে ঠাঁই পায়। এছাড়াও বিদেশি কবিতার সফল অনুবাদক হিসেবে সুখ্যাত। আরবি, ফারসি, চীনা, জাপানি, ইংরেজি ও ফরাসি ভাষার বহু কবিতা অনুবাদ করে তিনি বাংলা সাহিত্যের বৈচিত্র্য ও সমৃদ্ধি সাধন করেন। দেশাত্মবোধ, মানবপ্রীতি, ঐতিহ্যচেতনা, শক্তিসাধনা প্রভৃতি তার কবিতার বিষয়বস্তু। একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন কবি, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।

উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম

সবিতা (১৯০০), সন্ধিক্ষণ (১৯০৫), বেণু ও বীণা (১৯০৬), হোম শিখা (১৯০৭), ফুলের ফসল (১৯১১), কুহু ও কেকা (১৯১২), তুলির লিখন (১৯১৪), অভ্র-আবীর (১৯১৬), হসন্তিকা (১৯১৯), বেলা শেষের গান (১৯২৩), বিদায়-আরতি (১৯২৪), কাব্যসঞ্চয়ন (১৯৩০), শিশু-কবিতা (১৯৪৫) ইত্যাদি। তাঁর অনুবাদ কাব্যগুলি হলো: তীর্থরেণু (১৯১০), তীর্থ-সলিল (১৯১৮), মণিমঞ্জুষা (১৯১৫) এবং গদ্যরচনা জন্মদুঃখী (উপন্যাস, ১৯১২), চীনের ধূপ (প্রবন্ধ, ১৯১২), ছন্দ-সরস্বতী (প্রবন্ধ, ১৯১৯), রঙ্গমল্লী (নাট্যানুবাদ, ১৯১৩) ইত্যাদি।

জগদানন্দ রায়

জন্ম- ১৮৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে।

মৃত্যু- ১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে জুন শান্তিনিকেতনে।

বৈশিষ্টময় লেখনী: বিজ্ঞানধর্মী লেখার কারনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রিয় পাত্র হয়ে ওঠেন শৈশব থেকেই। বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করার উদ্দেশ্যে লিখেছেন বেশ কিছু বই। লেখনীতে রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদীর অনুপ্রেরণা স্পষ্ট। বাংলায় বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী রচনার অগ্রদূত তিনি। তার শুক্র ভ্রমণ নামক গ্রন্থের বিষয় ছিল অন্য গ্রহে মানুষের ভ্রমণ কাহিনী। মানুষ অন্য গ্রহে যাতায়াতের মাধ্যমে ইউরেনাস গ্রহে ভিনগ্রহী জীবের সাক্ষাৎ লাভ করে। সেই ভিনগ্রহী জীবের বিবর্তনের সাথে আধুনিক বিবর্তনবাদী তত্ত্বের আশ্চর্য মিল লক্ষ্য করা যায়।

ভিনগ্রহী জীবের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি যেসব বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন তা হল: তারা অনেকটা আমাদের পূর্বপুরুষ বানরদের প্রতিনিধিত্ব করে। তাদের শরীর ঘন কালো পশমে ঢাকা, শরীরের তুলনায় মাথা অস্বাভাবিক রকমের মোটা, লম্বা লম্বা নখ রয়েছে এবং তারা সম্পূর্ণ নগ্ন। তার এই বর্ণনা প্রকাশিত হয় এইচ জি ওয়েল্‌সের বিখ্যাত বিজ্ঞান কল্পকাহিনী দ্য ওয়ার অফ দ্য ওয়ার্ল্ডস প্রকাশিত হওয়ারও আগে। এই বইয়েও এইচ জি ওয়েল্‌স মঙ্গল গ্রহে ভিনগ্রহী জীবের বর্ণনা দিয়েছিলেন।

উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম

প্রকৃতি পরিচয় (১৩১৮), আচার্য জগদীশচন্দ্রের আবিষ্কার (১৩১৯), বৈজ্ঞানিকী (১৩২০), প্রাকৃতিকী (১৩২১), জ্ঞানসোপান (১৩২১), গ্রহনক্ষত্র (১৩২২), বিচিত্র সন্দর্ভ(১৩২৪), সাহিত্য সন্দর্ভ (১৩২৪), সুকুমার পাঠ (১৩২৫), কনক পাঠ (১৩২৫), চয়ন (১৩২৬), পোকামাকড় (১৩২৬), বিজ্ঞানের গল্প (১৩২৭), গাছপালা (১৩২৮), সাহিত্য সোপান (১৩২৯), আদর্শ স্বাস্থ্যপাঠ (১৩৩০), আদর্শ কাহিনী (১৩৩০), মাছ-বেঙ-সাপ (১৩৩০), বাংলার পাখী (১৩৩১), শব্দ (১৩৩১), পাখী (১৩৩১), বিজ্ঞান-প্রবেশ (১৩৩২), বিজ্ঞান-পরিচয় (১৩৩২), আলো (১৩৩৩), গদ্য ও পদ্য (১৩৩৩), সাহিত্য সৌরভ(১৩৩৩), সঞ্চয়ন (১৩৩৩), বিজ্ঞান-প্রকাশ (১৩৩৩), স্থির বিদ্যুৎ (১৩৩৫), চুম্বক (১৩৩৫), তাপ (১৩৩৫), চল বিদ্যুৎ (১৩৩৬), পর্যবেক্ষণ শিক্ষা (১৩৩৮), নক্ষত্র চেনা (১৯৩১)

সুধীন্দ্রনাথ দত্তঃ

জন্ম: ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে।

মৃত্যু: ১৯৬০ সালের ২৫ জুন কলকাতায়।

বৈশিষ্টময় লেখনী: সুধীন্দ্রনাথ ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম। ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শের অনুসারী ছিলেন। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান। তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।

উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম

কাব্য তন্বী (১৯৩০), অর্কেস্ট্রা (১৯৩৫), ক্রন্দসী (১৯৩৭), উত্তরফাল্গুনী (১৯৪০), সংবর্ত (১৯৫০), দশমী (১৯৫৬); গদ্যগ্রন্থ স্বগত (১৯৩৮), কুলায় ও কালপুরুষ (১৯৫৭), অনুবাদগ্রন্থ- প্রতিধ্বনি (১৯৫৪)।

নিউজনেক্সটবিডিডটকম/এসকেএস/টিএস


সর্বশেষ

আরও খবর

মুক্তিযুদ্ধে যোগদান

মুক্তিযুদ্ধে যোগদান


স্বাধীনতার ঘোষণা ও অস্থায়ী সরকার গঠন

স্বাধীনতার ঘোষণা ও অস্থায়ী সরকার গঠন


শিশু ধর্ষণ নিয়ে লেখা উপন্যাস ‘বিষফোঁড়া’ নিষিদ্ধ!

শিশু ধর্ষণ নিয়ে লেখা উপন্যাস ‘বিষফোঁড়া’ নিষিদ্ধ!


১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে

১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে


সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণে এলেন বেলারুশের সাংবাদিকেরা!

সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণে এলেন বেলারুশের সাংবাদিকেরা!


লুণ্ঠন ঢাকতে বারো মাসে তেরো পার্বণ

লুণ্ঠন ঢাকতে বারো মাসে তেরো পার্বণ


দ্য লাস্ট খন্দকার

দ্য লাস্ট খন্দকার


১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে

১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে


নিউ নরমাল: শহরজুড়ে শ্রাবণ ধারা

নিউ নরমাল: শহরজুড়ে শ্রাবণ ধারা


তূর্ণা নিশীথা

তূর্ণা নিশীথা