Monday, November 7th, 2016
স্থানীয় নয়, এটা ইন্টারন্যাশনাল ঘটনা: ছায়েদুল হক
November 7th, 2016 at 10:17 am
স্থানীয় নয়, এটা ইন্টারন্যাশনাল ঘটনা: ছায়েদুল হক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া:

স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর অঞ্চলটি ব্যপকভাবে মুসলিম লীগ অধ্যুষিত ছিল। এই এলাকার ১৩টি ইউনিয়নেই ছিল মুসলিম লীগের পান্ডাদের রাজত্ব। তবে ৬৯-এর গণ অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে পাল্টাতে থাকে এখানকার সর্বসাধারণের চিন্তা চেতনা। আর মুক্তবুদ্ধি কেন্দ্রিক এই পরিবর্তনের সূচনা করেন তৎকালীন ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র’ ছায়েদুল হক। ১৯৬৮ সালে নাসিরনগর দত্ত বাড়িতে তিনি স্থানীয় ভাবে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করেন। তারপর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। দেশকে স্বাধীন করার পাশাপাশি এই এলাকা থেকে জনগণের ভোটে পাঁচবার তিনি দেশের আইন প্রণেতা নির্বাচিত হয়েছেন। এই সুদীর্ঘ কালের রাজনৈতিক জীবনে তাকে কখনোই কোন বিতর্কের মুখোমুখি হতে হয়নি। ফলে নাসিরনগরে হিন্দুদের উপর সহিংসতা দমনে ব্যর্থতা ও সংখ্যালঘুদের ‘মালাউনের বাচ্চা’ বলে গাল দেয়ার যে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে উঠেছে, তা বেশ জোরের সাথেই নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন তাকে নিয়ে চলমান গভীরতর এক রাজনৈতিক চক্রান্তের কথা। নিউজনেক্সটবিডি ডটকম’র পক্ষে মন্ত্রী ছায়েদুল হকের একান্ত সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তুহিন সাইফুল

তুসা: সংবাদ সম্মেলনে আপনি অভিযোগ করেছেন, বিরোধীরা আপনার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে…

ছায়েদুল হক: এই অপপ্রচারের একটা কারণ আছে। ১৯৬৮ সালে আমি এখানে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করি। আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত এ এলাকা থেকে আমি পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। এতোদিন ধরে আওয়ামী লীগকে, দেশকে, জাতিকে সেবা করার ফলে, সুবিধাবাদীরা এখানকার রাজনীতিতে প্রবেশ করতে পারছে না। এখন তাদের সামনে বেশ কয়েকটি পথ খোলা আছে। এক, তারা আমার মৃত্যু কামনা করে। দুই, তারা আমার রাজনৈতিক অবসর চায়। সর্বশেষ, এখানে যারা হিন্দু সম্প্রদায় আছে, তাদের থেকে আমাকে বিচ্ছিন্ন করার একটা পথ তারা করছে। আর এইটা হচ্ছে আসল। তো এইগুলা ফেইল করবে। টিকতে পারবে না।

তুসা: অভিযোগ শোনা যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অপর একটি আসনের একজন সংসদ সদস্য রাজনৈতিক ভাবে আপনাকে কোণঠাসা করার জন্যই এসব করছেন? দলের ভেতরের কারো এমন আচরণ…

ছায়েদুল হক: বিএনপি করলে তো কাছে আসতে পারে না কিন্তু দলের ভেতর থেকে করলে সুবিধা পায়। গত ইউপি নির্বাচন থেকেই কয়েকজন আমাকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে। নাসিরনগরের মোট তেরটা ইউনিয়ন। এখানে আমরা ১৩টা ইউনিয়নে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছিলাম। কিন্তু অযাচিত হস্তক্ষেপ করে ২টি ইউনিয়নে প্রার্থী দিয়েছে ওরা। গুনিয়ক আর হরিপুর ইউনিয়ন। এটার বদৌলতে তারা অনেক টাকার বাণিজ্য করেছে। এটা প্রধানমন্ত্রীকেও বলেছি আমি। এখন হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হচ্ছে আঁখি। সে মদ ব্যবসায়ি। সবাই জানে। তার মদদেই হরিপুরে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা হয়েছে।

তুসা: মৌলবাদীরা যে ট্রাকে করে এসেছে সে ট্রাকগুলো নাকি আঁখি চেয়ারম্যানই ভাড়া করেছেন?

ছায়েদুল হক: হ্যাঁ। কিন্তু ও কোনদিন আওয়ামী লীগ করে নাই। যেদিন সে ফর্ম কিনেছে, লিখেছে ওইদিন থেকে সে আওয়ামী লীগ। তারে মনোনয়ন দিয়েছে রবিউল মুক্তাদির (ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৩ আসনের সংসদ সদস্য) আর মামুন সাহেব।

তুসা: আপনি থাকতে এরা কিভাবে নাসিরনগর আওয়ামী লীগে ঢুকে?

ছায়েদুল হক: ঢুকিয়েছে তো তারা!

তুসা: রাজনৈতিকভাবে কি তাদের সাথে কুলিয়ে উঠতে পারছেন না?

