Thursday, July 28th, 2016
স্মৃতিতে আহমদ ছফা
July 28th, 2016 at 5:52 pm
স্মৃতিতে আহমদ ছফা

ডেস্ক: প্রথাবিরোধী এবং একক নির্মোহ দৃষ্টিভঙ্গীর জন্য বুদ্ধিজীবী মহলে বিশেষ আলোচিত প্রখ্যাত বাংলাদেশি লেখক, কবি, প্রাবন্ধিক ও সমাজবিজ্ঞানী আহমদ ছফা’র ১৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ (২৮ জুলাই)। জাতীয়তাবাদী বাঙালি পরিচয়ের প্রাধান্য তার লেখার মূল বৈশিষ্ট্য।

১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দের ৩০ জুন চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার হাশিমপুর ইউনিয়নের গাছবাড়িয়া গ্রামে পিতা মরহুম হেদায়েত আলী ওরফে ধন মিয়া এবং মা আসিয়া খাতুনের সংসারে আহমদ ছফার জন্ম। দুই ভাই চার বোনের মধ্যে আহমদ ছফা ছিলেন দ্বিতীয়। তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু হয় পিতা প্রতিষ্ঠিত দক্ষিণ গাছবাড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

নিজের গ্রামের নিত্যানন্দ গৌরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন ১৯৬০ সালে। সুধাংশু বিমল দত্তের মাধ্যমে কৃষক সমিতি-ন্যাপ তথা তৎকালীন গোপন কমিউনিস্ট পার্টির সাথে যুক্ত হন ছাত্রাবস্থায়। মাস্টারদা সূর্যসেনের বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে অনুপ্রাণিত হয়ে কয়েকজন বন্ধু মিলে চট্টগ্রাম দোহাজারী রেললাইন উপড়ে ফেলেন। পরে গ্রেফতার এড়াতে কিছুকাল পার্বত্য চট্টগ্রামে আত্মগোপন করেন।

১৯৬২ সালে চট্টগ্রাম নাজিরহাট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে। নানান কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি; ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজ থেকে প্রাইভেটে পরীক্ষা দিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণীতে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন ১৯৬৭ সালে। ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে এমএ পরীক্ষা দেয়ার আগেই বাংলা একাডেমির পিএইচডি গবেষণা বৃত্তির জন্য আবেদন করেন এবং তিন বছরের ফেলোশিপ প্রোগ্রামের জন্য মনোনীত হন।

তার গবেষণার বিষয় ছিল ‘১৮০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলার মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উদ্ভব, বিকাশ, এবং বাংলার সাহিত্য-সংস্কৃতি ও রাজনীতিতে তার প্রভাব’ যদিও পিএইচডি সম্পন্ন করা পরে আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি। ১৯৭১ সালে তিনি প্রাইভেটে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ পরীক্ষা দেন। ১৯৮৬ সালে জার্মান ভাষার ওপর গ্যোটে ইনস্টিটিউটের ডিপ্লোমা ডিগ্রিও লাভ করেন তিনি। যে জ্ঞান তাকে পরবর্তী সময়ে গ্যাটের অমর সাহিত্যকর্ম ফাউস্ট অনুবাদে সাহস জুগিয়েছিল।

সাহিত্যের প্রায় প্রতিটি শাখায় প্রতিভার পরিচয় দেয়া আহমদ ছফা। গল্প, গান, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, অনুবাদ, ইতিহাস, ভ্রমণকাহিনী মিলিয়ে তিরিশটির অধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্যগুলো হল- যদ্যপি আমার গুরু, জাগ্রত বাংলাদেশ (১৯৭১), বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস (১৯৭২), বাংলা ভাষা: রাজনীতির আলোকে (১৯৭৫), বাংলাদেশের রাজনৈতিক জটিলতা (১৯৭৭), বাঙালি মুসলমানের মন (১৯৮১), শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য প্রবন্ধ (১৯৮৯)।

