Wednesday, July 6th, 2022
সাংবাদিকের বর্ণনায় গ্রেনেড হামলা
August 20th, 2016 at 10:40 pm
সাংবাদিকের বর্ণনায় গ্রেনেড হামলা

ঢাকা: বিভীষিকাময় ২১ আগস্ট রোববার। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ১২তম বার্ষিকী। সেদিন ওই সমাবেশের সংবাদ সংগ্রহ করতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এনটিভি’র তখনকার বিশেষ প্রতিনিধি বায়েজিদ খান মিল্কি।

এখন প্রধান বার্তা সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন বেসরকারী চ্যানেল একাত্তর টেলিভিশনে। নিউজনেক্সটবিডি ডটকম’র প্রতিবেদক প্রীতম সাহা সুদীপ’কে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি তুলে ধরেছেন দিনটির ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা।

বায়েজিদ মিল্কি বলেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দিন আওয়ামী লীগের সমাবেশ কভারেজের অ্যাসাইনমেন্ট ছিল আমার। তখন আমি এনটিভিতে কাজ করতাম। কিন্তু শেখ হাসিনার প্রোগ্রামে এনটিভিকে ঢুকতে দেয়া হতো না। তাই আমরা সমাবেশস্থলে ট্রাকের তৈরী মঞ্চের সামনে দাঁড়াতে পারিনি। বাধ্য হয়ে পার্টি অফিসের পাশের রমনা ভবনের ছাদে গিয়ে আমি ও আমার ক্যামেরাম্যান প্রোগ্রাম কাভারেজ শুরু করি।’

‘বিকাল পাঁচটা ২২ মিনিটে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য শেষ হওয়ার পর আমরা রমনা ভবনের ছাদ থেকে নিচে নামতে থাকি। দোতলা পর্যন্ত নামতেই ব্যাপক শব্দে মঞ্চের ঠিক সামনেই গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটে। আওয়াজ শুনে আমরা দোতলা থেকে নিচে তাকাই।’

দেখি প্রচুর মানুষ প্রাণ বাঁচাতে এদিক ওদিক ছুটোছুটি করছে। আর কিছু মানুষ মঞ্চের সামনে মৃতের মতো পড়ে আছে। এ সময় আমরা দোতলা থেকেই চিত্রধারণ করতে থাকি। কিন্তু রমনা ভবনের মেইন গেটে তালা দিয়ে দিচ্ছে দেখে আমি ক্যামেরাম্যানকে বলি এখানে থাকলে পরে আর বের হতে পারবো না, আগে নিচে যাই। এরই মধ্যে আরো পর পর ১১টি গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয় যা উপর থেকে পড়ছিল,’ এভাবেই ভয়াবহ সেই হামলার বর্ণনা দেন এই সাংবাদিক।

বায়েজিদ খান মিল্কি বলেন, ‘রমনা ভবনের মেইন গেইট দিয়ে বের হতেই দেখা হয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথের সাথে। তিনি আহত অবস্থায় আমাকে বলেন, ভাই আমাকে হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু সেখান থেকে তাকে হাসপাতালে পাঠানোর জন্য কোন পরিবহন ব্যবস্থা তখন ওই এলাকায় ছিল না। পরে একটি মটরসাইকেলের মাধ্যমে আমরা পঙ্কজ দেবনাথকে সেখান থেকে পাঠিয়ে দেই।’

‘এ সময় আমরা চারিদিকে ভয়াল চিৎকার আর আর্তনাদ শুনতে পাই। এরই মধ্যে হঠাৎ কোথা থেকে সাংবাদিক আশরাফুল আলম খোকন এসে বলেন মিল্কি ভাই আমাকে বাঁচান। তাকিয়ে দেখি তার সারা শরীর রক্তে ভিজে গেছে। তখন আমরা একটি ভ্যানের ব্যবস্থা করে তাৎক্ষণিক তাকে হাসপাতালে পাঠাই।’

‘এর কিছুক্ষণ পরই শেখ হাসিনা তার গাড়ি বহর নিয়ে পার্টি অফিস থেকে বেরিয়ে যান। তখন আমি অফিসে ফোন করে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের ঘটনা বিস্তারিত জানাই এবং বলি যে আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ফুটেজ আছে। তখন আমাকে অফিসে যাওয়ার কথা বললে আমি ঘটনাস্থল ত্যাগ করি।’

সম্পাদনা: সজিব ঘোষ


সর্বশেষ

আরও খবর

সংসদে ৬,৭৮,০৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব

সংসদে ৬,৭৮,০৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব


আ’লীগ নেতা বিএম ডিপোর একক মালিক নন

আ’লীগ নেতা বিএম ডিপোর একক মালিক নন


চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় বাংলাদেশ

চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় বাংলাদেশ


ভোজ্যতেল ও খাদ্য নিয়ে যা ভাবছে সরকার

ভোজ্যতেল ও খাদ্য নিয়ে যা ভাবছে সরকার


তৎপর মন্ত্রীগণ, সীতাকুণ্ডে থামেনি দহন

তৎপর মন্ত্রীগণ, সীতাকুণ্ডে থামেনি দহন


অত আগুন, এত মৃত্যু, দায় কার?

অত আগুন, এত মৃত্যু, দায় কার?


যে গল্প এক অদম্য যোদ্ধার

যে গল্প এক অদম্য যোদ্ধার


আফগান ও ভারতীয় অনুপ্রবেশ: মে মাসে আটক ১০

আফগান ও ভারতীয় অনুপ্রবেশ: মে মাসে আটক ১০


সীমান্ত কাঁটাতারে বিদ্যুৎ: আলোচনায় বিজিবি-বিজিপি

সীমান্ত কাঁটাতারে বিদ্যুৎ: আলোচনায় বিজিবি-বিজিপি


চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর সরকার

চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর সরকার