Tuesday, July 26th, 2016
সৈয়দ সাখাওয়াৎ এর একগুচ্ছ কবিতা
July 26th, 2016 at 12:07 pm
সৈয়দ সাখাওয়াৎ এর একগুচ্ছ কবিতা

এই মাৎস্যন্যায়

 

বিকেলের মৃত্যু হলে, নিশাচর বাদুড়ের মতোন ঝুলে থাকি-ডালের সাথে করি বনাবনি।

নিখাদ স্বার্থের কোচরে আঁকি নিপুণ ছলাকলা-বৃহত্তর মানচিত্র-নির্মম লোভ ও লালসা।

তখন অনেক নির্জনে, অনেক সুরক্ষিত ভোরে উঁকি দ্যায় নীরব মৃত্যু, বলে-গ্রহণ করো!

 

হাত বদলের মতোন পাল্টে যাচ্ছে বিশ্বাস, হন্তারক সময়ের ডালে ডালে দ্যাখি সবকিছু,

নজরবন্দী বাতাসের আসা-যাওয়া, ওরা খোলসের সুসুপ্তি ভাঙেনি এখনো-তাই স্থির

জিজ্ঞাসার দৃষ্টি নিয়ে বসে থাকি, বলি-মরে যাও, তুমি মরে যাও হে বিষাদসিন্ধু!

 

মাটির মোড়কে এই শরীর, জানি রাত্রি ও দিন খেলা করে, খেলা করে মোঘ-অমোঘ,

সামরিক উত্তেজনা থেকে মাঝে মাঝে বিস্ফোরণ। তবু এই শুণ্যের বনে এক নীলমাছি-

শব্দের তরঙ্গে ভাঙে নির্জণতা-খোলসের চাহিদা তখোন আর থাকে না…

 

পালিত হৃদয়ের কাছে আশ্রয় নেই, আছে শুধু পলায়নপ্রবন মিথ্যে আকাঙ্ক্ষার তীব্র ভার।

 

 

এইসব শব্দভার বুঝি বহনের ওপাড়

 

নিঃশব্দ আঙুলের মতো পাতার পতন দ্যাখে-

এই শব্দভার বুঝি দিয়েছিলো অস্থিরতা চোখে

তাই একালের মুণি সেজে বসে আছো গাছ গৃহে

যেখানে নিশ্চিত ঝরে শিশির প্রতি সকালে, সন্ধ্যে

সেখানে কোথায় শব্দ? যে তোমাকে করে স্থির, লীন

ছাউনির জড় জ্বর-বাড়ে পাড়ায় পাড়ায়, তবু-

মানুষের চিত্র এক ও অদ্বিতীয় ঘামের নাম

এখানে শব্দ অনেক, ইটের পর ইটের শব্দ

মাটির আর্তণাদের শব্দ শোনা যায় রোজ রোজ

সরল নদীর মতো মরে গ্যাছে মাটিগুলো কবে!

তবু তোমার চোখের কোণে এখনও নাচে মেঘ

সুড়ঙ্গ থেকে সুড়ঙ্গে তুমি মৃতময় ফুল হয়ে-

 

ব্যথাসঙ্গম ঝড়ের পূর্বাভাস দিচ্ছো ঘরে ঘরে

 

এখানে কোথাও সেই শব্দ নেই, ভাষা নেই, আছে-

স্থির মৃতদের কণ্ঠ ভেঙে বের হয়ে আসা, নদী

তীব্র ব্যথার জোয়ারে বুঝি ভেঙে যাবে সবকিছু

কোথায় সেই শব্দেরা? যারা চোখের আড়ালে থাকে,

যারা অনাগত গান ঠোঁটে নিয়ে পাড়ি দিচ্ছে পথ

মৃত্যুর মতো সুন্দর যারা চেতনার রঙে রাঙা

এককের সংখ্যা ভুলে যারা বহুল কণ্ঠের মতো

তাদেরই শব্দবন্ধ হৃদয়ের নাম বলি আজ

শোনো, পৃথিবীতে লেখা হয়নি যে ইতিহাস কথা

সেসব শব্দভাণ্ডার নিয়ে বসে আছি-তবু এই

শব্দহীন, ভাষাহীন অন্ধযাপন, মন্থর গতি

নিয়ত নিঃশ্বাসের সাথে ডেকে আনে মৃতদের!

 

 

সীমান্ত

 

বিচ্ছিন্ন নদীর কাছে নেই তো এমন কোনো ভাষা

বলে দেবে, ওইখানে তারকাঁটা পেড়িয়ে আমার-

ঘর, যেখানে ছিলাম, সুচারু কোলাহলে এখন-

হারিয়েছি নদীনাম, বহুবিধ কণ্ঠস্বরে চাপা!

 

নিবিড় কোনো দুঃখ, গ্রহণের অতীত বেদনা

ঝিঁনুকের প্রতিবিম্ব হয়ে পড়ে আছে জীর্ণডালে

নিছক একটি কথা, সীমান্ত-উঁচুতারকাঁটায়

লিখে যায় ইতিহাস, মাটির এপাড়-ওপাড়!

 

পরস্পর প্রতিমুখী-কোথাও আলাদা ছাপ?

সত্যিকারের বিভেদ? বাড়ন্ত শরীরী লাজ?

একাকার হয়ে আছে, ফলকে উচ্চারিত শব্দেরা

তবু এ’নির্জনবাসে, কান পেতে শুনি জলধারা।

 

 

পৃথিবীর ক্ষুধামন্দা, জল ও পাহাড়ের মুখোমুখি

 

সমুদ্রের ফেনারাশি, জল কালো হয় তেলে মিশে

মাছেদের মৃত্যুবার্তা, লেখা হয় মেঘের কার্নিশে।

 

কত জল ঝরণায়? শুকিয়েছে কার হাতে হাতে?

বৈদ্যুতিক বরষায়, শহর ভরছে বারোমাসে।

 

নীরব খাদ্যঘাটতি, জুমবন পুড়ে গেছে দাহে

বুকের খাঁচায় লেখা,কয়টি হাড় মানবদেহে!

 

উচাটন পর্যটক, মন খারাপের বনে গেছে

তোমার পাহাড় জয়, কার কবে ক্ষুধা মিটিয়েছে?

 

জলহীন বরষায়, এই সায়র জল কিনারে

কবিতা ওরে কবিতা, ভিন্ন নামে ডাকি আজ তোরে।

 

 

পরিচিতি:

কবির প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ একটি। শিরোনাম ‘খণ্ড খণ্ড রাত্রির আলাপ’, প্রকাশকাল ২০১৪ একুশে বইমেলা, প্রকাশনী: কাঠপেন্সিল।

নিবাস চট্টগ্রাম। জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছেন।


সর্বশেষ

আরও খবর

মুক্তিযুদ্ধে যোগদান

মুক্তিযুদ্ধে যোগদান


স্বাধীনতার ঘোষণা ও অস্থায়ী সরকার গঠন

স্বাধীনতার ঘোষণা ও অস্থায়ী সরকার গঠন


শিশু ধর্ষণ নিয়ে লেখা উপন্যাস ‘বিষফোঁড়া’ নিষিদ্ধ!

শিশু ধর্ষণ নিয়ে লেখা উপন্যাস ‘বিষফোঁড়া’ নিষিদ্ধ!


১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে

১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে


সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণে এলেন বেলারুশের সাংবাদিকেরা!

সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণে এলেন বেলারুশের সাংবাদিকেরা!


লুণ্ঠন ঢাকতে বারো মাসে তেরো পার্বণ

লুণ্ঠন ঢাকতে বারো মাসে তেরো পার্বণ


দ্য লাস্ট খন্দকার

দ্য লাস্ট খন্দকার


১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে

১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে


নিউ নরমাল: শহরজুড়ে শ্রাবণ ধারা

নিউ নরমাল: শহরজুড়ে শ্রাবণ ধারা


তূর্ণা নিশীথা

তূর্ণা নিশীথা