Sunday, August 28th, 2016
‘হল চাই, দখলমুক্ত করা আমাদের কাজ নয়’
August 28th, 2016 at 10:17 pm
‘হল চাই, দখলমুক্ত করা আমাদের কাজ নয়’

প্রীতম সাহা সুদীপ ও ময়ূখ ইসলাম, ঢাকা: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট সমাধানের দাবি দীর্ঘদিনের। বছর খানেক আগে এ ব্যাপারে জোরালো আন্দোলন হলেও কোনো এক অজানা কারণে হঠাৎ তা থেমে যায়। তবে সম্প্রতি নাজিমউদ্দিন রোডের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের পর ওই স্থানে হল নির্মাণের দাবিতে আবারো আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ঘোষণা চান তারা।

যদিও নিউজনেক্সটবিডি ডটকমের সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জবির অন্তত ১২টি হল দখল হয়ে রয়েছে, যেগুলো উদ্ধার করা গেলে হলের জন্য কারাগারের জমির প্রয়োজন হবে না। তবে হলগুলো দখল মুক্ত করা শিক্ষার্থীদের কাজ নয়- এটিও জানিয়েছেন তারা।

jnu 1 img

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়টি কলেজ থাকাকালে পুরান ঢাকার আরমানিটোলা, পাটুয়াটুলি, প্যারীদাস রোড, তাঁতীবাজার, ওয়াইজঘাট, বংশাল ও টিপু সুলতান রোডে অন্তত ১২টি হল ছিল। ১৯৮৫ সালের তৎকালীন সরকার বিভিন্ন অযুহাতে সব হল বন্ধ করে দিলে হলগুলো প্রভাবশালী দখলদারদের হাতে চলে যায়।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেহরাব আজাদ নিউজনেক্সটবিডি ডটকম’কে বলেন, ‘এই আন্দোলনের মূল ভিউ হচ্ছে নতুন হল নির্মাণ করতে হবে।’

jnu

কেন্দ্রীয় কারাগারের জায়গায় হল নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের হল দরকার। এজন্য আমরা ওই জায়গাটা দেখিয়ে দিয়েছি। তবে হল কোথায় করা হবে সে বিষয়টা সরকার বুঝবে।’

ঢাকার বাইরে অর্থাৎ কেরানীগঞ্জে হল নির্মাণ হলে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যদি কেরানীগঞ্জেও হল নির্মাণ হয় তাও আমাদের সমস্যা নেই।’

তিনি অভিযোগ করেন, হলের দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন সাত বছরের। এর আগেও অনেকবার নানা কারণে এ আন্দোলন পিছিয়ে গেছে। তারা এই আন্দোলনে শিক্ষক কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে পাচ্ছেন না।

তবে এবার আর পেছানোর সুযোগ নেই, সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট কোনো ঘোষণা না এলে সোমবার নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে, যোগ করেন তিনি।

jnu 2

দখল হওয়া হলগুলো উদ্ধারে আন্দোলন হচ্ছে না কেনো- এমন প্রশ্নের উত্তরে আজাদ বলেন, ‘হল দখল মুক্ত করা শিক্ষার্থীদের কাজ নয়। এটা সরকারের কাজ। বিভিন্ন সময়ে হল দখলমুক্ত করতে গিয়ে ‘হলের মূল দাবি’ ভেস্তে গেছে। তাই আমাদের একটাই দাবি আমরা হল চাই।’

সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর কেরানীগঞ্জের ১০ তলাবিশিষ্ট হল নির্মাণের প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নে সরকারের আশ্বাস পাওয়ার কথা জানিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ‌্যালয়ের উপাচার্য অধ‌্যাপক মীজানুর রহমান।

অধ‌্যাপক মীজানুর বলেন, ‘আমরা প্রায় ২৫ বিঘা জমি ক্রয় করেছি কেরানীগঞ্জে। পৌণে ৩০০ কোটি টাকার অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পটি দ্বিতীয়বার সংশোধিত হয়ে এখন একনেকে অনুমোদনের জন্য যাচ্ছে। এ প্রকল্পটি আগে ১২৬ কোটি টাকার ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তা সংশোধন করে বাজেট বাড়ানো হয়েছে।’

jnu 1

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রীকে অতিদ্রুত প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদনের জন্য তুলতে নির্দেশ দিয়েছেন। একনেকে অনুমোদন হলে দ্রুত এ প্রকল্পের কাজ শেষ করা যাবে।’

তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অনেকেই বলছেন, ঢাকায় তাদের এতগুলো হল বেদখল রয়েছে, সেগুলো রেখে তারা ঢাকার বাইরে যাবেন না। এ প্রসঙ্গে জবির আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মাহফুজ শাকিল নিউজনেক্সটবিডি ডটকমকে বলেন, ‘আমরা ঢাকাতেই অবস্থান করবো। ঢাকার বাইরে আবাসিক হল নির্মাণ করার ষড়যন্ত্র আমরা বুঝি। আমাদের নিয়ে ছেলেখেলা চলবে না। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেদখলে থাকা ১২টি হলের সবগুলো ঢাকার মধ্যেই অবস্থিত, তাহলে কোন যুক্তিতে আমাদের ঢাকা থেকে বের করতে চায় সরকার।’

তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের গাফিলতির কারণে জবির ওই ১২টি হল তৎকালীন কিছু ভূমিদস্যুদের কবলে চলে যায়। যার সবগুলোর অবস্থান ঢাকার মধ্যে। এখন সরকারের সামনে দুটি পথ খোলা আছে। হয় আমাদের বেদখলে থাকা হলগুলো উদ্ধারের ব্যবস্থা করে সেখানে অন্তত ৫টি হল নির্মাণ কাজ শুরু করতে হবে। নয়তো কারাগারের খালি হওয়া জায়গাটিতে জাতীয় ৪ নেতার নামে ৪টি এবং বঙ্গবন্ধুর নামে ১টি হল নির্মানের কাজ শুরু করতে হবে। এছাড়া আমাদের ফেরার রাস্তা জানা নেই।’

JNU 1

ঢাকার বাইরে শিক্ষার্থীরা যেতে চান না- এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রফ্রন্ট সভাপতি মেহরাব আজাদ বলেন, এটা তারা ক্ষোভে বলছেন। হল নির্মানের ঘোষণা এলেই তারা শান্ত হয়ে যাবেন।

এক নজরে জবির দখল হওয়া ১২টি হল-

১. শহীদ আনোয়ার শফিক হল: অবস্থান, শরৎ চন্দ্র চক্রবর্তী রোড, মহৎটুলি, আরমানিটোলা। হলটি বর্তমানে হাজী মোহাম্মদ আবুল বাশার ও সালেহা বেগমের দখলে। জমির পরিমান ৪০ কাঠা।

২. শহীদ আজমল হোসেন হল: অবস্থান ১৬/১৭ রমাকান্ত নন্দী লেন, পাটুয়াটুলি। জমির পরিমান ৫.০৫ কাঠা। ১৭নং হোল্ডিংয়ে ৭টি পরিবার ও অন্য পরিবার পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসাবে গণপূর্ত থেকে ভাড়া নিয়েছে। ১৬ নং হোল্ডিং জৈনক নুরুল ইসলামের দখলে। উভয় হোল্ডিং ১৬/৭২ রাষ্ট্রপতির আদেশে পরিত্যাক্ত। বর্তমান দখলদার একজন কেয়ারটেকার এবং তিনি পিডব্লিউকে ভাড়া পরিশোধ করছেন। বর্তমানে লীজ বাতিল করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই দীর্ঘ মেয়াদ লীজ প্রদানের জন্য জবি কর্তৃপক্ষ ইচ্ছা করলেই উদ্ধার করতে পারে।

৩. বাণী ভবন হল: অবস্থান ঈশ্বরদাস লেন, ৩৫/৩৬, প্যারীদাস রোড। এই হলের উত্তর ও পশ্চিমে অবস্থিত দালানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭টি পরিবার ও ২৫ জন ব্যাচেলার বসবাসরত আর দক্ষিণ পাশে জাহানারা বেগম ৭টি দোকান প্রেস ও বাইন্ডিং কারখানা ভাড়া দিয়ে ভোগ দখলে আছে। ১৯৫৪ সাল থেকে এই জমি বিশ্ববিদ্যালয়ের দখলে আছে হলের অপর অংশ বহিরাগতদের দখলে।

৪. শহীদ সাহাবুদ্দিন হল: ৮২, রাধিকা মোহন বসাক লেন, ঝুলন বাড়ী, তাঁতী বাজারে অবস্থিত। জমির পরিমান ৪.০৯ কাঠা। কিন্তু কিছু পুলিশ পরিবার এ জায়গায় বসবাস করছে।