অ্যাসপেক্ট অফ সোশ্যাল হারমনি ইন বাংলা কালচার অ্যান্ড পিস সং (১৯৯১), রাজনীতির লেখা (১৯৯৩), আনুপূর্বিক তসলিমা ও অন্যান্য স্পর্শকাতর প্রসঙ্গ (১৯৯৪), নিকট ও দূরের প্রসঙ্গ (১৯৯৫), সঙ্কটের নানা চেহারা (১৯৯৬), সাম্প্রতিক বিবেচনা: বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস (১৯৯৭), শরবর্ষের ফেরারী: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৯৭), শান্তিচুক্তি ও নির্বাচিত প্রবন্ধ (১৯৯৮)।

বাঙালি জাতি এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্র (২০০১), উপলক্ষের লেখা (২০০১), আমার কথা ও অন্যান্য প্রবন্ধ (২০০২), সেইসব লেখা (২০০৮), জল্লাদ সময় (১৯৭৫), দুঃখের দিনের দোহা (১৯৭৫), একটি প্রবীণ বটের কাছে প্রার্থনা (১৯৭৭), লেনিন ঘুমোবে এবার (১৯৯৯), সূর্য তুমি সাথী (১৯৬৭), ওংকার (১৯৭৫), একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন (১৯৮৮), মরণবিলাস (১৯৮৯)।

অলাতচক্র (১৯৯৩), গাভী বিত্তান্ত (১৯৯৫), অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী (১৯৯৬), পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ (১৯৯৬), নিহত নক্ষত্র (১৯৬৯), সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস (১৯৭৯), যদ্যপি আমার গুরু (১৯৯৮), দোলো আমার কনকচাঁপা (১৯৬৮), গো-হাকিম (১৯৭৭)। এছাড়া তার অনূদিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে তানিয়া (মূল: পি. লিডভ) (১৯৬৭), সংশয়ী রচনা: বার্টাণ্ড রাসেল (১৯৮২), ফাউস্ট (মূল: ইয়োহান ভোলফ্‌ গাঙ ফন গ্যোতে) (১৯৮৬)।

জীবদ্দশায় তিনি লেখক শিবির পুরস্কার ও বাংলা একাডেমি কর্তৃক সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন। ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে ইতিহাস পরিষদ পুরস্কার গ্রহণ করেছেন বলে জানা যায়। মৃত্যুর পর, ২০০২ সালে তাকে সাহিত্যে (মরণোত্তর) একুশে পদক প্রদান করা হয় ।

২০০১ খ্রিস্টাব্দের ২৮ জুলাই অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালে নেয়ার পথে মৃত্যু হয় তার। পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে জানাজা শেষে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধজীবী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

নিউজনেক্সটবিডি ডটকম/এসকেএস/এসজি

 


সর্বশেষ

আরও খবর

প্রয়াণের ২১ বছর…

প্রয়াণের ২১ বছর…


মুক্তিযুদ্ধে যোগদান

মুক্তিযুদ্ধে যোগদান


স্বাধীনতার ঘোষণা ও অস্থায়ী সরকার গঠন

স্বাধীনতার ঘোষণা ও অস্থায়ী সরকার গঠন


শিশু ধর্ষণ নিয়ে লেখা উপন্যাস ‘বিষফোঁড়া’ নিষিদ্ধ!

শিশু ধর্ষণ নিয়ে লেখা উপন্যাস ‘বিষফোঁড়া’ নিষিদ্ধ!


বীর উত্তম সি আর দত্ত আর নেই, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক

বীর উত্তম সি আর দত্ত আর নেই, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক


১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে

১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে


সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণে এলেন বেলারুশের সাংবাদিকেরা!

সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণে এলেন বেলারুশের সাংবাদিকেরা!


লুণ্ঠন ঢাকতে বারো মাসে তেরো পার্বণ

লুণ্ঠন ঢাকতে বারো মাসে তেরো পার্বণ


সংগীতের ভিনসেন্ট নার্গিস পারভীন

সংগীতের ভিনসেন্ট নার্গিস পারভীন


দ্য লাস্ট খন্দকার

দ্য লাস্ট খন্দকার