Thursday, September 29th, 2022
সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস, সংবিধান এবং আশাজাগানিয়া মুরাদ হাসান
October 20th, 2021 at 10:31 pm
“মুক্তিযুদ্ধ করার সময় আমি কি কখনো ভেবেছিলাম যে বাংলাদেশে এমন একটি সময় আসবে যখন আমাদের ‘মাইনরিটি’ হিসেবে ‘সেকেন্ড গ্রেডের সিটিজেনে’ পরিণত করা হবে এবং তার থেকে উত্তরণের জন্য আবার লড়াই করতে হবে।”
সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস, সংবিধান এবং আশাজাগানিয়া মুরাদ হাসান

শরীফ খিয়াম, ঢাকা: সেনাসমর্থিত অনিয়মতান্ত্রিক শাসন পরবর্তী গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে ২০০৯ সালে ক্ষমতাগ্রহণ করে বারবার নির্বাচিত হয়ে টানা ১৩ বছর ধরে দেশ পরিচালনা করছে বাংলাদেশকে জন্মযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। এই ত্রয়োদশতম বছরে প্রথমবারের মতো দলটির কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির মুখে সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম বাতিলের জোরালো আলাপ শোনা গেছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে তাঁর বাতলে দেওয়া পথটিকে বিদ্যমান রাষ্ট্রকাঠামো বা ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর ওপর ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ভরসা ফেরানোর একমাত্র উপায় ভাবলে ভুল হবে কী? সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস চলাকালে পেশাগত প্রয়োজন মেটাতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সংগঠনগুলোর জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের অসংখ্য নেতার সাথে বারবার আলাপের সুবাদে এই প্রশ্ন এসেছে মনে। কারণ এটা সুস্পষ্ট যে কুমিল্লায় দুর্গাপূজা মণ্ডপে মুসলিম ধর্মগ্রস্থ কোরআন পাওয়ার জেরে গত ১৩ থেকে ১৭ অক্টোবর দেশের বিভিন্ন জেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় সংখ্যালঘুদের ভরসা হারিয়েছে ক্ষমতাসীনরা।

ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সবচেয়ে বড় সংগঠন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা মনীন্দ্র কুমার নাথের কথাই বলি। আক্রান্ত কয়েকটি এলাকার কর্তব্যরত পুলিশ প্রধানের বদলির আদেশ হওয়ার পর কথা হচ্ছিল তাঁর সাথে। “হামলার শিকার হওয়া হিন্দুদের পাশাপাশি বিভিন্ন সংখ্যালঘু সংগঠনের নেতারা আক্রান্ত এলাকাগুলোর পুলিশ প্রধানদের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ এনে শুরু থেকেই তাদেরকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে” উল্লেখ করে তিনি জানান, সরকার সেই দাবি মেটালেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ওপর সংখ্যালঘুদের ভরসা সহসা ফিরবে না। এই শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তানের ভাষ্য, “এই দলটিকে আমরা মনেপ্রাণে অসাম্প্রদায়িক মনে করতাম। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনায় তাদের নেতাকর্মি আর বর্তমান প্রশাসনের অবস্থান ভীষণভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। যে কারণে আস্থার জায়গাটুকু আমরা একেবারেই হারিয়ে ফেলেছি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর এই বছরে আমাদের যে ক্ষতি হয়ে গেছে, তা আর কোনো কিছুতেই ঘুচবে না।” ঢাকেশ্বরী মন্দিরের নবমীর অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হিন্দুদের নিরাপত্তার বিষয়ে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন উল্লেখ করে ঐক্য পরিষদের এই যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বলেন, “তারপরও কোনো জায়গায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মিদের প্রতিরোধ আমরা দেখিনি।” যদিও সেদিনই “অনেক হামলা নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে” দাবি করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, “সারাদেশে আরও অনেক এমন হামলা করার প্রচেষ্টা ছিল।” 

পরের দিন, অর্থাৎ অরাজকতা শুরুর সাতদিনের মাথায় সারাদেশে মাঠে নামে আওয়ামী লীগ এবং এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন। কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতার ধারণা অনুযায়ী, সেদিন সারাদেশে তাদের কয়েকলাখ নেতাকর্মী মাঠে ছিল। “এটি ইতিবাচক ঘটনা হলেও আসলে ক্ষততে প্রলেপ দেওয়ার চেষ্টা,” মন্তব্য করে মনীন্দ্র প্রশ্ন তোলেন, “এখন সংঘবদ্ধ হয়ে যে এক লাখ বা এক কোটি পথে নেমেছেন, ওনাদের তাৎক্ষণিক কোনো প্রক্রিক্রিয়া ছিলনা কেন?” এবারের সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসে ২৫টি জেলার হিন্দুরা আক্রান্ত হয়েছে দাবি করে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের একাংশের নির্বাহী মহাসচিব ও মুখপাত্র পলাশ কান্তি দে বলেছেন, “বর্তমান সরকারের প্রশাসন এটা নিয়ন্ত্রণে একদমই ব্যর্থ হয়েছে।” পুলিশের দাবি অনুযায়ী, এই নৈরাজ্যে দুই সংখ্যালঘুসহ মোট সাতজনের মৃত্যু হয়েছে এবং কমপক্ষে ২৬ জেলায় এখনো (২০ অক্টোবর) তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

যেদিন এই নৈরাজ্য শুরু হয়েছিল সেদিনই প্রথম সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম বাতিলের বিষয়ক বক্তব্যটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। বেসরকারি টিভি চ্যানেল এটিএন বাংলার সংবাদ অনুযায়ী তিনি সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছিলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ইসলাম আমাদের রাষ্ট্রীয় ধর্ম না, এটা বিশ্বাস করি না। বাহাত্তরের সংবিধান, ওই সংবিধানেই আমরা ফেরত যাবো। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে সংবিধান লিখে গিয়েছেন, সেই সংবিধানই থাকবে।”একাদশ জাতীয় সংসদের মেয়াদকালেই এটা করার জন্য তিনি দ্রুতই প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলবেন বলেও উল্লেখ করেন। তাঁর এই বক্তব্যের পর মাঠের বিরোধী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), সংসদের বিরোধী জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন ইসলামি গোষ্ঠীর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের বিক্ষোভ হয়। তাঁর নিজ জেলায়ও তাঁকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে কট্টরপন্থী মুসল্লিরা। তবুও মুরাদ তাঁর বক্তব্যে অটল থাকেন। তবুও বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিনের আলোচনায় তিনি পুনরায় বলেন, “যে কোনো মূল্যে আমাদের বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যেতে হবে। সেই সংবিধানে ফিরে যাওয়ার জন্য সংসদে কথা বলব আমরা। কেউ কথা না বললেও আমি মুরাদ সংসদে কথা বলব।”

ভোটারবিহীন একদলীয় নির্বাচনে গঠিত চতুর্থ সংসদে ১৯৮৮ সালের ১১ মে সংবিধানে রাষ্ট্রধর্মের বিধান সংযুক্তকারী অষ্টম সংশোধনীর প্রস্তাব পাসের বিলটি উত্থাপন করেছিলেন তৎকালীন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমেদ। পরে ৭ জুন এটি পাস হলে ৯ জুন ‘স্বৈরশাসক’ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অনুমোদন পেয়ে তা আইনে পরিণত হয়। অবশ্য এই ঘটনার বহুবছর আগেই সংবিধানকে ইসলামীকরণ শুরু করেন আরেক সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান। ফরমান জারি করে তিনি প্রস্তাবনার আগে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’ (পরম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করলাম) বাক্যটি যোগ করেন। সেইসঙ্গে মূলনীতি থেকে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ বিলুপ্ত এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সাংবিধানিক সুযোগ তৈরী করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এরশাদের শাসনামলে কায়েম করা হয় রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম।  “বর্তমানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে” প্রতিমন্ত্রী মুরাদ “রাষ্ট্রধর্ম মানি না বলে উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন” দাবি করে এরশাদের সহোদর ও তাঁর রেখে যাওয়া দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এবং সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা জি এম কাদের বলেছেন, “ওই প্রতিমন্ত্রী সংবিধান সংরক্ষণের শপথ ভঙ্গ করেছেন। ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পঞ্চদশ সংশোধনীতে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল রেখেছে। তাই রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলে ওই মন্ত্রী দলীয় শৃঙ্খলাও ভঙ্গ করেছেন।”

অষ্টম সংশোধনীতে বলা হয়েছিল, “প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম হবে ইসলাম, তবে অন্যান্য ধর্মও প্রজাতন্ত্রে শান্তিতে পালন করা যাইবে।” পরে পঞ্চদশ সংশোধনীতে এটি পরিবর্তন করে লেখা হয় – “প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করিবেন।” একই সংশোধনীতে সংবিধানের মূলনীতিতে ধর্মনিরপেক্ষতাও ফিরিয়ে আনা হয়। সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম যুক্ত করার বিষয়টি “যৌক্তিক ছিল না” এবং এটি “করা উচিতও হয়নি” উল্লেখ করে পঞ্চদশ সংশোধনীর প্রক্রিয়া চলাকালে (২০১১ সালের ১১ এপ্রিলে) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “মানুষের ধর্ম থাকলেও রাষ্ট্রের কোনো ধর্ম থাকা উচিত নয়। তবে ধর্ম বিষয়ে মানুষের অনেক আবেগও জড়িত। কাজেই রাষ্ট্রধর্মের বিষয়টি সংবিধান থেকে বাদও দেওয়া যাবে না।”

