Sunday, August 28th, 2016
‘সব জায়গায় আমরা কথা বলতে পারি না’
August 28th, 2016 at 8:24 pm
‘সব জায়গায় আমরা কথা বলতে পারি না’

ঢাকা: বিচারবিভাগ পৃথকীকরণ সংক্রান্ত মাসদার হোসেন মামলায় আদালতের রায়ের পরিপন্থী কোনো আইন না করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহা। তিনি বলেন, মন্ত্রীরা মিটিংয়ে অনেক কথা বলেন। আমরা মিটিংয়ে বলতে পারি না। তাই আদালতে বলি।

রোববার দুপুরে মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধি প্রণয়ন না হওয়ায় এ বিষয়ে চলমান মামলার শুনানিকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।

আইন মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা বিধিতে সুপ্রিম কোর্টের কমিটির মতামতসহ সেটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়কে এই বিধি গেজেট করে তা আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে। আদালত এই মামলা নিয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী ৬ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন।  সঙ্গে সঙ্গে ব্যারিস্টার এম আমির উল ইসলামকে এ সংক্রান্ত মতামত দেয়ার জন্য বলেছেন আদালত।

রোববার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র  কুমার (এসকে)সিনহার নেতৃত্বে নয় সদস্যের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ পরবতর্তী শুনানির দিন ঠিক করে এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অন্য বিচারপতিরা হলেন- বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার, বিচারপতি মো. নিজামুল হক এবং বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান। আদালতে আজ আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এম. আমীর-উল ইসলাম। অপরদিকে রাষ্টপ্রক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শৃঙ্খলা বিধান সংক্রান্ত বিষয়ে একটি বিধিমালা করতে মাসদার হোসেন মামলায় নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু রায় প্রদানের দেড় দশকেও সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হয়নি। সর্বশেষ আইন মন্ত্রণালয় থেকে একটি বিধি প্রণয়ন করে মতামতের জন্য সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো হয়েছে। মাসদার হোসেন মামলার রায় বাস্তবায়ন সংক্রান্ত মামলার শুনানিকালে সেই বিধির বিষয়ে প্রধান বিচারপতি এ মন্তব্য করেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, আশা করছি বিচার বিভাগের শৃঙ্খলা নিয়ে এমন কোনো আইন করবেন না যেটা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থী হয়। সংবিধান ও রায়ের পরিপন্থী আইন না করলে আমরা গায়ে পড়ে তো কিছু করতে চাই না। সরকাররি কর্মচারীদের জন্য যে আইন বিচার বিভাগের জন্য তো সেটা করতে পারেন না।

তিনি বলেন, আমি এক পাবলিক মিটিংয়ে ছিলাম। মন্ত্রী ওই মিটিংয়ে পাবলিকের সামনে কথা বলেছেন, আমরা পাবলিক মটিংয়ে বলতে পারি না। আমরা আদালতে বলি।

তিনি আরো বলেন, আমরা বলেছি মাসদার হোসেন মামলার আলোকে বিধি প্রণয়ন করবেন। বিচার বিভাগের জন্য তো মাসদার হোসেন মামলার ৭ নম্বর নির্দেশনায় শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়ে বলা হয়েছে। যেটা সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের আলোকে হতে হবে। এক বছর আগে আমরা দাঁড়ি, কমাসহ সেটা ঠিক করে দিয়েছি। মাসদার হোসেন মামলার রায়ের ১৫ বছর পরও শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিধি না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আদালত।

পরে আদালতের বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিচার বিভাগ পৃথক হওয়ার পর বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের চাকরি, বরখাস্তকরণের আইন প্রণয়ন এতোদিনেও হয়নি। সরকারি কর্মচারীদের মতো বিধি এখানে প্রয়োগ করা হচ্ছে। আপিল বিভাগ বলেছে, বহু আগেই এ ব্যাপারে রুলস প্রণয়ন করার জন্য।

বিধি প্রণয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে তারা যে রুলস প্রণয়ন করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠিয়েছে, তা আদালতের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। মাসদার হোসেন মামলার রায়ে ৭ নম্বর দফায় উল্লেখ আছে, বিচার বিভাগীয় কর্মচারীদের ব্যাপারে যে রুলস প্রণয়ন করা হবে, তাতে প্রশাসনের চেয়ে বিচার বিভাগের মতামতই প্রাধান্য পাবে।’

সরকার প্রণীত বিধি মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে হয়নি বলে আদালত মন্তব্য করেছেন উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের মতে, সরকার যে রুলস পাঠিয়েছে, তাতে মাসদার হোসেন মামলায় যেভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সেভাবে নাই। সেটা সুপ্রিম কোর্টের একটা কমিটি করে, রুলসটাকে সরকারি রুলসের সাথে সংযোজন করে যেটা প্রণয়ন করেছে, সেটাকে বিবেচনা করার জন্য তারা আদেশ দিয়েছে।’

আদালত এই রুলসটি গেজেট আকারে প্রকাশের জন্য নির্দেশ দিতে চেয়েছিলেন। তবে অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতকে বলেছেন সরাসরি আইন প্রণয়নের নির্দেশ এভাবে বিচার বিভাগ দিতে পারে না। তিনি বলেন, ‘আমি বলেছি, বিচার বিভাগ আইন বিভাগকে আইন প্রণয়নের জন্য সরাসরি বলতে পারে না। কারণ বিচার বিভাগের কাজ বিচার করা, আইন বিভাগের কাজ আইন করা। জিনিসটা সুপ্রিম কোর্টের ইচ্ছাটা প্রতিফলিত হোক, আদেশ আকারে যেন না যায়।’

১৯৮৯ সালে সরকার বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কিছু পদের বেতন স্কেল বৃদ্ধি করে। এতে অন্য ক্যাডারদের সঙ্গে অসঙ্গতি দেখা দেয়। তৎকালীন সরকার এই অসঙ্গতি দূর করার জন্য ১৯৯৪ সালের ৮ জানুয়ারি জজ আদালতের বেতন স্কেল বাড়িয়ে দেয়। প্রশাসন ক্যাডারের আপত্তির মুখে সরকার ওই বেতন স্কেল স্থগিত করে।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের তৎকালীন মহাসচিব মাসদার হোসেনসহ ৪৪১ জন বিচারক ১৯৯৫ সালে হাইকোর্টে একটি রিট মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ১৯৯৭ সালে হাইকোর্ট পাঁচ দফা সুপারিশসহ ওই মামলার রায় দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে আপিল বিভাগ ১৯৯৯ সালে ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার ঐতিহাসিক রায়টি দেন। মাসদার হোসেন মামলার রায় ঘোষণার আট বছর পর বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করা হয়।

প্রতিবেদক- ফজলুল হক, সম্পাদনা- জাহিদুল ইসলাম


সর্বশেষ

আরও খবর

৪২ ও ৪৩তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

৪২ ও ৪৩তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ


করোনায় আরও ৩০ জনের মৃত্যু, ৭৮ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্ত

করোনায় আরও ৩০ জনের মৃত্যু, ৭৮ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্ত


ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় মজনুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় মজনুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড


মানুষের জন্য কিছু করতে পারাই আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

মানুষের জন্য কিছু করতে পারাই আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী


আনিসুল হত্যা: মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের রেজিস্ট্রার গ্রেপ্তার

আনিসুল হত্যা: মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের রেজিস্ট্রার গ্রেপ্তার


পাওয়ার গ্রিডের আগুনে বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন পুরো সিলেট, ব্যাপক ক্ষতি

পাওয়ার গ্রিডের আগুনে বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন পুরো সিলেট, ব্যাপক ক্ষতি


দুইদিনের বিক্ষোভের ডাক বিএনপির

দুইদিনের বিক্ষোভের ডাক বিএনপির


বাস পোড়ানোর মামলায় বিএনপির ২৮ নেতাকর্মী রিমান্ডে

বাস পোড়ানোর মামলায় বিএনপির ২৮ নেতাকর্মী রিমান্ডে


অবশেষে পাঁচ বছর পর নেপালকে হারালো বাংলাদেশ

অবশেষে পাঁচ বছর পর নেপালকে হারালো বাংলাদেশ


মাইন্ড এইড হাসপাতালে তালা, মালিক গ্রেপ্তার

মাইন্ড এইড হাসপাতালে তালা, মালিক গ্রেপ্তার