৫. তিব্বত হল: ৮, ৯ জি এল গার্থ লেন, কুমারটুলি, ওয়াইজঘাট এ অবস্থিত। জমির পরিমান ৮.৮৯ কাঠা। বহুল আলোচিত এ হলটি দখল করে আছেন সংসদ সদস্য হাজী সেলিম। সেখানে তার স্ত্রীর নামে গুলশান আরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে।

৬. আব্দুর রহমান হল: ৬, ৬/১ এসি রায় রোড, বটতলা আরমানিটোলায় অবস্থিত এ হলের পরিমাণ ২৫.৭৭ কাঠা। দখল করে আছে পুলিশের ১৭টি পরিবার।

৭. সাইদুর রহমান ও আব্দুর রউফ মজুমদার হল: ১৬, ১৭, ২৩ যদুনাথ বসাক লেনে অবস্থিত। এ হলের জায়গার পরিমান ২২.৯৭ কাঠা। বর্তমানে সরকার ও দখলদার বিরোধ সংক্রান্ত মামলা চলছে।

৮. বজলুর রহমান হল: ২৬, মোগলটুলী, বংশালে অবস্থিত। হলের জমির পরিমান ৪.৪০ কাঠা।প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হাই স্কুল এর পক্ষে ঢাকা সিটি করপোরেশনের দখলে রয়েছে।

৯. শহীদ নজরুল ইসলাম হল: ৫/১, ২, ৩, ৪ ,৬ গোপী মোহন বসাক লেন টিপুসুলতান রোডে অবস্থিত। হলের জায়গার পরিমাণ ১ বিঘা। দখল করে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে জামিয়া শারিয়া বেগ জান্নাত মাদ্রাসা ও এতিমখানা।

১০. ডঃ হাবিবুর রহমান হল: ৩৫, ৩৬, ৩৭ গোলক পাল লেন, মালিটোলা বংশাল এ অবস্থিত। এ হলের পরিমান ৯.৩৯ কাঠা। সরকারের নিয়ন্ত্রণ বিজ্ঞ সহকারী জজ ৩য় আদালতে দেঃ মোঃ নং ৮৫/০৯ চলমান মামলাধীন।

১১. পাটুয়াটুলি কর্মচারী আবাস: ২৬, পাটুয়াটুলিতে অবস্থিত। বর্তমানে ক্রাউন মার্কেটের অবৈধ দখলে।

১২. ধুপখোলা মাঠ: গেন্ডারিয়া, সুত্রাপুর এ অবস্থিত। জমির পরিমাণ ১২০ কাঠা। বর্তমানে জবির আওতাধীন।

সম্পাদনা- জাহিদুল ইসলাম


সর্বশেষ

আরও খবর

করোনায় প্রাণ গেল আরও ২১ জনের

করোনায় প্রাণ গেল আরও ২১ জনের


শিশু ধর্ষণের মামলায় দ্রুততম রায়ে আসামির যাবজ্জীবন

শিশু ধর্ষণের মামলায় দ্রুততম রায়ে আসামির যাবজ্জীবন


মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে নির্দেশ মন্ত্রিসভার

মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে নির্দেশ মন্ত্রিসভার


দেশে করোনায় আরও ২৩ জনের মৃত্যু

দেশে করোনায় আরও ২৩ জনের মৃত্যু


ভোট সুষ্ঠু হয়েছে; দাবি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের

ভোট সুষ্ঠু হয়েছে; দাবি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার খসড়া তালিকায় গ্লোব বায়োটেকের ভ্যাকসিন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার খসড়া তালিকায় গ্লোব বায়োটেকের ভ্যাকসিন


আপাতত বন্ধ হচ্ছে না ইন্টারনেট-ক্যাবল টিভি

আপাতত বন্ধ হচ্ছে না ইন্টারনেট-ক্যাবল টিভি


মিরপুর চিড়িয়াখানা খুলছে ১ নভেম্বর

মিরপুর চিড়িয়াখানা খুলছে ১ নভেম্বর


দেশে করোনায় আরও ১৫ মৃত্যু

দেশে করোনায় আরও ১৫ মৃত্যু


দুর্গাপূজা নিয়ে ডিএমপির ৫ সিদ্ধান্ত

দুর্গাপূজা নিয়ে ডিএমপির ৫ সিদ্ধান্ত