Tuesday, September 6th, 2016
সলিলদা: লাল সালাম!
September 6th, 2016 at 2:01 pm
সলিলদা: লাল সালাম!

বিধুনন জাঁ সিপাইঃ

 

‘গ্রাম নগর মাঠ পাথার বন্দরে তৈরী হও

কার ঘরে জ্বলেনি দীপ চির আঁধার তৈরী হও

কার বাছার জোটেনি দুধ শুকনো মুখ তৈরী হও

ঘরে ঘরে ডাক পাঠাই তৈরী হও জোট বাঁধো

মাঠে কিষান কলে মজুর নওজোয়ান জোট বাঁধো’

 

ক্ষুধা, যুদ্ধ আর অনাচারের বিপক্ষে সদা উচ্চারিত হয় মহতের বানী। মহতের আহবানে ঘর ছেড়ে বের হয় মানুষের সন্তানেরা। বেঁচে থাকার অদম্য ইচ্ছা আর বাঁচিয়ে রাখার সুবিশাল অঙ্গীকার নিয়েই এই ধরাধামে আসে দেবদূতের ন্যায় একেকজন মানুষ।

সলিল চৌধুরী’র কথা বলছি আমরা। ছয় সেপ্টেম্বর মহান এই স্রষ্টার একবিংশতম মহাপ্রয়ান দিবস। আধুনিক বাংলা গানের সুরস্রষ্টা হিসেবে এবং গণসংগীতের প্রণেতা হিসেবে তিনি একজন স্মরণীয় বাঙালি। একাধারে ভারতীয় সঙ্গীত পরিচালক, গীতিকার, সুরকার ,গল্পকার এবং কবি। তার সঙ্গীত প্রতিভা মূলত ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পে ব্যাপকভাবে আলোড়িত। তার মৌলিক কবিতাগুলোর জন্যে তিনি ব্যাপকভাবি নন্দিত এবং প্রশংসিত।  সলিল চৌধুরী দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার রাজপুর সোনারপুর অঞ্চলের গাজিপুরে জন্মগ্রহণ করেন ১৯২৩ সালে। তার বাবা জ্ঞানেন্দ্রময় চৌধুরী, আসামের লতাবাড়ি চা বাগানে ডাক্তারি করতেন। বাবার কাছেই সলিল চৌধুরীর সংগীত শিক্ষার হাতেখড়ি। পিতৃব্য নিখিল চৌধুরীর কাছেও সংগীতের তালিম গ্রহণ করেন তিনি শৈশবে। পরিচিতদের কাছে তিনি ‘সলিল দা’ বলেই স্বীকৃত।

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ চলছিল তখন। খুব কাছ থেকে দুর্ভিক্ষের করুন রুপ দেখছেন সলিল চৌধুরী। দেখছেন চল্লিশের দশকের রাজনৈতিক অস্থিরতার ঘুর্ণিপাক। আশে-পাশের কঠিন এসব বাস্তব সত্যই গানের কথায় আঁচড় কাটল সলিল চৌধুরীর হৃদয়ে। যোগ দিলেন ‘ইন্ডিয়ান পিপলস থিয়েটার অ্যাসোসিয়েসান’ এবং নাম লেখালেন ভারতের কমিউনিষ্ট পার্টিতেও। এই সময়েই প্রতিবাদী গান কম্পোজ করা শুরু করলেন। থিয়েটার কে নিয়ে গেলেন গ্রামবাংলার তৃণমূল মানুষের কাছে।

সলিলের প্রতিবাদী গানে তখন মানুষ উদ্বেলিত

‘ধিতাং ধিতাং বোলে

এ মাদলে তাল তুলে

আয় ছুটে সকলে …’

সলিল চৌধুরী গনসঙ্গীতকে বলতেন, ‘জাগরনের গান’, ‘চেতনার গান’। এই সময়েও সলিল চৌধুরীর গানের আবেদন বিন্দুমাত্র কমেনি বাঙাগালীর বিপ্লবী মানসে। মধ্য-পঞ্চাশ এর দিকে বোম্বে যেতে আগ্রহী হলেন সলিল।

