Wednesday, October 12th, 2016
হোসেনি দালানে বোমা হামলার এক বছর
October 12th, 2016 at 11:16 am
হোসেনি দালানে বোমা হামলার এক বছর

ডেস্ক: গত বছর ২৩ অক্টোবর হোসেনি দালানে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির সময় গ্রেনেড হামলা চালায় জঙ্গিরা। এ ঘটনায় দুজন নিহত ও শতাধিক আহত হন। নজিরবিহীন এ ঘটনার বিচার কাজ শুরু হয়নি এক বছরেও। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলাটি ঝুলে আছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায়।

গত বছরের ২৩ অক্টোবর মধ্যরাতে হোসেনি দালানে বোমা হামলা চালিয়েছিল জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) জঙ্গিরা। এতে ঘটনার দিন একজন, পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো একজনের মৃত্যু হয়। আহত হন শতাধিক।

ওই ঘটনায় চকবাজার থানায় একটি মামলা করে পুলিশ। পরে মামলাটির তদন্তভার নেয় ডিবি। সেই মামলায় ১৩ জঙ্গিকে অভিযুক্ত করে চলতি বছরের ২০ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলো সাঈদ ওরফে হিরন ওরফে কামাল, জাহিদ হাসান ওরফে রানা ওরফে মোসায়েব, শাহাদাৎ ওরফে আলবানি ওরফে মাহফুজ ওরফে হোজ্জা, আবদুল বাকি ওরফে আলাউদ্দিন ওরফে নোমান, আরমান, রুবেল ইসলাম ওরফে সজীব, কবির হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আশিক, মাসুদ রানা, আহসান উল্লাহ মাহমুদ, আবু সাইদ সোলায়মান ওরফে সালমান, চান মিয়া, ওমর ফারুক ওরফে মানিক ও শাহজালাল।

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, শিয়া সম্প্রদায়ের বড় সমাবেশস্থলে বেশিসংখ্যক মানুষকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল ওই জঙ্গিদের। তবে সিসিটিভি ক্যামেরা, আর্চওয়ে স্থাপনসহ নিরাপত্তার কিছু উদ্যোগের কারণে জঙ্গিরা পরিকল্পনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তবে এই হামলায় নব্য জেএমবির ১৩ জঙ্গি অংশ নেয়। সংগঠনটির সামরিক শাখার কমান্ডার শাহাদাৎ ওরফে আলবানি ওরফে মাহফুজ ওরফে হোজ্জা ছিলেন হামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী। এই পরিকল্পনাকারীসহ ৩ জন ইতোমধ্যে ডিবির সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। বাকি ১০ জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫ জন ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে তারা জানান, মোহাম্মদপুরের বিহারি ক্যাম্পেও শিয়াদের ওপর হামলার পরিকল্পনা ছিল তাদের। এজন্য প্রথম তারা মোহাম্মদপুরে বাসাভাড়া নিয়েছিল। পরে হোসেনি দালানে হামলার পরিকল্পনা করে তড়িঘড়ি করে কামাঙ্গীরচরে বাসাভাড়া নেয়। হোসেনি দালানের কবরস্থান থেকে মাহফুজ ওরফে আলবানি ৫টি গ্রেনেড বোমা ছুরে মারে। এ সময় তার সঙ্গে রাশেদ ওরফে আশিক উপস্থিত ছিল। এ ৩ জন আশুলিয়ায় ব্যাংক ডাকাতির পর পীর ও মাজারের অনুসারীদের হত্যায়ও অংশ নিয়েছিল। বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকে ডাকাতি ও আটজনকে হত্যার ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীও ছিলেন হোজ্জা।

এ বিষয়ে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবির উপকমিশনার (দক্ষিণ) মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, তদন্তে জানা যায়, গ্রেফতার ১০ জনের মধ্যে কেউ হামলার পরিকল্পনা করে, কেউ গ্রেনেড সরবরাহ করে, কেউ বা বাসাভাড়া করে সহায়তা করেছেন। তবে মূল হত্যায় যে পাঁচজন জড়িত ছিল তাদেরই জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো জানান, অল্প সময়ের মধ্যে আমরা মামলাটি তদন্ত করে গত ২০ এপ্রিল আদালতে চার্জশিট দিয়েছি। হোসেনি দালানে তাজিয়া মিছিলে বোমা হামলায় ১৩ জঙ্গি জড়িত ছিল। তাদের মধ্যে আমরা ১০ জনকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করেছি। গ্রেফতার হওয়া চারজন আদালতে জবানবন্দিতে হামলার পরিকল্পনাকারীসহ ঘটনার ব্যাপারে সব তথ্য দিয়েছে। এখন মামলাটি বিজ্ঞ আদালতে বিচারের অপেক্ষায় আছে।

সূত্র জানায়, গত ১৩ জানুয়ারি রাতে হাজারীবাগে ডিবির সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় জেএমবির দুই কমান্ডার হিরণ ওরফে কামাল ও আলাউদ্দিন ওরফে নোমান। এর আগে গত বছরের ২৫ নভেম্বর গাবতলীতে ডিবির সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় মাহফুজ ওরফে হোজ্জা। এই তিনজনই হোসেনী দালানে বোমা হামলা, গাবতলী ও আশুলিয়ায় পুলিশ সদস্য হত্যায় জড়িত।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পিপি আবদুল্লাহ আবু জানিয়েছেন, ছয় মাস আগে ১০ জনের বিরুদ্ধে এ মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়। এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া বিচারকাজ শুরু করা যাচ্ছে না। আদালতে এখনো চার্জশিটের কপি না আসায় বিচারকাজ আরম্ভ করা যাচ্ছে না।

এবার নিরাপত্তার বিষয় মাথায় রেখে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সিসিটিভি স্থাপন, প্রবেশমুখে আর্চওয়ে স্থাপন করে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে হ্যান্ডমেটাল ডিটেক্টর দিয়ে চেক করে সবাইকে প্রবেশ করাতে হবে। কোনোক্রমেই কাউকে ব্যাগ, টিফিন বক্স, প্রেসারকুকার নিয়ে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া যাবে না। পাইকরা দৌড়ে সরাসরি অনুষ্ঠানের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে না এবং ছুরি, বল্লম, দা ও তলোয়ার নিয়ে মিছিল করতে পারবে না। বৃস্পতিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া হোসেনি দালানের নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

নিউজনেক্সটবিডি.কম/পিএ


সর্বশেষ

আরও খবর

দ্য ডেইলি হিলারিয়াস বাস্টার্ডস

দ্য ডেইলি হিলারিয়াস বাস্টার্ডস


আসামে বন্দী রোহিঙ্গা কিশোরীকে কক্সবাজারে চায় পরিবার

আসামে বন্দী রোহিঙ্গা কিশোরীকে কক্সবাজারে চায় পরিবার


ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক


দক্ষ লেখক, রাজনীতিক; ক্ষমতার দাবা খেলোয়াড়ের মৃত্যু

দক্ষ লেখক, রাজনীতিক; ক্ষমতার দাবা খেলোয়াড়ের মৃত্যু


সমাজ ব্যর্থ হয়েছে; নাকি রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে?

সমাজ ব্যর্থ হয়েছে; নাকি রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে?


বঙ্গবন্ধুর মুক্তির নেপথ্যে

বঙ্গবন্ধুর মুক্তির নেপথ্যে


সামরিক ডাইজেষ্ট: আকাশে উড়ছে কমব্যাট ঘাস ফড়িং

সামরিক ডাইজেষ্ট: আকাশে উড়ছে কমব্যাট ঘাস ফড়িং


যুদ্ধ এবং প্রার্থনায় যে এসেছিলো সেদিন বঙ্গবন্ধুকে নিয়েই আমাদের স্বাধীনতা থাকবে

যুদ্ধ এবং প্রার্থনায় যে এসেছিলো সেদিন বঙ্গবন্ধুকে নিয়েই আমাদের স্বাধীনতা থাকবে


ঢাকার ১৫ মাইলের মধ্যে মিত্রবাহিনী

ঢাকার ১৫ মাইলের মধ্যে মিত্রবাহিনী


যুক্তরাষ্ট্রের হুমকীর মুখেও অটল ভারত

যুক্তরাষ্ট্রের হুমকীর মুখেও অটল ভারত