ছায়েদুল হক: আমি কুলিয়ে উঠতে পারছি না এটা সত্য না। তারা আমার কাছেও আসতে পারবে না। পারেও নাই এই পর্যন্ত।

তুসা: কিন্তু গত কোরবানীর ঈদেও নাসিরনগরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল…

ছায়েদুল হক: আমি তখন হজে ছিলাম। এখানে কানিজ নামের ছাত্রলীগের এক বিতর্কিত নেত্রীকে প্রতিষ্ঠিত করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, আখাউড়া, কসবা, আশুগঞ্জের ছেলেরা এখানে এসে একটা কমিটি ঘোষণা করতে চেয়েছিল। ওই খবর পাওয়ার পরেই প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে, নাসিরনগরের আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগও ব্যরিকেড দিয়ে দিয়েছিল। ফলে তারা আসতে পারে নাই।

তুসা: আধিপত্য বিস্তারের এ রাজনীতির মূল্যই কি এ এলাকার সংখ্যালঘুরা মিটাচ্ছে?

ছায়েদুল হক: নো! প্রশ্নই ওঠে না! প্রশ্নই ওঠে না! তারা এখানকার সংখ্যালঘুদের স্পর্শও করতে পারবে না।

তুসা: তাহলে যে হামলা হলো?

ছায়েদুল হক: এটা তো অন্য ঘটনা। এটা স্থানীয় ঘটনা না। এটা ইন্টারন্যাশনাল ঘটনা। এই যে রসরাজ এ অনাকঙ্ক্ষিত ছবি পোস্ট করেছে, এটা তো সে করে নাই। সাইবার বিশেষজ্ঞরা প্রথমে ধারণা করেছিল এটা কাতার থেকে পোস্ট করা হয়েছিল। এখন শুনেছি এটা ঢাকা থেকে করা হয়েছে। এটা এখন বের করা হচ্ছে। এর পেছনে কারা আছে, সব বের হয়ে যাবে। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো এই যে চৌদ্দটা ট্রাক এসেছে, যে ট্রাকগুলোতে করে মৌলবাদীরা এসে হামলা করেছে। এর ভাড়া দিয়েছে আঁখি চেয়ারম্যান, হরিপুর ইউনিয়ন। তাহলে বুঝেন এখন এটি কে করেছে? কে লিংক আপ?

তুসা: আঁখির বিরুদ্ধে কি কোন পদক্ষেপ নেয়া হবে, কোন মামলা?

ছায়েদুল হক: কী হবে না হবে সেটা তো আমি জানি না। এটা পুলিশের ব্যপার। কিন্তু ঘটনা তো পেয়ে গেছি আমরা। এবং ওই ট্রাকের লোকেরাই ভাঙচুর করেছে।

তুসা: সবাইকে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছেনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তো এ ঘটনা আপনার নির্বাচনী প্রচারাণায় কোন প্রভাব ফেলবে কি না?

ছায়েদুল হক: নো। বরং এটা আরো ভাল হবে।

তুসা: আপনার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব অভিযোগের পরেও?

ছায়েদুল হক: অভিযোগ করলে তো আমি না করতে পারবো না। যেমন তারা বলছে আমি নাকি হিন্দুদের বলছি ‘মালাউনের বাচ্চা’। আমি জীবনেও কাউরে এমন গালি দেই নাই। এরা আমার সন্তানের মতো। এখানকার হিন্দুরা আমার পরিবার। এখন অপপ্রচার করলে আমি কী করবো! আমার পক্ষে হিন্দুরাই উত্তর দিয়েছে। আজকে হিন্দুরাই আমার পক্ষে উত্তর দিয়েছে।

তুসা: এর ফলে সংখ্যালঘুরা যদি আবার আক্রান্ত হয়? এদের জন্য আলাদা কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা কি নেয়া হবে?

ছায়েদুল হক: না। কেন? সারা জীবন আলাদা নিরাপত্তা লাগে নাই, এখন এসে লাগবে কেন? আমি তাদের পাশে আছি। আই উইল ফেইস ইট।

সম্পাদনা: প্রণব


সর্বশেষ

আরও খবর

করোনায় মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ১০ হাজার

করোনায় মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ১০ হাজার


জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বের হলেই জরিমানা

জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বের হলেই জরিমানা


লকডাউনের নামে সরকার ক্র্যাকডাউন চালাচ্ছে: ফখরুল

লকডাউনের নামে সরকার ক্র্যাকডাউন চালাচ্ছে: ফখরুল


মহামারী, পাকস্থলির লকডাউন ও সহমতযন্ত্রের নরভোজ

মহামারী, পাকস্থলির লকডাউন ও সহমতযন্ত্রের নরভোজ


আসামে বন্দী রোহিঙ্গা কিশোরীকে কক্সবাজারে চায় পরিবার

আসামে বন্দী রোহিঙ্গা কিশোরীকে কক্সবাজারে চায় পরিবার


ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক


ঢাকা-দিল্লি ৫ সমঝোতা স্মারক সই

ঢাকা-দিল্লি ৫ সমঝোতা স্মারক সই


করোনায় আরও ৩৯ মৃত্যু

করোনায় আরও ৩৯ মৃত্যু


করোনায় আক্রান্ত শচীন

করোনায় আক্রান্ত শচীন


নাশকতা ঠেকাতে র‍্যাব-পুলিশের কঠোর অবস্থান

নাশকতা ঠেকাতে র‍্যাব-পুলিশের কঠোর অবস্থান