Saturday, December 31st, 2016
সাধারণের সঞ্চয়ে ঋণগ্রস্ত সরকার
December 31st, 2016 at 4:26 pm
সাধারণের সঞ্চয়ে ঋণগ্রস্ত সরকার

ঢাকা: বছরের শেষ প্রান্তে এসে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে সঞ্চয় পত্রে সাধারণের বিনিয়োগ। প্রতিদিনই বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র। ক্রমবর্ধমান এ চাহিদায় বাজেট ঘাটতি মেটাতে বছরের শেষ পাঁচ মাসেই সরকার নিয়ে ফেলেছেন পুরো অর্থবছরের লক্ষমাত্রার বেশি ধার। ব্যাংকগুলোর তুলনায় মুনাফা বেশি পাওয়ায় সঞ্চয়পত্র ক্রয়ে বিনিয়োগকারীদের এ আগ্রহ বেড়েছে বলে জানা গেছে।

তবে সঞ্চয়পত্র বিক্রির এ বর্ধমান পরিস্থিতিকে শঙ্কায় ফেলেছে অর্থনীতিবীদদের। তাদের মতে, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ অতিরিক্ত হলে এবং এই খাত থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রার বেশি হয়ে গেলে, সরকারকে বিপুল পরিমাণ সুদ গুনতে হবে, যা ভবিষ্যতে বাজেট ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সরকার চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ১২ মাসে সঞ্চয়পত্র থেকে ১৯ হাজার ৬১০ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছিল। কিন্তু জুলাই-নভেম্বর সময়েই ২০ হাজার ৩১৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কেবল নভেম্বর মাসেই ৪ হাজার ৪০৩ কোটি টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে, একক মাস হিসেবে যা রেকর্ড। তথ্য বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, গত অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ের তুলনায় এবার সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। গত অর্থবছরের এই সময়ে ১১ হাজার ৩২৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল।

বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ ও আসল শোধের পর যা অবশিষ্ট থাকে তাকে বলা হয় নিট বিক্রি। নীট বিক্রির ওই অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা থাকে এবং সরকার তা রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজে লাগায়। সেজন্য সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকদের প্রতি মাসে সুদ দিতে হয়। এ কারণে অর্থনীতির পরিভাষায় সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রিকে সরকারের ‘ঋণ’ বা ‘ধার’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

জানা গেছে, সঞ্চয়পত্র বিক্রির চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। যেখানে আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস থেকে সকালে কিনলে বিকেলেই অথবা দুই থেকে একদিন পরেই বই বা প্রমাণপত্র দেওয়া হত। সেখানে এখন বিক্রির চাপ বাড়ায় সঞ্চয়পত্র কিনলে এক মাস পর ‘বই’ বা এ সংক্রান্ত ‘কাগজ (প্রমাণপত্র)’ দিচ্ছেন কর্মকর্তারা।

তবে সঞ্চয়পত্র বিক্রির এ চাপ বড় বেশি পরিমাণ ভাবিয়ে তুলেছে অর্থনীতিবীদদের। তাদের মতে, সঞ্চয়পত্রের বিক্রি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় বাড়ছে সরকারের ঋণের বোঝা, যার চাপ পড়ছে সরকারের রাজস্ব বাজেটের ওপর। যা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে বাজেট ব্যবস্থাপনা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

