Tuesday, September 6th, 2016
হাসি
September 6th, 2016 at 3:22 pm
হাসি

আসলাম মালিক:

 

‘খাইছো?’

জিজ্ঞেস করেই হন্তদন্ত হয়ে বুকপকেট হাতড়াই আমি। ঠিক এই মূহুর্তেই একটা সিগারেট জ্বালানো দরকার। অনেকক্ষণ সময় নিয়ে থেমে থেমে বিরিয়ানিটা শেষ করার পর বুঝলাম, এতক্ষণ ধরে আমি একাই খাচ্ছিলাম। সৌজন্যতার খাতিরে তাই জিজ্ঞেস করা।

বিজলী হাসে। এ হাসি চালাকি অথবা বোকামি ধরে ফেলার হাসি- আমিও তা বুঝি। তবুও জবাবের আশা ছাড়ি না।

বিজলী আমার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে সিগারেট খাওয়া দ্যাখে। বহুদিন আগে, যখন ওর সাথে আমার প্রথম পরিচয়, ঘনিষ্ঠতা সবে শুরু হচ্ছে- তখনকার এক সন্ধ্যায় ও আমার কাছে জানতে চাইলো- ‘আপনার ঠোঁট পাতলা বলে ধোঁয়া সরু হয়ে ঠোঁট ছাড়ে?’

আমি হো হো করে হেসে ফেলি। বিজলী আমার হাসিমুখ দেখে নিষ্পলক; ওর দৃষ্টিতে যেন কি আছে, আমার কেমন কেমন যেন লাগে।

– মহী, তুমি কি আরেকটু পরে যাবে নাকি?

আমি উত্তর না দিয়ে বোঝার চেষ্টা করি, কোনটায় ওর সুবিধা হয়। অনুমতি চাওয়ার ভঙ্গিতে বলি- ‘খানিক্ষণ থাকি, কি বল?’

বিজলী স্বস্তিদায়ক কণ্ঠে বলে- ‘আমিও সেটাই চাচ্ছিলাম। বসো, বসে টিভি দেখতে পারো।’

– তুমি কি করবে?

– গা ধুবো। ময়লা ময়লা লাগছে।

– শ্যাম্পু করবা না?

ইঙ্গিত বুঝে বিজলী সশব্দে হেসে ওঠে। বলে- ‘তুমি আমার ঘ্রাণ পাও, নাহ্?’

আমি লজ্জা তাড়ানোর জন্যে টিভির রিমোট হাতে নিয়ে সিগারেটে কষে টান মারি। টানের জোরে আর আমার ঠোঁটের ব্যস্ততায় গলায় ধোঁয়া আটকে যায়। কাশতে কাশতে আমার চোখে পানি জমে, চোখ ডলতে ডলতে আমি লাল করে ফেলি। বিজলী আমার গালে হাত রেখে বলে- ‘তুমি খুব চালাকি করো আমার সাথে।’

তোয়ালেটা কাঁধে ঝুলিয়ে গোসল করতে যায় বিজলী। আমি খেয়াল করি ধূসর রঙের শাড়ি পরা বিজলী গায়ে ব্লাউজ দেয়নি। ওর বুকের পাশ থেকে হলুদ মাংসপিন্ডের একপাশ উঁকি মারে। চোখ নামিয়ে আমি চেয়ে থাকি বিজলীর কোমরের দিকে। ও গোসলখানার দরজা আটকে দেয়।

সোফায় গা এলিয়ে দশ মিনিটের মতো আমি বসে থাকি। টিভিতে কি একটা অনুষ্ঠান চলে, আমি ঠিক মনোযোগ দিতে পারিনা তাতে। বিজলী ভেজা চুল থেকে তোয়ালে খুলে আমার দিকে বুক উঁচিয়ে দাঁড়ায়। তারপর চুল ঝাড়তে ঝাড়তে হঠাৎ থেমে যায়। বলে- ‘তোমার বিয়ের বয়স পেরিয়ে যাচ্ছে মহী! তুমি ফিরবে কবে?’

আমি জান্নাত-এর কথা পেড়ে বসি। জান্নাত আমাকে কিভাবে চায়, কি ভেবে আমাকে ভাবে, এসব। সেই যে বছর জান্নাতকে আমি জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে রাত সকাল করেছিলাম, সেই গল্পও করি।

বিজলী বলে- ‘তুমি এক চরিত্রকে অনেকভাবে উপস্থাপন করেছো। আমি এসব বুঝি।’

আমি বিজ্ঞের ভাব নিয়ে বলি, তানিম ভাই যুক্তি দিয়ে খোঁটা দিতে মানা করেছে।

বিজলী হাসি চেপে জানতে চায়- ‘আর কি বলে তোমার তানিম ভাই?’

আমি কৌতুককে সিরিয়াস পর্যায়ে টেনে নিয়ে আবার শুরু করি। বলছে, ভুল ধরার চেষ্টা না করতে। মানুষকে তার গল্প বলতে দিতে হয়। বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাকে থামিয়ে দিতে হয় না।

বিজলী চটে যায়। আমার দিকে ছোট ফুলদানিটা ছুঁড়ে মারে। হাত দিয়ে মুখ ঢাকার চেষ্টায় আমার কনুইয়ে লেগে ফুলদানিটা খুব সুন্দর করে ভেঙে যায়। আমি “আউ” বলে চিৎকার করে উঠি। বিজলী দৌড়ে এসে দ্যাখে হাত থেকে গলগলিয়ে রক্ত বেরুচ্ছে। ও কেঁদে ওঠে, যেন ব্যথাটা ওরই। আমি ফেটে যাওয়া কনুই চেপে হাসতে থাকি। ওর কান্নার জোর বেড়ে যায়। আমি আরও জোরে হেসে উঠি।

লেখক: ছাত্র, কবি, লেখক

ছবি কৃতজ্ঞতা: তানিম কবির

সম্পাদনা- এস. কে. সিদ্দিকী


সর্বশেষ

আরও খবর

মুক্তিযুদ্ধে যোগদান

মুক্তিযুদ্ধে যোগদান


স্বাধীনতার ঘোষণা ও অস্থায়ী সরকার গঠন

স্বাধীনতার ঘোষণা ও অস্থায়ী সরকার গঠন


শিশু ধর্ষণ নিয়ে লেখা উপন্যাস ‘বিষফোঁড়া’ নিষিদ্ধ!

শিশু ধর্ষণ নিয়ে লেখা উপন্যাস ‘বিষফোঁড়া’ নিষিদ্ধ!


১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে

১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে


সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণে এলেন বেলারুশের সাংবাদিকেরা!

সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণে এলেন বেলারুশের সাংবাদিকেরা!


লুণ্ঠন ঢাকতে বারো মাসে তেরো পার্বণ

লুণ্ঠন ঢাকতে বারো মাসে তেরো পার্বণ


দ্য লাস্ট খন্দকার

দ্য লাস্ট খন্দকার


১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে

১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে


নিউ নরমাল: শহরজুড়ে শ্রাবণ ধারা

নিউ নরমাল: শহরজুড়ে শ্রাবণ ধারা


তূর্ণা নিশীথা

তূর্ণা নিশীথা