Saturday, August 6th, 2016
সােনার জন্যই খুন হন মনোয়ারা
August 6th, 2016 at 2:02 pm
সােনার জন্যই খুন হন মনোয়ারা

ঢাকা: সেনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল খালিদ বিন ইউসুফের মা মনোয়ারা সুলতানা একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য প্রায় একশ ভরি স্বর্ণ জমা করেছিলেন। ওই স্বর্ণ লুট করতেই বাড়ির দারোয়ান গোলাম নবী ও ভাড়াটিয়া লায়লা আক্তার লাবন্য মনোয়ারাকে শ্বাসরোধ করে গলা কেটে হত্যা করে।

শনিবার সকালে র‌্যাব-১ এর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১ অধিনায়ক লে. কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ এসব তথ্য জানান।

এর আগে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সিনিয়র সহকারি পরিচালক এএসপি মিজানুর রহমান নিউজনেক্সটবিডি ডটকমকে জানান, গত ৪ জুন সেনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল খালিদ বিন ইউসুফের মাকে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনায় র‌্যাব তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে র‌্যাব-১ পুরো ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে এবং শুক্রবার হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতার হওয়া দারোয়ান নবী ও ভাড়াটিয়া লাবন্য টাকার জন্য সেনা কর্মকর্তার মাকে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব ১ এর অধিনায়ক বলেন, ‘মনোয়ারার একটি মসজিদ বানানোর ইচ্ছা ছিল তার। এর ব্যয় নির্বাহের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি প্রায় ১০০ ভরি স্বর্ণ জমিয়েছেন। ওই স্বর্ণ লুট করতেই তাকে খুন করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘গত ৪ জুন ঘটে যাওয়া এ হত্যাকাণ্ডের দিনই ভাড়াটিয়া লায়লা আক্তার লাবণ্যকে আটক করা হয়। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে শনিবার দারোয়ান গোলাম নবী ওরফে আবু ওরফে রবিকে আটক করা হয়।’

জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা জানায়, মানোয়ারা ওই ৫তলা বাড়ির দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে থাকতেন। তার দেখভালের জন্য একজন গৃহকর্মীও সেখানে থাকতেন। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের ৩-৪ দিন আগে থেকে ওই নারী অনুপস্থিত ছিলেন। বুয়ার অনুপস্থিতিতে ওই বিল্ডিংয়ের ভাড়াটিয়া লাবণ্য মনোয়ারাকে খাবার দিতেন। ঘটনার দিন রাতেও তিনি খাবার দিতে ওই বাসায় প্রবেশ করেন। এসময় তার সাথেই ছিলেন দারোয়ান রবি। তারা দুজন মিলে প্রথমে মানোয়ারার শ্বাসরোধ করেন। পরে মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হতে মরদেহ সোফায় বসিয়ে গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন।

র‌্যাব জানায়, খুনিরা হত্যার পর স্বর্ণের খোঁজে বাসার বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে- এমন আলামত পাওয়া গেছে। তবে তারা কোনো স্বর্ণ পায়নি। কারণ, সেগুলো ব্যাংকের ভল্টে রাখা ছিল।

প্রসঙ্গত, গত ৪ জুন রাতে উত্তরার সেক্টর-৯, রোড-১ এর ১১ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ড্রইং রুমের সোফাসেটে হেলানো অবস্থায় মনোয়ারা সুলতানার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের মুখমণ্ডল ও শরীরের আরও কয়েকটি স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ সময় ঘরের আসবাবপত্রও এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া যায়।

মনোয়ারা সুলতানা ওই বাসায় একাই থাকতেন। তার তিন ছেলের মধ্যে বড় ছেলে ইকবাল ইবনে ইউসুফ অস্ট্রেলিয়ায়, মেঝো ছেলে কর্নেল খালেদ বিন ইউসুফ যশোর ক্যান্টনমেন্টে এবং ছোট ছেলে আরমান ইবনে ইউসুফ আমেরিকায় থাকেন।

নিউজনেক্সটবিডি ডটকম/পিএসএস


সর্বশেষ

আরও খবর

গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে ২ মামলা

গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে ২ মামলা


জামায়াতের সেক্রেটারিসহ ৯ জন ৪ দিন করে রিমান্ডে

জামায়াতের সেক্রেটারিসহ ৯ জন ৪ দিন করে রিমান্ডে


মুনিয়া মৃত্যু রহস্য: এবার বসুন্ধরার এমডিসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যা মামলা

মুনিয়া মৃত্যু রহস্য: এবার বসুন্ধরার এমডিসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যা মামলা


মহামারিতেও থেমে নেই সংখ্যালঘু পীড়ন

মহামারিতেও থেমে নেই সংখ্যালঘু পীড়ন


কাঠগড়ায় ওসি প্রদীপের ফোনালাপের ঘটনায় ৪ পুলিশকে প্রত্যাহার

কাঠগড়ায় ওসি প্রদীপের ফোনালাপের ঘটনায় ৪ পুলিশকে প্রত্যাহার


এবার বরিশালের ইউএনও-ওসির বিরুদ্ধে মামলা

এবার বরিশালের ইউএনও-ওসির বিরুদ্ধে মামলা


মেক্সিকোতে সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা

মেক্সিকোতে সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা


বরিশালে ১০ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মাঠে নামছে বিজিবি

বরিশালে ১০ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মাঠে নামছে বিজিবি


তালেবানের ডাকে বেশ কয়েকজন আফগানিস্তানে গেছেন: ডিএমপি কমিশনার

তালেবানের ডাকে বেশ কয়েকজন আফগানিস্তানে গেছেন: ডিএমপি কমিশনার


৬ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পরীমনি

৬ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পরীমনি