Sunday, July 7th, 2019
সায়মাকে ধর্ষণের রোমহর্ষক বর্ণনা
July 7th, 2019 at 10:42 pm
সায়মাকে ধর্ষণের রোমহর্ষক বর্ণনা

ঢাকা: ‘ছাদ ঘুরিয়ে দেখানোর কথা বলে সামিয়া আফরিন সায়মাকে আট তলার লিফট থেকে ছাদে নিয়ে যায় হারুন অর রশিদ। সেখানে নবনির্মিত ৯ তলার ফ্ল্যাটে সায়মাকে প্রথমে ধর্ষণ করে। এরপর নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে থাকে সায়মা। মৃত ভেবে সায়মার গলায় রশি দিয়ে টেনে রান্নাঘরের সিঙ্কের নিচে রেখে পালিয়ে যায় হারুন।’

শিশু সায়মা হত্যার ঘটনায় রোববার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এভাবেই রোমহর্ষক বর্ণনা দেন ডিবি পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন।

আব্দুল বাতেন বলেন, গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হারুন ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছে। পুরো ঘটনার বর্ণণা দিয়েছে পুলিশের কাছে। এখন আসামিকে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড চাওয়া হবে।

বাতেন বলেন, এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত কুরুচির পরিচায়ক; মানবতাবিরোধী অপরাধ। এ ধরনের অপরাধীরা সাধারণত ধর্ষণের পর যখন ভাবে এ অপকর্মের কারণে সে বাঁচতে পারবে না তখনই হত্যার মতো ঘটনা ঘটায়।

গত শুক্রবার রাজধানী ঢাকার ওয়ারি এলাকায় বহুতল ভবনের সবচেয়ে উপর তলার একটি শূন্য ফ্ল্যাটের রান্নাঘরে সায়মার রক্তাক্ত মৃতদেহ পাওয়া যায়। বাবা-মার সঙ্গে সায়মা ওই ফ্ল্যাটেরই ষষ্ঠ তলায় থাকতো। ওপর তলার একটি ফ্ল্যাটে প্রায় প্রতিদিনের মত ওই দিন বিকেলে খেলতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায় সাত বছরের সায়মা। সন্ধ্যার পরও ঘরে না ফিরলে খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে রাত আটটা নাগাদ শিশুটির রক্তাক্ত মৃতদেহ পাওয়া যায়।

রবিবার ভোরে কুমিল্লার ডাবরডাঙা এলাকা থেকে হারুন অর রশিদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হারুন সায়মাদের বাড়ি যে ভবনে তারই ৮ তলার বাসিন্দা পারভেজের খালাতো ভাই। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। গত এক মাস ধরে হারুণ আটতলার ওই ফ্ল্যাটেই ছিলো।

এদিকে, শনিবার সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ময়নাতদন্তের পর ডাক্তাররা তাদের রিপোর্টে বলেছেন, শিশুটিকে জবরদস্তি করে ধর্ষণ করা হয়েছে। তারপর গলায় রশি পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শিশু সায়মার লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছেন ওয়ারী থানার এসআই হারুন অর রশিদ। প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেছেন, শিশুটির মাথার বামপাশে সামান্য থেঁতলানো জখম রয়েছে। মুখ দিয়ে রক্ত বের হওয়ার চিহ্ন রয়েছে। গোপনাঙ্গ রক্তাক্ত ও থেঁতলানো।

সায়মাকে ধর্ষণ ও হত্যার মূল আসামি হারুন অর রশিদের দ্রুত সময়ে ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন সায়মার বাবা আবদুস সালাম। আজ দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে তিনি এ দাবি জানান। আবদুস সালাম বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে মূল আসামিকে চিহ্নিত করতে পেরেছে পুলিশ। তাকে ধরতে পেরেছে। আমি চাই দ্রুত সময়ের মধ্যে, তিন মাস থেকে ছয় মাসের মধ্যে তাকে প্রকৃত শাস্তি দেওয়া হোক। সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হোক। সে যেহেতু আমার মেয়েকে দুই রকম নির্যাতন করে হত্যা করেছে, তাকে ছয় মাসের মধ্যে ফাঁসি দেওয়া হোক। আমি আমার মেয়েকে রক্ষা করতে পারিনি। ১০ মিনিটের জন্য গিয়ে আর ফিরল না।

এম কে রায়হান


সর্বশেষ

আরও খবর

সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস, সংবিধান এবং আশাজাগানিয়া মুরাদ হাসান

সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস, সংবিধান এবং আশাজাগানিয়া মুরাদ হাসান


কুমিল্লার মণ্ডপে কোরআন রাখা ব্যক্তি শনাক্ত

কুমিল্লার মণ্ডপে কোরআন রাখা ব্যক্তি শনাক্ত


কুমিল্লার মূল অভিযুক্ত পালিয়ে বেড়াচ্ছে, দ্রুতই গ্রেপ্তার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কুমিল্লার মূল অভিযুক্ত পালিয়ে বেড়াচ্ছে, দ্রুতই গ্রেপ্তার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ


দেবীগঞ্জের অগ্নিকাণ্ড নিছক দূর্ঘটনা: ইউএনও

দেবীগঞ্জের অগ্নিকাণ্ড নিছক দূর্ঘটনা: ইউএনও


সাম্প্রদায়িক নৈরাজ্যে আক্রান্ত ২৩ জেলা

সাম্প্রদায়িক নৈরাজ্যে আক্রান্ত ২৩ জেলা


ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছে ইভ্যালি কর্তৃপক্ষ

ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছে ইভ্যালি কর্তৃপক্ষ


ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ জনের মৃত্যু

ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ জনের মৃত্যু


পেঁয়াজের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড

পেঁয়াজের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড


মিরপুরে খালে পড়ে নিখোঁজ ব্যক্তিকে ৬ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার

মিরপুরে খালে পড়ে নিখোঁজ ব্যক্তিকে ৬ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার