Monday, July 11th, 2016
সন্ত্রাসীকে ‘জঙ্গি’ বলবেন না
July 11th, 2016 at 10:49 pm
সন্ত্রাসীকে ‘জঙ্গি’ বলবেন না

বিধুনন জাঁ সিপাইঃ ‘সন্ত্রাস’ আর ‘জঙ্গি’ শব্দদুটি যেমন অর্থগত দিক থেকে ভিন্ন— তেমনি ক্রিয়াগতও তফাত আছে। দুইটারে এক করে ফেলবেন না। গুলশান কিংবা শোলাকিয়া এইগুলা পুরামাত্রাই সন্ত্রাসী ঘটনা, এইগুলারে জঙ্গি কর্মকান্ড কইবেন না। জঙ্গি (বিপ্লবী) ঘটনা আমরা ঘটাইছি ‘৭১ এ। ঐ সময়কার পত্রিকার দিকে তাকান। মুক্তিযোদ্ধাদের জঙ্গি হিসাবে তুলনা করা হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধাদের বলা হচ্ছে ‘জঙ্গি জনতা’।

‘কিন্তু পাকিস্তানীদের কাছে আমরা ছিলাম সন্ত্রাসী’

‘৭১ এ আমরা একটা স্বাধীন রাষ্ট্র ব্যবস্থা চাচ্ছিলাম, নিরপেক্ষ ভূমি। কিন্তু পাকিস্তানীদের কাছে আমরা ছিলাম সন্ত্রাসী। আমাদেরকে দোষারোপ করা হচ্ছিল, আমরা জনগনকে সন্ত্রস্ত করছি। কিন্তু আমরা বাঙালীরা জানতাম যে আমরা কাউকে সন্ত্রস্ত করছি না, আমরা চাই আমাদের ভূমির স্বাধীকার, আমাদের একান্ত রাষ্ট্র ব্যবস্থা। কারন পাকিস্তানে আমাদের ন্যায্য দাবী অগ্রাহ্য হচ্ছে। খেয়াল করুন, জিন্না সাহেব ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে, ব্রিটিশ সরকারের চোখে সন্ত্রাসী। কিন্তু তার জনগন তাকে মানে বিপ্লবী নেতা হিসেবে। সেই পাকিস্তানে যখন শেখ মুজিব স্বাধীকার আন্দোলন চালাচ্ছে তখন জিন্নাহর পাকিস্তান শেখ মুজিবকে সন্ত্রাসীদের নেতা বলছে।

আমরা বলতে পারি, বাংলাদেশে জঙ্গি কার্যক্রম হচ্ছে না। যা হচ্ছে সেগুলা স্রেফ সন্ত্রাসীপনা। কারন এখানে যারা গোলাগুলি করে ভূমির স্থানীয়দের মারছে তাদের আসলে সুনির্দিষ্ট কোনো মৌলিক দাবী নাই। এনারা বিশ্ব পুঁজিপতিদের দখলবাদী নীতির এজেন্ট। সাম্রাজ্য স্থাপন করতে গেলে যে ছুতা নিয়া এখানে দখল চালাইতে হবে তার রুপ হইল গুলশান কিংবা শোলাকিয়া। গুলশান অথবা শোলাকিয়া কিংবা ISIS এগুলা জঙ্গি কার্যক্রম না।

‘এগুলারে বিপ্লব কইবেন না, এগুলা পুঁজির সম্প্রসারণের জন্য দরকার’

এগুলারে বিপ্লব কইবেন না, এগুলা পুঁজির সম্প্রসারণের জন্য দরকার। অস্ত্রের ব্যবসা, ভূমির ব্যবসা, সস্তা শ্রমিকের জন্য এইসব হাঙ্গামা চালানোর দরকার পড়ে আন্তর্জাতিক সাম্রাজ্যবাদীদের। ইসলামের এমন কোন কহর অবস্থা তৈরি হয় নাই এখানে যে জেহাদ বা ধর্মযুদ্ধ করা লাগবে। কিংবা এনারা এমন কোন নৈতিক অবস্থা নিয়াও লড়াই করেন না, যার জন্য এনাদের জঙ্গি বা বিপ্লবী করা লাগবে। মনে রাখবেন, কাশ্মীরে যে যুদ্ধ করতাছে কিংবা ফিলিস্তিনে যারা তার মাতৃভূমির জন্য অন-আরব দের বিপক্ষে লড়ছে এনারা জঙ্গি। এনাদের সাথে আমাদের এখানে যারা গুলশান কিংবা শোলাকিয়ায় হামলা চালায় এদের কোন মিল নাই। এরা স্রেফ সন্ত্রাস এবং ইসরাইল আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট।

তাই সন্ত্রাস সৃষ্টিকারীকে সন্ত্রাসী নামেই ডাকুন তাকে জঙ্গির সাথে মিলিয়ে ফেললে, দেখা যাবে যদি ভবিষ্যত বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সাম্রাজ্যবাদীদের বিপক্ষে বাঙালীদের লড়াই করতে হয় তখন আমাদের কে জঙ্গি বুঝাচ্ছে, আর আপনার মাথায় জঙ্গি হিসাবে যেহেতু সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অর্থ হিসেবে আছে তখন আপনি বাঙালীদের চিরন্তন বিপ্লব কে সন্ত্রাসী কার্যক্রম কইবেন।

অতএব, সাবধানে থাকুন শব্দ ব্যবহারে।

Bidhnun Ja Sipaiলেখক: কবি


সর্বশেষ

আরও খবর

আমি বাংলার, বাংলা আমার, ওতপ্রোত মেশামেশি…

আমি বাংলার, বাংলা আমার, ওতপ্রোত মেশামেশি…


শেখ হাসিনার ৭৪ তম জন্মদিন: ‘পুতুল’ খেলার আঙিনায় বেজে উঠুক ‘জয়’র বাঁশি

শেখ হাসিনার ৭৪ তম জন্মদিন: ‘পুতুল’ খেলার আঙিনায় বেজে উঠুক ‘জয়’র বাঁশি


বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর আগেই পাকিস্তান ক্ষমা চাইবে ?

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর আগেই পাকিস্তান ক্ষমা চাইবে ?


শেখ হাসিনা কতোখানি চ্যালেঞ্জিং এখনো?

শেখ হাসিনা কতোখানি চ্যালেঞ্জিং এখনো?


প্রণব মুখোপাধ্যায় : বিশ্ব-রাজনীতির মহাপ্রাণ

প্রণব মুখোপাধ্যায় : বিশ্ব-রাজনীতির মহাপ্রাণ


দয়া করে ক্রসফায়ারের স্ক্রিপ্টটি ছিঁড়ে ফেলুন

দয়া করে ক্রসফায়ারের স্ক্রিপ্টটি ছিঁড়ে ফেলুন


দক্ষিণ এশিয়াঃ সীমান্তবিহীন এক অবিভাজিত অচলায়তন

দক্ষিণ এশিয়াঃ সীমান্তবিহীন এক অবিভাজিত অচলায়তন


লুণ্ঠন ঢাকতে বারো মাসে তেরো পার্বণ

লুণ্ঠন ঢাকতে বারো মাসে তেরো পার্বণ


লেটস্ কল অ্যা স্পেড অ্যা স্পেড!

লেটস্ কল অ্যা স্পেড অ্যা স্পেড!


পররাষ্ট্রনীতিতে, ম্যারেজ ইজ দ্য এন্ড অফ লাভ

পররাষ্ট্রনীতিতে, ম্যারেজ ইজ দ্য এন্ড অফ লাভ