Wednesday, December 14th, 2016
স্মৃতিসৌধে বিজয়ের আড্ডা
December 14th, 2016 at 9:09 am
স্মৃতিসৌধে বিজয়ের আড্ডা

গণ বিশ্ববিদ্যালয়: দীর্ঘ সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে ভয়াবহ এক রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের সোনার বাংলাদেশ। ৩০ লাখ বীর শহীদ আর হাজারো মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয়েছে এই বিজয়।

জাতি হিসেবে আমরা বাঙালিরা অনেক বেশি আবেগপ্রবণ। সে আবেগটা যদি হয় দেশের মুক্তিযুদ্ধের বিজয় নিয়ে তাহলে সেটা কোন পর্যায়ে পৌঁছায় তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

বছর ঘুরে আবার এলো বিজয়ের মাস। এ বিজয়ের মাসে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে বিজয় দিবসের আবেশ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের আড্ডায় এখন আলোচনার প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বিজয়ের মাস । ক্লাস ও পরীক্ষার ফাঁকে ক্যাম্পাস চত্বর কিংবা ক্যান্টিন আড্ডায় বারবার উঠে আসছে মুক্তিযুদ্ধ, বিজয় দিবসের ইতিহাস, পটভূমি এবং আমাদের বিজয় অর্জন।

এমনই আড্ডা চলছে সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে। মুক্তিযুদ্ধে নিহত মহান বীর শহীদের স্মৃতিতে নির্মিত জাতীয় স্মৃতিসৌধ গণ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পাশেই অবস্থিত। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এই তরুণরা মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি; কিন্তু তাদের রক্তে রয়েছে অকৃত্রিম দেশপ্রেম আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। এই শিক্ষার্থীরা জাতীয় স্মৃতিসৌধে শপথ নিয়েই তাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুরু করেছে। বিজয়ের মাসে তাই তাদের আড্ডাটা চলছে জাতীয় স্মৃতিসৌধে।

তাদের একেকজনের ভাষায় বিজয় দিবসের আবেগ এক এক রকম। সিহাবের ভাষায়, “বিজয় মানে নিরাপদে ঘর থেকে বের হয়ে আবার নিরাপদে ফিরে আসা।” আবার ইমরান হাসান জনির ভাষায়, “বিজয় মানে যাদের মহান আত্মত্যাগের বিনিময়ে এ স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে তাদের কথা চিন্তা করে সেই আলোকে জীবন পরিচালনা করা, দেশের জন্য কাজ করা।”

নিশুর ভাষায়, “বিজয় দিবস মানে একটা চেতনা যা লালন করে প্রতিটি বাঙালি তাদের অন্তরে।”

মহান জাতীয় স্মৃতিসৌধের মুক্তমঞ্চে বসে কথা হচ্ছিল সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে, এদের সঙ্গে আরও যোগ দিলেন সামিয়া ইসলাম উপমা, এস. এম. আহমেদ মনির, সুরাইয়া পারভীন ইতি , মিষ্টি রহমান, শাহীনুর আলম এবং মুন্নী আক্তার।

মিষ্টির কথায়, “বিজয় দিবস মানে পতাকা নিয়ে দৌড়াদৌড়ি আর মুক্ত পাখির মতো ডানা মেলে নীল আকাশে ছুটে চলা।”

কথায় কথায় এভাবেই জমে ওঠে তাদের আড্ডা। আড্ডা চলতে চলতে সময় বয়ে যায়, প্রসঙ্গক্রমে কথা হয় বিজয়ের ৪৫ বছরে আমাদের প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তি নিয়ে। শাহীনুরের মতে, “অপ্রাপ্তির চেয়ে প্রাপ্তির পাল্লাই বেশি ভারী। মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের এ অল্প কয়েকদিনে আমাদের অর্জন অনেক বেশি। আমরা ধীরে ধীরে বিশ্বের মানচিত্রে নিজেদের গৌরবান্বিত একটি জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছি নানাভাবে।”

কিন্তু মনির আর সামিয়া ইসলাম উপমা তর্ক জুড়ে দেন মুন্নীর সঙ্গে। মনির বলেন, “আমরা স্বাধীনতাকে চেয়েছি কিন্তু পেয়েছি কি-না তাই নিয়ে আজও আমাদের মনে সংশয়। নিজের ভেতরে প্রশ্ন জাগে, কেননা আজও আমরা নিজের মতো করে আমাদের মাতৃভূমিকে পাইনি। শুধু মাতৃভাষায় কথা বলতে পারাটা কখনই স্বাধীনতার বহিঃপ্রকাশ না।” এর সঙ্গে উপমা যোগ করেন, “চলমান সহিংসতা, হত্যা আর অপরাধের কথাও। তবে যে যাই বলুক না কেন সবার প্রত্যাশার জায়গা একটাই। একটি সোনার বাংলাদেশ।”

প্রতিবেদন: মুন্নী আক্তার, সম্পাদনা: প্রণব

ছবিঃ সাহাদাত রাফি

 


সর্বশেষ

আরও খবর

করোনায় ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩২৭

করোনায় ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩২৭


তারুণ্যের ইচ্ছার স্বাধীনতা কোথায়!

তারুণ্যের ইচ্ছার স্বাধীনতা কোথায়!


এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ


গবেষণায় জালিয়াতি করায় ঢাবির তিন শিক্ষকের শাস্তি

গবেষণায় জালিয়াতি করায় ঢাবির তিন শিক্ষকের শাস্তি


ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারিরা কেন আওয়ামী লীগ করতে পারেন না!

ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারিরা কেন আওয়ামী লীগ করতে পারেন না!


জুন-জুলাইয়ে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা

জুন-জুলাইয়ে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা


ঢাবি শিক্ষক সমিতি নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নীল দল জয়ী

ঢাবি শিক্ষক সমিতি নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নীল দল জয়ী


ঢাকার ১৫ মাইলের মধ্যে মিত্রবাহিনী

ঢাকার ১৫ মাইলের মধ্যে মিত্রবাহিনী


যুক্তরাষ্ট্রের হুমকীর মুখেও অটল ভারত

যুক্তরাষ্ট্রের হুমকীর মুখেও অটল ভারত


বেসামাল প্রেসিডেন্ট, গভর্নর দিশেহারা

বেসামাল প্রেসিডেন্ট, গভর্নর দিশেহারা