যদিও বাংলাদেশের স্থপতি হওয়ার পরপরই তাঁর পিতাই প্রশ্ন তুলেছিলেন,  “যে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে আমার দেশের মানুষ রক্ত দিয়েছে, এখানে বসে কেউ যদি তার বীজ বপন করতে চান তাহলে তা কি আপনারা সহ্য করবেন?” দেশ স্বাধীন হওয়ার পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ঢাকায় ফিরেই (১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি) বঙ্গবন্ধু বলেন, “বাংলাদেশ একটি আদর্শ রাষ্ট্র হবে। আর তার ভিত্তি বিশেষ কোন ধর্ম হবে না। এই রাষ্ট্রের ভিত্তি হবে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। এ দেশে কৃষক-শ্রমিক, হিন্দু-মুসলমান সুখে থাকবে, শান্তিতে থাকবে।” সংবিধান প্রণয়নকারী গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনেও (১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল) বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, “এক্ষনে এই পরিষদ বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের আশা-আকাঙ্খার সেই সব মূর্ত আদর্শ, যথা জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা যা শহীদান ও বীরদের স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মত্যাগে উদ্ধুদ্ধ করেছিল, তার ভিত্তিতে দেশের জন্য একটি উপযুক্ত সংবিধান প্রণয়নের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।” পরে সংবিধান গৃহীত হওয়ার দিন “ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষের ধর্ম কর্ম করার অধিকার থাকবে,” উল্লেখ করে তিনি বলেছিলেন, “আমাদের শুধু আপত্তি হলো এই যে, ধর্মকে কেউ রাজনৈতিক অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করতে পারবে না।” এর আগে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে বেতার ভাষণে শেখ মুজিব বলেছিলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার হচ্ছে করা হচ্ছে আমরা ইসলামে বিশ্বাসী নই। এ কথার জবাবে আমাদের সুস্পষ্ট বক্তব্য- ‘লেবেল-সর্বস্ব’ ইসলামে আমরা বিশ্বাসী নই। আমরা বিশ্বাসী ইনসাফের ইসলামে, যে- ইসলাম জগৎবাসীকে শিক্ষা দিয়েছে ন্যায় ও সুবিচারের অমোঘ মন্ত্র।”

“বাংলাদেশের হিন্দুরা একাত্তরের চেতনায় বাহাত্তরের সংবিধান প্রনয়ণকারী আওয়ামী লীগকে বিশ্বাস করে, তাদের পরিবর্তিত চরিত্রকে নয়,” উল্লেখ করে সংখ্যালঘু নেতা মনীন্দ্র জানান, ১৯৭৫ সালে জাতির জনকের হত্যাকাণ্ড পরবর্তী সবগুলো সরকার রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য ধর্মকে ব্যবহার করেছে। তাঁর মতে, “ধর্মীয় উন্মাদণায় সাম্প্রদায়িকতা ও সন্ত্রাসবাদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেখছি- এর ভয়াবহতা ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে।”

“সাস্প্রতিক ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আওয়ামী লীগের শুভবুদ্ধির উদয় হলে ভালো,” উল্লেখ করে মনীন্দ্র বলেন, “তথ্য প্রতিমন্ত্রীর মতো সরকার দলীয় আরো অনেকেই আছেন যারা প্রগতিশীল ও মানবিক মানুষ। কিন্তু তারা সাহস করে ন্যায্য কথাটা বলেন না। এখন তিনি সাহস দেখিয়ে যে আওয়াজটা তুলেছেন, তা সমর্থন করে পাশের মানুষগুলোও যদি তাঁর পক্ষে এগিয়ে আসেন; অর্থাৎ পুরো আওয়ামী লীগ যদি আরো অধিক সাহস নিয়ে গর্জন করে ওঠে, তাহলে কিছু হবে। এটা যদি আবার ভোটের হিসাবের দিকে চলে যায়, তবে কিন্তু সংখ্যালঘুদের সর্বনাশ।” 

