Sunday, August 21st, 2016
সানাই সম্রাটের দশম মৃত্যুবার্ষিকী
August 21st, 2016 at 2:07 pm
সানাই সম্রাটের দশম মৃত্যুবার্ষিকী

ডেস্ক: 

‘হাত পেতে নিয়ে চেটে পুটে খাই

বিসমিল্লার পাগলা সানাই,

হাত পেতে নিয়ে চেটে পুটে খাই

স্মৃতি বিজরিত পাগলা সানাই।’ 

সানাই নামক বাদ্যযন্ত্রটিকে দিয়ে যিনি কথা বলিয়ে তবে ছেড়েছেন, সেই সুর-সম্রাট ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খান সাহেব’র দশম মৃত্যুবার্ষিকী রবিবার। ২০০৬ সালের ২১ আগস্ট ৯০ বছর বয়সে বারাণসী হেরিটেজ হসপিটালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। সানাই বাদন’কে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করায় ভারতের উচ্চাঙ্গ শাস্ত্রীয় সঙ্গীত জগতে’র ‘ওস্তাদ’ উপাধিতে ভূষিত হন তিনি।

১৯১৬ সালের ২১ মার্চ, বাবা পয়গম্বর খান ও মা মিঠানের দ্বিতীয় সন্তান কামরুদ্দিন জন্ম নেয়। কিন্তু তার পিতামহ নবজাতককে প্রথমবারের মত দেখে ‘বিসমিল্লাহ’ বলায় তার নাম হয়ে যায় বিসমিল্লাহ খান।

ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খান সাহেব’র পূর্বপুরুষেরাও সঙ্গীতজ্ঞ ছিলেন। তারা ছিলেন বিহারের ডুমরাও রাজ্যের রাজ সঙ্গীতজ্ঞ। ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খানের সঙ্গীত গুরু ছিলেন প্রয়াত আলী বক্স বিলায়াতু। তিনি ছিলেন বারাণসীর বিশ্বনাথ মন্দিরের সানাই বাদক।

সানাইকে ভারতের উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত জগতের যন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা দেয়ার কৃতিত্ব কেবল এবং কেবলমাত্র ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খান সাহেবের। তিনি ১৯৩৭ সালে কলকাতায় অল ইন্ডিয়া মিউজিক কনফারেন্সে সানাই বাজিয়ে একে ভারতীয় সঙ্গীতের মূল মঞ্চে নিয়ে আসেন। ১৯৫০ সালের ২৬শে জানুয়ারি দিল্লীর লাল কেল্লায় অনুষ্ঠিত ভারতের প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবসে বিসমিল্লাহ খান সাহেব তার অন্তরের মাধুরী ঢেলে রাগ কাফি বাজিয়ে মুগ্ধ করেছিলেন সারা ভারতবর্ষকে।

আফগানিস্তান, ইউরোপ, ইরান, ইরাক, কানাডা, পশ্চিম আফ্রিকা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন, জাপান, হংকং সহ পৃথিবীর প্রায় সকল প্রান্তেই ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খান সাহেব বিলিয়েছেন তার সুরের মুগ্ধতা। এতো সুনাম এবং অর্জন সত্যেও অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করতেন খান সাহেব। সবসময়ই ছিলেন বারাণসীর পুরোনো পৃথিবীতে। সাইকেল রিকশাই ছিল তার চলাচলের মূল বাহন। অত্যন্ত অন্তর্মুখী বিনম্র এই সঙ্গীত গুরু বিশ্বাস করতেন যে সঙ্গীত শোনার বিষয়, দেখার বা দেখাবার নয়।

ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খান’কে উৎসর্গ করা অসংখ্য সম্মাননা ও অর্জিত পুরষ্কারের মধ্যে ভারতরত্ন (২০০১), পদ্মবিভূষণ (১৯৮০), পদ্মভূষণ (১৯৬৮), পদ্মশ্রী (১৯৬১), সঙ্গীত নাটক একাডেমী পুরস্কার (১৯৫৬), তানসেন পুরস্কার (মধ্য প্রদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত), তালার মৌসিকী (ইরান প্রজাতন্ত্র, ১৯৯২), সঙ্গীত নাটক একাডেমীর ফেলো (১৯৯৪), সম্মানসূচক ডক্টরেট, (বানারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়), সম্মানসূচক ডক্টরেট, (বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়) উল্লেখযোগ্য।

প্রতিবেদন: এস. কে. সিদ্দিকী, প্রকাশ: তুসা


সর্বশেষ

আরও খবর

বীর উত্তম সি আর দত্ত আর নেই, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক

বীর উত্তম সি আর দত্ত আর নেই, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক


সংগীতের ভিনসেন্ট নার্গিস পারভীন

সংগীতের ভিনসেন্ট নার্গিস পারভীন


সিরাজগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে কামাল লোহানীকে

সিরাজগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে কামাল লোহানীকে


জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আর নেই

জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আর নেই


ওয়াজেদ মিয়ার ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ওয়াজেদ মিয়ার ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ


একুশে পদকপ্রাপ্তদের হাতে পুরষ্কার তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

একুশে পদকপ্রাপ্তদের হাতে পুরষ্কার তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী


প্রধানমন্ত্রীর হাতে রান্না করা খাবার সাকিবের বাসায়

প্রধানমন্ত্রীর হাতে রান্না করা খাবার সাকিবের বাসায়


জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী আজ

জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী আজ


জাপানে হেইসেই যুগের অবসান হচ্ছে আজ

জাপানে হেইসেই যুগের অবসান হচ্ছে আজ


হাঁটাহাঁটি করছেন ওবায়দুল কাদের

হাঁটাহাঁটি করছেন ওবায়দুল কাদের