Saturday, September 10th, 2016
সুকুমার রায়: আমার শৈশবের নায়ক
September 10th, 2016 at 9:52 pm
সুকুমার রায়: আমার শৈশবের নায়ক

সানাউল কবির সিদ্দিকী:

ঢাকা শহরে জন্ম নেয়ার সুবাদে আমার শৈশব কেটেছে ফ্ল্যাট বাসার বদ্ধ ঘরে, কবুতরের খোপের মতো চারকোনা বারান্দার গ্রীল ধরা দুপুরকে বিকেল থেকে সন্ধ্যা করে। ‘ছেলেধরা’ নামক এক ভয়ংকর প্রজাতির হিংস্র সব সদস্যের ভয়ে মা আমাকে কখনোই চোখের আড়ালে যেতে দিতেন না। তাই রাস্তায় শর্ট পিচ ক্রিকেট বা মাঠে বরফ-পানি খুব একটা খেলতে পারিনি ছোটবেলায়। কিন্ডারগার্টেনের হোমওয়ার্ক শেষে কার্টুন নেটওয়ার্ক ছিলো আমার একমাত্র সম্বল। তবে কার্টুন দেখার চেয়েও পড়তে আমি বেশি ভালোবাসতাম, আমি খবরের কাগজ পড়তাম, কমিক্স পড়তাম, বড়দের বই লুকিয়ে পড়তাম। প্রাইভেট হুজুর বাসায় আসলে কোরআন পড়তাম, আর পড়তাম ‘সুকুমার সমগ্র’।

হ্যাঁ, ‘সুকুমার সমগ্র’ আমি বেশ নিয়ম করেই পড়তাম। একটা সময় গোটা ‘সমগ্র’টাই আমার মুখস্থ হয়ে গিয়েছিলো! পরবর্তী জীবনে এসে বুঝেছি, আমার লেখনী ও জীবনে ‘হ-য-ব-র-ল’ বা ‘পাগলা দাসু’ আসলে কতটা প্রভাব ফেলেছে। শুধু আজগুবি গপ্পো বা ছড়াই নয়, দুধের প্যাকেটে লেখা ‘পাস্তুরিত’ শব্দের অর্থ কি, তাও আমি প্রথম জানতে পারি সুকুমার রায়ের লেখা পড়ে, জানতে পারি লুই পাস্তুর কে ছিলেন। কিভাবে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ একটি শিশুর জন্য পাঠযোগ্য সাহিত্য রচনা করে, কিভাবে শিশুর জন্য বিজ্ঞানধর্মী লেখা লিখতে হয় তা এখনো আমার কৌতুহলের বিষয়।

 

মাঝে মাঝে ভাবি, সুকুমার রায় নামক কোন ব্যক্তি যদি পৃথিবীতে না জন্মাতো আর এতসব লেখা না লিখতো তাহলে আমার শৈশব কতটা নিরানন্দ হতো! পরপর দুই বছর স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পুরষ্কার নিতে আমি মঞ্চে উঠি, আমার মায়ের গর্বভরা মুখ এখনো মনে পড়ে। দু’বারই আমি সুকুমার রায়ের ছড়া আবৃত্তি করে আবৃত্তি বিভাগে প্রথম পুরষ্কার অর্জন করেছিলাম।

sukumar-roy

বন্ধুরা আমাকে আদর করে ডাকতো ‘পাগলা দাসু’; এখনো অনেকে এ নামেই চেনে। কত মুটিয়ে যাওয়া সহপাঠীকে যে আমি নিজে ‘কুমড়োপটাশ’ বলে রাগিয়েছি, হিসেব করে বলতে পারবো না। মনে মনে ‘হাঁস-জারু’ খুঁজে বেড়িয়েছি, মনে প্রাণে বিশ্বাস করেছি ঘুমের ঘোরে মানুষের ‘গোঁফ-চুরি’ যায়। আবার গোমড়া মুখো বান্ধবীর মুখে হাসিও ফুটিয়েছি ‘রামগড়ুরের ছানা’ বলে; পাশাপাশি জানতে পেরেছি ‘লুপ্ত শহর’ পম্পেই’র খবর, জুলভার্নের কথা, পেরিস্কোপের কথা-এই একই সুকুমার সমগ্র পড়ে। কাগজ আবিস্কারের ইতিহাস সম্পর্কেও তিনি আমাকে অবগত করেন সেই শৈশবেই। লেখার পাশাপাশি প্রতিটি বইয়ের আলাদা প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণে চোখ বুলিয়েও বহু সময় কেটেছে আমার।

শুধু সুকুমার রায়ই নন, টোনাটুনির গল্প হয়ে আমার শৈশব জুড়ে ছিলো তার পিতা উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরীও। কৈশোর কেটেছে তার সন্তান সত্যজিত রায়ের ছোটগল্প পড়ে, নির্মিত চলচ্চিত্র দেখে।

১৯২৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর, মাত্র ৩৬ বছর বয়সে দূরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে পৃথিবী ত্যাগ করেন সুকুমার রায়। আজ তার ৯৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। এই মহান সাহিত্যিকের চিরনিদ্রা যেন এ জগতের সবচেয়ে আরামদায়ক চিরনিদ্রা হয়, সেই কামনা-ই মনে পোষণ করি।

সম্পাদনা: সজিব ঘোষ, তুসা


সর্বশেষ

আরও খবর

প্রয়াণের ২১ বছর…

প্রয়াণের ২১ বছর…


বীর উত্তম সি আর দত্ত আর নেই, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক

বীর উত্তম সি আর দত্ত আর নেই, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক


সংগীতের ভিনসেন্ট নার্গিস পারভীন

সংগীতের ভিনসেন্ট নার্গিস পারভীন


সিরাজগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে কামাল লোহানীকে

সিরাজগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে কামাল লোহানীকে


জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আর নেই

জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আর নেই


ওয়াজেদ মিয়ার ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ওয়াজেদ মিয়ার ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ


একুশে পদকপ্রাপ্তদের হাতে পুরষ্কার তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

একুশে পদকপ্রাপ্তদের হাতে পুরষ্কার তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী


প্রধানমন্ত্রীর হাতে রান্না করা খাবার সাকিবের বাসায়

প্রধানমন্ত্রীর হাতে রান্না করা খাবার সাকিবের বাসায়


জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী আজ

জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী আজ


জাপানে হেইসেই যুগের অবসান হচ্ছে আজ

জাপানে হেইসেই যুগের অবসান হচ্ছে আজ