বছর তিনেক আগে এসব নিয়েই কথা হচ্ছিল হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্তের সাথে। তিনি বলেছিলেন, “রাষ্ট্রধর্ম রেখে সাম্প্রদায়িকতাকে উৎসাহ দিয়ে বা উগ্রবাদী শক্তির সামনে মাথানত করে জঙ্গিবাদ দমনের কথা আমরা বলি কী করে! মুক্তিযুদ্ধ করার সময় আমি কি কখনো ভেবেছিলাম যে বাংলাদেশে এমন একটি সময় আসবে যখন আমাদের ‘মাইনরিটি’ হিসেবে ‘সেকেন্ড গ্রেডের সিটিজেনে’ পরিণত করা হবে এবং তার থেকে উত্তরণের জন্য আবার লড়াই করতে হবে।”রাষ্ট্রধর্ম সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী দাবি করে রানা আরো বলেছিলেন, “একাত্তরে যে অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম, তা ফেরাতে না পারলে মৌলবাদ উৎখাত করা যাবে না।” সংখ্যাগরিষ্ঠ দেওবন্দী ওহাবী ভাবধারার কওমি মতাদর্শী মুসলিমদের চাপে থাকা প্রায় আড়াই লাখ কাদিয়ানীর সংগঠন আহমদিয়া মুসলিম জামা’তের আমির মোবাশশেরউর রহমানের সাথেও আলাপ হয়েছিল কাছাকাছি সময়ে। তিনি বলেছিলেন, “রাষ্ট্রধর্মের বিধান ধর্মীয় গোষ্ঠির ক্ষমতায় যাওয়ার একটা দরজা।”

রাষ্ট্রধর্ম প্রবর্তনের পরপরই স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটির পক্ষে সংবিধানের অষ্টম সংশোধনীর বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে উচ্চ-আদালতে রিট আবেদন করেছিলেন লেখক সাহিত্যিক, সাবেক বিচারপতি, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ দেশের পনেরো জন বিশিষ্ট নাগরিক। ২০১১ সালের ৮ জুন একটি সম্পূরক আবেদন করা হলে দীর্ঘ ২৩ বছর পর মামলাটি পুনরায় আলোচনায় আসে। এর কিছুদিন পর সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী করা হলে আরো একটি সম্পূরক আবেদন করা হয়। ওই সময় রুল ইস্যু করলেও ২০১৬ সালে রিট দুটি বাতিল করে দেয় আদালত। এর দুই বছর পরে রিটকারীদের একজন প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক ইমেরিটাস ড. আনিসুজ্জামান বলেছিলেন, “শেষ অবধি উচ্চ আদালত আমাদের মামলার অধিকারই স্বীকার করেনি।” ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় থাকা প্রবীণ এই বুদ্ধিজীবী সেদিন আরো বলেছিলেন, “রাষ্ট্রধর্মের বিষয়টি জঙ্গিবাদকে উসকে দিয়েছে। এভাবে একটি ধর্মকে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রাধান্য দেয়া উগ্রবাদীদের উৎসাহিত করে। কারণ তাদেরও বোঝানো হয় , পৃথিবীতে তাদের ধর্মই শুধু শ্রেষ্ঠ আর অন্য সব ধর্ম নিকৃষ্ট।” রাষ্ট্রধর্ম বিরোধী রিটটি বাতিলের দাবিতে জামায়াত-হেফাজত ইসলামসহ বিভিন্ন মতাদর্শ ও ভাবধারার ইসলামী দল ও সংগঠনগুলো আন্দোলন করেছিল। আজও কট্টর ডানপন্থীরা যখন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের উসকে যাচ্ছে তখন অসাম্প্রদায়িক মুজিববাদ স্মরণ করিয়ে দেওয়া প্রতিমন্ত্রী মুরাদের প্রস্তাব অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের কোনো বিকল্প নেই।

লেখক: সংবাদ ও চলচ্চিত্রকর্মী।  


সর্বশেষ

আরও খবর

সু চির ৩ বছরের সাজা

সু চির ৩ বছরের সাজা


চিপস চানাচুর বিস্কুট নুডলসে অতিরিক্ত লবণ: গবেষণা

চিপস চানাচুর বিস্কুট নুডলসে অতিরিক্ত লবণ: গবেষণা


মারা গেছেন মহেশ বাবুর মা 

মারা গেছেন মহেশ বাবুর মা 


মাথায় আঘাত লেগে মৃত্যু হয় শাওনের, বুলেটে নয় : পুলিশ


নিষেধাজ্ঞা র‌্যাবের কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলেনি !

নিষেধাজ্ঞা র‌্যাবের কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলেনি !


কুমিল্লা থেকে ঢাকামুখী লেনে প্রায় ৩০ কিলোমিটার যানজট

কুমিল্লা থেকে ঢাকামুখী লেনে প্রায় ৩০ কিলোমিটার যানজট


যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি বেড়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি বেড়েছে


৯২ দিনে পদ্মা সেতুতে ২শ কোটি টাকার টোল আদায়


শেখ হাসিনার ৭৬ বছরে পদার্পন

শেখ হাসিনার ৭৬ বছরে পদার্পন


বাবুল আক্তার ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ইলিয়াছকে আসামি করে পিবিআই প্রধানের মামলা

বাবুল আক্তার ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ইলিয়াছকে আসামি করে পিবিআই প্রধানের মামলা