তারপরই খুলে দিলেন আরেক সুরের দুয়ার। সর্বভারত দেখল এক বাঙাল সূর্য।  আগেই অবশ্য শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের জগতে আলাউদ্দীন খাঁ, রবীশঙ্কর প্রমূখের বাদনে মুগ্ধ হয়েছিল গোটা ভারতবর্ষ। এবার দেখল এক বাঙাল সুরকারের সিনেমা গানের নেশাধরা চমক।

তার প্রথম বাংলা চলচ্চিত্র ‘পরিবর্তন’ মুক্তি পায় ১৯৪৯ সালে। তার ৪১টি বাংলা চলচ্চিত্রের সর্বশেষ চলচ্চিত্র ছিল ‘মহাভারতী’ যা ১৯৯৪ সালে মুক্তি পায়। ১৯৫৩ সালে বিমল রায় পরিচালিত ‘দো ভিঘা জামিন’ চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে সলিল চৌধুরীর হিন্দি চলচ্চিত্র শিল্পে অভিষেক ঘটে। সলিল চৌধুরীর ছোট গল্প ‘রিকসাওয়ালা’ অবলম্ভনে এই চলচ্চিত্রটি তৈরি করা হয়েছিল। এই চলচ্চিত্রটি তার কর্মজীবনকে নতুন মাত্রা যোগ করে যখন এটি প্রথমে ফিল্মফেয়ার সেরা চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং কান চলচ্চিত্র উৎসবে আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতে নেয়।

তিনি প্রায় ৭৫টির বেশি হিন্দি, ৪০টির বেশি বাংলা, প্রায় ২৬টি মালয়ালাম এবং বেশ কিছু মারাঠী, তামিল, তেলেগু, কান্নাডা, গুজরাটি, ওড়িয়া এবং অসামীয়া চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালনা করেন।

সলিল চৌধুরীর সুবিশাল কর্মময় জীবন নানা অধ্যায়, উপ-অধ্যায়ে বিভক্ত। সামাজিক অন্যায়, রাষ্ট্রীয় অনাচার আর শোষনের বিপক্ষে সলিল চৌধুরী এক অনবদ্য শিরোনাম।

সম্পাদনা- এস. কে. সিদ্দিকী


সর্বশেষ

আরও খবর

প্রয়াণের ২১ বছর…

প্রয়াণের ২১ বছর…


করোনায় আরও ৩০ জনের মৃত্যু, ৭৮ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্ত

করোনায় আরও ৩০ জনের মৃত্যু, ৭৮ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্ত


ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় মজনুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় মজনুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড


মানুষের জন্য কিছু করতে পারাই আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

মানুষের জন্য কিছু করতে পারাই আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী


আনিসুল হত্যা: মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের রেজিস্ট্রার গ্রেপ্তার

আনিসুল হত্যা: মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের রেজিস্ট্রার গ্রেপ্তার


পাওয়ার গ্রিডের আগুনে বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন পুরো সিলেট, ব্যাপক ক্ষতি

পাওয়ার গ্রিডের আগুনে বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন পুরো সিলেট, ব্যাপক ক্ষতি


দুইদিনের বিক্ষোভের ডাক বিএনপির

দুইদিনের বিক্ষোভের ডাক বিএনপির


বাস পোড়ানোর মামলায় বিএনপির ২৮ নেতাকর্মী রিমান্ডে

বাস পোড়ানোর মামলায় বিএনপির ২৮ নেতাকর্মী রিমান্ডে


অবশেষে পাঁচ বছর পর নেপালকে হারালো বাংলাদেশ

অবশেষে পাঁচ বছর পর নেপালকে হারালো বাংলাদেশ


মাইন্ড এইড হাসপাতালে তালা, মালিক গ্রেপ্তার

মাইন্ড এইড হাসপাতালে তালা, মালিক গ্রেপ্তার