এদিকে বিনিয়োগে মন্দার কারণে বেশ কিছুদিন ধরেই ব্যাংকগুলোতে বিপুল অংকের অর্থ পড়ে আছে, যাকে ‘অলস অর্থ’ বলা হচ্ছে। ওই অর্থ খাটাতে না পেরে আমানতের সুদ হার কমিয়ে চলেছে ব্যাংকগুলো। বর্তমানে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো স্থায়ী আমানতের বিপরীতে গড়ে ৬ থেকে ৭ শতাংশ হারে সুদ দিচ্ছে, যা সঞ্চয়পত্রের সুদের তুলনায় অনেক কম। ২০১৫ সালের মে মাসে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদ গড়ে ২ শতাংশ হারে কমানোর পরও ১১ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত সুদ পাওয়া যায় সঞ্চয়পত্রে। আগে পাঁচ বছর মেয়াদি এক লাখ টাকার পরিবার সঞ্চয়পত্র কিনলে মাসে এক হাজার ৭০ টাকা মুনাফা পাওয়া যেত। ২০১৫ সালের মে মাসে সুদ হার কমানোর পর পাওয়া যাচ্ছে ৯১২ টাকা। তারপরও সবচেয়ে ‘নিরাপদ’ এ খাতে বিনিয়োগ কমেনি; উল্টো বাড়ছে।
গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরেছিল ১৫ হাজার কোটি টাকা। সুদের হার কমানোর পরও বিক্রি না কমায় সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ২৮ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়। অর্থবছর শেষে দেখা যায়, সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার ৩৩ হাজার ৬৮৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা ধার করেছিল।

এ বিষয়ে অর্থনীতিবীদ জায়েদ বখত নিউজনেক্সটবিডি ডটকম’কে বলেন, ‘ব্যাংকগুলোতে আমানতের সুদ হার কমায় মানুষ সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝুঁকেছে। তুলনামূলক বেশি সুদ হওয়ায় যার যা সঞ্চয় আছে, তা দিয়ে তারা এখন সঞ্চয়পত্র কিনছে। তার মতে, সঞ্চয়পত্র থেকে বিপুল ঋণের চাপে সরকার বাজেট ব্যবস্থাপনায় যে ঝুঁকির মধ্যে পড়তে যাচ্ছে, তা এড়ানোর পথ ‘একটাই’। আর তা হল, সুদের হার কমাতে হবে। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের ‘পেনশন’ এবং মহিলাদের জন্য ‘পরিবার’ সঞ্চয়পত্র ছাড়া অন্য সব সঞ্চয়পত্রের সুদের হার দ্রুত কমাতে হবে। যদিও গত অর্থবছরে সুদ হার কমিয়েও সঞ্চয়পত্র বিক্রির প্রবণতা সরকার কমাতে পারেনি।’

প্রসঙ্গত, বাজেট ঘাটতি মেটাতে দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে ঋণ নেয় সরকার। দেশের ভেতর থেকে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা ও ব্যাংক বহির্ভূত উৎস এই দুই উৎস থেকে ঋণ করে থাকে। একটা সময় সরকারকে ঘাটতি মেটাতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হতো। কিন্তু বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ঋণ আসছে ব্যাংক বহির্ভূত উৎস থেকে। আর তা আসছে এই সঞ্চয়পত্র থেকে।

প্রতিবেদক: রিজাউল করিম, সম্পাদনা: ইয়াসিন


সর্বশেষ

আরও খবর

কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর

কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর


একদিনেই সড়কে ঝড়ল ১৯ প্রাণ

একদিনেই সড়কে ঝড়ল ১৯ প্রাণ


শাহবাগে মশাল মিছিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, আটক ৩

শাহবাগে মশাল মিছিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, আটক ৩


গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা

গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা


করোনায় ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩২৭

করোনায় ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩২৭


নামাজ পড়ানোর সময় সিজদারত অবস্থায় ইমামের মৃত্যু

নামাজ পড়ানোর সময় সিজদারত অবস্থায় ইমামের মৃত্যু


ভাষার বৈচিত্র্য ধরে রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ভাষার বৈচিত্র্য ধরে রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর


করোনায় আরও জনের ১৫ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৯১

করোনায় আরও জনের ১৫ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৯১


৩ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কেকেআরে সাকিব

৩ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কেকেআরে সাকিব


খাদ্যে ভেজাল রোধে কঠোর আইন প্রয়োগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

খাদ্যে ভেজাল রোধে কঠোর আইন প্রয়োগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর