Monday, November 7th, 2016
স্কুল নেই, গুটিয়ে যাচ্ছে দুর্গম বগাখালীর শিশুদের স্বপ্ন
November 7th, 2016 at 12:25 pm
স্কুল নেই, গুটিয়ে যাচ্ছে দুর্গম বগাখালীর শিশুদের স্বপ্ন

একেএম জহুরুল হক, রাঙ্গামাটি

প্রকৃতির কোলে ঘুমিয়ে থাকা পাহাড়ি এক গ্রামের নাম বগাখালী। এ যেন সভ্যতা থেকে যোজন যোজন দুরে গজিয়ে ওঠা নির্জীব নিষ্প্রাণ এক গ্রাম। প্রতিদিন কাকডাকা ভোরে ঘুম থেকে উঠে জুমে যাওয়া, আর জুম থেকে ফিরে পেটে চারটে গুঁজে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়া। এমনই এক বৈচিত্রহীন ঘেরাটোপে বাঁধা এই পাহাড়ি গ্রামের মানুষগুলোর নিয়ত জীবন। জেলা সদর থেকে কত দুরে, সে হিসেবে বাদ দিলেও এলাকার মানুষ বলে উপজেলা সদর থেকেই এই গ্রামের দূরত্ব প্রায় ৬০ কিলোমিটার।

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার পিছিয়ে থাকা উপজেলা জুরাছড়ির চার ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে দূর্গম দুমদুম্যা ইউনিয়নেরই একটি গ্রামের নাম বগাখালী। উপজেলা সদর থেকে দূরত্ব প্রায় ৬০ কিলোমিটার। যোগাযোগের জন্য নেই কোনো বাহন, দুর্গম পাহাড়ি পথে পায়ে হেটে এই ৬০ কিলোমিটার অতিক্রম সময় লাগে দুই দিন।

আগাগোড়া জুমচাষের উপর নির্ভরশীল এই জনপদের মানুষ এখন স্বপ্ন দেখছে তাদের জীবন ছকে বেঁধে শতাব্দী পার করলেও তাদের ঔরসে জন্ম নেয়া শিশুগুলো সভ্যতার হাত ধরে বেড়ে উঠুক। অসুখ বিসুখে চিকিৎসা সুবিধা না পেলেও অন্তত তাদের শিশুরা যেন শিক্ষার আলোকিত পথে হাঁটতে পারে সেই ব্যবস্থা হোক। অনেকেই তাই এনজিওর চালু করা প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়ার পর ছোট্ট শিশুটিকে উপজেলা সদরে রাখার কসরত করছেন অবাস্তব স্বপ্নে। এতে শিশুটি যেমন পিতৃমাতৃহারা হয়ে এক নির্জীব মানুষে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে, তেমনই উপজেলা সদরে ঘর ভাড়া নিয়ে বার্ষিক ৩০ থেকে ৪০হাজার টাকা ব্যয় করাও তাদের পক্ষে শেষ পর্যন্ত সম্ভব হয়ে উঠছেনা। এক সময় স্বপ্ন গুটিয়ে নিয়ে শিশুকে নামিয়ে দিচ্ছে জুম ক্ষেতে। প্রাথমিক বিদ্যালয় যাও আছে, প্রাথমিক শিক্ষার পাঠ চুকে গেলে তাদের শিক্ষাজীবনেরও ইতি ঘটছে। কারণ এই দুর্গম জনপদে কোনো উচ্চ বিদ্যালয় নেই।

দুমদুম্যা ইউপি চেয়ারম্যান শান্তিরাজ চাকমা কথা প্রসঙ্গে জানালেন, কোনো মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় অনেকে শিশুদের উপজেলা সদরে ঘর ভাড়া নিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন বটে। আর্থিক অনটনে আবার তাদের শিক্ষা জীবনের ইতি ঘটছে। তিনি জানান, এলাকার সকলে মিলে চেষ্টা করে বিগত ২০১০ সালে বগাখালী বাজারে একটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন করে। কিন্তু শর্তের বেড়াজাল ডিঙিয়ে এই বিদ্যালয় এখনও পাঠদানের অনুমতি পায়নি। এতে শিশুদের শিক্ষাচেষ্টা যেমন ব্যর্থ হচ্ছে তেমনি আর্থিক দৈন্যতা এবং শিক্ষক সঙ্কটে বন্ধ হতে বসেছে বিদ্যালয়টি।

এই ইউপি চেয়ারম্যান স্কুলটির পাঠদানের অনুমোদনসহ জেলা সদরের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তাদের এ বিষয়ে সদয় হবার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কাছে সুদৃষ্টি প্রত্যাশা করেছেন যেন শর্ত শিথিল করে এবং ফাইল চালাচালির ধান্দাপথ বাদ দিয়ে এই বিদ্যালয়টিকে ২০১৭ সালে পাঠদানের অনুমতি প্রদান করা হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান উদয় জয় চাকমা বলেন, বগাখালী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি পাঠদানের অনুমতি পাওয়ার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, তিনি আশা প্রকাশ করেন আগামী বছর পাঠদান অনুমোদনসহ বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রকল্প নেওয়া হবে।

সম্পাদনা: মাহতাব শফি


সর্বশেষ

আরও খবর

আলেমদের ওপর জুলুম আল্লাহ বরদাশত করবেন না: বাবুনগরী

আলেমদের ওপর জুলুম আল্লাহ বরদাশত করবেন না: বাবুনগরী


প্রধানমন্ত্রীপরিচয়ে তাজউদ্দীন ইন্দিরার সমর্থন আদায় করেন যেভাবে!

প্রধানমন্ত্রীপরিচয়ে তাজউদ্দীন ইন্দিরার সমর্থন আদায় করেন যেভাবে!


ঈদের পর স্কুল-কলেজ খোলার ইঙ্গিত শিক্ষামন্ত্রীর

ঈদের পর স্কুল-কলেজ খোলার ইঙ্গিত শিক্ষামন্ত্রীর


শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটির এক বছর

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটির এক বছর


ছেলেকে উদ্ধারে সেপটিক ট্যাংক নেমে বাবারও মৃত্যু

ছেলেকে উদ্ধারে সেপটিক ট্যাংক নেমে বাবারও মৃত্যু


যুবলীগের এক নেতাকে কোপাল আরেক যুবলীগে নেতা

যুবলীগের এক নেতাকে কোপাল আরেক যুবলীগে নেতা


কুমিল্লায় বাসে লাগা আগুনে ১৪ জন বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি

কুমিল্লায় বাসে লাগা আগুনে ১৪ জন বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি


নোয়াখালীর বসুরহাটে ১৪৪ ধারা জারি

নোয়াখালীর বসুরহাটে ১৪৪ ধারা জারি


শিক্ষার্থীকে নির্মম নির্যাতন; শিক্ষককে ছাড়িয়ে নিল শিক্ষার্থীর বাবা-মা

শিক্ষার্থীকে নির্মম নির্যাতন; শিক্ষককে ছাড়িয়ে নিল শিক্ষার্থীর বাবা-মা


একদিনেই সড়কে ঝড়ল ১৯ প্রাণ

একদিনেই সড়কে ঝড়ল ১৯ প্রাণ