Wednesday, August 10th, 2016
সাখাওয়াতের মৃত্যুদণ্ড, ৭ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড
August 10th, 2016 at 12:37 pm
সাখাওয়াতের মৃত্যুদণ্ড, ৭ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড

ঢাকা: মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে যশোরের সাবেক সংসদ সদস্য সাখাওয়াত হোসেনকে (৬২) মৃত্যুদণ্ড এবং সাত জনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বুধবার সংখ্যাঘরিষ্ঠের মতে ভিত্তিতে এই রায় দেন।

আসামিদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা পাঁচ অভিযোগের সবগুলোই প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম অভিযোগে আসামিদের চারজন, দ্বিতীয় অভিযোগে আটজন, তৃতীয় অভিযোগে চারজন, চতুর্থ অভিযোগে পাঁচজন এবং পঞ্চম অভিযোগে ছয়জন আসামি ছিলেন।

বুধবার বেলা ১১টায় বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ৭৬৮ পৃষ্ঠার রায় পড়া শুরু করেন।

এর আগে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এ মামলায় কারাগারে আটক দুই আসামি সাবেক এমপি সাখাওয়াত হোসেন ও মো. বিল্লাল হোসেন বিশ্বাসকে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় হাজির করা হয়। তাদের উপস্থিতিতে রায় পড়া শুরু করে ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে গত ১৪ জুলাই ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন।

এ মামলায় সাখাওয়াত হোসেন ছাড়া অপর ৮ আসামিরা হলেন- মো. বিল্লাল হোসেন (৭৫), মো. ইব্রাহিম হোসেন (৬০), শেখ মোহাম্মদ মুজিবর রহমান (৬১), মো. আ. আজিজ সরদার (৬৫), এ আজিজ সরদার (৬৬), কাজী ওহিদুল ইসলাম (৬১), মো.লুৎফর মোড়ল (৬৯), আব্দুল খালেক মোড়ল (৬৮)।

প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা জানান, ৮ আসামির মধ্যে সাখাওয়াত হোসেনসহ ৩ জনকে গ্রেফতারের পর কারাগারে পাঠানো হয়। তবে তিন জনের মধ্যে মো. লুৎফর মোড়ল (৬৯) অসুস্থতার কারণে মারা গেছেন। এখন কারাগারে আটক মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন ও মো. বিল্লাল হোসেন। বাকি পাঁচ জন পালাতক রয়েছেন।

মঙ্গলবার রায় ঘোষণার জন্য দিন ঠিক করেন আদালত। ১২ জুলাই রাষ্ট্রপক্ষে প্রসকিউশনের যুক্তি উপস্থাপন শেষ করার পর আসামি পক্ষে তাদের প্রাথমিক যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন। পর-পর দুই দিন (বুধ ও বৃহস্পতিবার) মামলায় সর্বশেষ যুক্তি উপস্থাপন করার পরে মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য নির্ধারণ করেন।

অপরদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী আব্দুস সাত্তার পালোয়ান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য এবং ভিত্তিহীন সাক্ষী আনা হয়েছে আদালতে। আমরা আশা করছি আসামিরা ন্যায় বিচার পাবে এবং অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাবেন।’ এর আগে গত ৯ ফ্রেব্রুয়ারি থেকে এই মামলায় প্রসিকিউশনের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউশনের আনা ১৭ জন সাক্ষী তদের জবানবন্দি পেশ করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষে কোনও সাফাই সাক্ষী ছিল না।

গত ২৩ ডিসেম্বর এই ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর ৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। গত ১৪ জুন তাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ  মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচ অভিযোগ আনেন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। তাদের মধ্যে মোট ১২ আসামির মধ্যে বাকী তিনজনের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাদেরকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।

গত ১৬ জুন সাখাওয়াতসহ আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন। এর আগে আদালত ৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আত্মসমর্পণের আদেশ এবং নির্দেশনার পর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পালাতক আসামিরা তাতে সাড়া দিয়ে উপস্থিত হয়নি।

২০১২ সালের ১ এপ্রিল থেকে এ মামলায় তদন্ত শুরু করে গত ১৪ জুন শেষ করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক খান। ১৯৯১ সালে জামায়াতের পক্ষে নির্বাচনে দাঁড়িয়ে যশোর-৬ আসন থেকে শাখাওয়াত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্তু মেয়াদপূর্তির আগেই জামায়াত ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন। মাওলানা সাখাওয়াত গত সংসদ নির্বাচনে যশোর-৬ আসন থেকে তিনি জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন।

পাঁচ অভিযোগ: যশোরের কেশবপুর উপজেলার বোগা গ্রামে এক নারীকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন এবং ধর্ষণ। ২. একই উপজেলার চিংড়া গ্রামের চাঁদতুল্য গাজী ও তার ছেলে আতিয়ারকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও হত্যা। ৩. কেশবপুরের চিংড়া গ্রামের মো. নুরুদ্দিন মোড়লকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন। ৪. কেশবপুরের হিজলডাঙার আ. মালেক সরদারকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও খুন। ৫. কেশবপুরের মহাদেবপুর গ্রামের মিরন শেখকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন এবং ওই গ্রামে অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠন।

১৯৫৪ সালে যশোরের হিজলডাঙ্গা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।  ১৯৬৯ সালে ফাজিল পাস করেন। খুলনার আলিয়া মাদ্রাসা থেকে ১৯৭১ সালে কামিল পরীক্ষা দিলেও সে বছরের পরীক্ষা বাতিল হয়ে যাওয়ার কারণে পরের বছর আবারো পরীক্ষা দিতে হয় সাখাওয়াতকে।

১৯৭৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ থেকে এম এ পাস করেন সাখাওয়াত। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে। ১৯৮১ সালে  অ্যাকাউন্টেন্ট জেনারেল (এজি) অফিসে চাকরি নেন সাখাওয়াত। ১৯৮৬ সালে হন জামায়াতে ইসলামীর ‘রুকন’।

১৯৯১ সালের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে যশোর-৬ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন এই যুদ্ধাপরাধী। এরপর জামায়াত ছেড়ে যোগ দেন বিএনপিতে; ১৯৯৬ সালে আবারো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে সাখাওয়াত যোগ দেন জাতীয় পার্টিতে। ২০১৪ সালের নির্বাচনেও যশোর-৬ আসন থেকে তিনি জাতীয় পার্টির মনোনয়ন পেয়েছিলেন।

নিউজনেক্সটবিডি ডটকম/এফএইচ/এমএস/ওয়াইএ/জাই


সর্বশেষ

আরও খবর

মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে নির্দেশ মন্ত্রিসভার

মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে নির্দেশ মন্ত্রিসভার


আপাতত বন্ধ হচ্ছে না ইন্টারনেট-ক্যাবল টিভি

আপাতত বন্ধ হচ্ছে না ইন্টারনেট-ক্যাবল টিভি


বাংলাদেশ থেকে ষ্টুডেন্ট ভিসা এবং ওয়ার্ক পারমি‌ট নিয়ে ৭০টি পেশার মানুষের ব্রিটেনে প্রবেশের পথ উম্মোক্ত হল

বাংলাদেশ থেকে ষ্টুডেন্ট ভিসা এবং ওয়ার্ক পারমি‌ট নিয়ে ৭০টি পেশার মানুষের ব্রিটেনে প্রবেশের পথ উম্মোক্ত হল


ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ


আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম

আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম


রাঙ্গামাটিতে ইউপিডিএফ-সেনাবাহিনী গুলি বিনিময়: নিহত ২

রাঙ্গামাটিতে ইউপিডিএফ-সেনাবাহিনী গুলি বিনিময়: নিহত ২


গালিগালাজের ভয়েস নিজের না দাবি নিক্সন চৌধুরীর

গালিগালাজের ভয়েস নিজের না দাবি নিক্সন চৌধুরীর


ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, অধ্যাদেশে রাষ্ট্রপতির সই

ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, অধ্যাদেশে রাষ্ট্রপতির সই


রাজধানীর প্রায় অর্ধেক মানুষ করোনায় আক্রান্ত

রাজধানীর প্রায় অর্ধেক মানুষ করোনায় আক্রান্ত


ধর্ষণবিরোধী মহাসমাবেশ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৯ দাবি

ধর্ষণবিরোধী মহাসমাবেশ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৯ দাবি