Thursday, August 6th, 2020
১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে
August 6th, 2020 at 5:11 pm
এই বই মুক্তিযুদ্ধ এবং ’৭৫-এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সম্পর্কে অত্যš নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স বই হিসেবে সমাদৃত হবে বলে আমার বিশ্বাস।
১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে

নিউজনেক্সটবিডি অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানাচ্ছে “১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে” বইটি ধারাবাহিকভাবে এই পোর্টাল এ পাবলিশ করার অনুমতি পেয়েছে  লেখক  নাজমুল আহসান শেখ এবং প্রকাশক জাগৃতি প্রকাশনীর কাছ থেকে। বইটিতে লেখকের তুলে ধারা তথ্য নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের ইতিহাসের শেকড় সন্ধানে অনেক সাহায্য করবে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। “১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে” বইটির গ্রন্থস্বত্ব লেখকের নিজের। বইটির প্রথম মুদ্রণ ২০১৯ সালের নভেম্বর, এবং দ্বিতীয় মুদ্রণ ২০১৯ এর ডিসেম্বর।   ডা: রাজিয়া রহমান জলি কর্তৃক জাগৃতি প্রকাশনী, দীপনপুর নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা থেকে বইটি প্রকাশিত। প্রচ্ছদ এঁকেছেন আইয়ুব আল আমিন। দাম  দুইশত টাকা মাত্র অথবা ৫ ডলার;   ছাপাখানা : স্বস্তি প্রিন্টার্স, ২৫/১ নীলক্ষেত, বাবুপুরা, ঢাকা।

বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে লেখকের বাবা ড. এন এম শেখ এবং মা মেহেরুন্নেসা খানম এর প্রতি যারা সৎ জীবনযাপনে অভস্ত, ধার্মিক, বাঙালি জাতীয়তাবাদ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। বইটির সূচিপত্রে ১. প্রাক-কথন ৬, ২. অধ্যায় : ১৯৭১ জানুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ ১০, ৩. অধ্যায় : স্বাধীনতার ঘোষণা ও অস্থায়ী সরকার গঠন ১৯, ৪. অধ্যায় : মুক্তিযুদ্ধে যোগদান ২৮, ৫. অধ্যায় : মুক্তিযুদ্ধ ৩২, ৬. অধ্যায় : মুজিব বাহিনী ৩৯, ৭. অধ্যায় : বীরত্বসূচক খেতাব ৪৫, ৮. চূড়ান্ত মূল্যায়ন ৫২, দ্বিতীয় পর্ব : প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় ১৯৭১ ও নভেম্বর ১৯৭৫, ২৩ মার্চ, ১৯৭১ ৫৪, নভেম্বরের সেই ৪ দিন! ৫৭, ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ – ৬৫, কোল্লা পাথরের করিম ভাই ৭৮ সন্নিবেশ করা হয়েছে।  প্রথমেই প্রাককথন দিয়ে শুরু করে পর্যায়ক্রমে বইটির অন্যান কন্টেন্ট ছাপা হবে।

প্রাক-কথন : ‘১৯৭১ ভেতরে বাইরে’ সত্যের সন্ধানে একটি নিরপেক্ষ এবং নির্মোহ বিশ্লেষণ
মুক্তিবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ, জনাব এ কে খন্দকার একজন সৎ এবং ভদ্রলোক বলে সুপরিচিত। মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়া চাকরিরত সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনি ছিলেন জ্যেষ্ঠ এবং আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বর্তমানে জীবিত সংগঠকদের মধ্যে অন্যতম। তার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ ‘১৯৭১ ভেতরে বাইরে’ প্রকাশিত হওয়ার পর জনাব এ কে খন্দকার সাহেবের বইটি অনেকেই রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা শুরু করেছেন এবং ভবিষ্যতেও করতে পারেন বলে মনে হচ্ছে। তাই ইতিহাসের স্বার্থেই এই বইটি কতটুকু নির্ভরযোগ্য তার নিরপেক্ষ এবং নির্মোহ বিশ্লেষণ হওয়া খুবই জরুরি। অন্যদিকে অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কেউ কেউ তাকে এমনকি ‘রাজাকার’ বা আইএসআইয়ের এজেন্ট বলেও আখ্যায়িত করেছেন। ঠিক সেই সময় অনেকেই আমাকে একটি নিরপেক্ষ এবং নির্মোহ বিশ্লেষণ করার অনুরোধ করেছিলেন।



‘১৯৭১ ভেতরে বাইরে’ বইটির প্রচ্ছদে বইটির নির্ভরযোগ্যতার কথা বলা হয়েছে এবং একই সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জনাব এ কে খন্দকার ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে বিমানবাহিনী প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন (!)। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট-পরবর্তী প্রকৃত ঘটনা কিন্তু তা বলে না, কারণ ১৯৭৫-এ বঙ্গবন্ধু হত্যার পর জনাব এ কে খন্দকার সাহেব বঙ্গভবনে গিয়ে সেনা ও নৌবাহিনী প্রধানের সঙ্গে খুনি মোশতাক সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন (তথ্যসূত্র:, ১২, ৩, ৯, ১০, এবং ১৬ আগস্ট ১৯৭৫ সালের প্রতিটি জাতীয় সংবাদপত্র)। আমি ১৯৭৫-এর হত্যাকা- ও পরবর্তী ঘটনাবলি উল্লেখ রয়েছে এমন তথ্যনির্ভর প্রত্যেকটি বই তন্নতন্ন করে খুঁজেছি, কিন্তু কোনে বইয়ে জনাব এ কে খন্দকার সাহেবের এই দাবির সমর্থনে কোনো প্রমাণ পাইনি।
 বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে পদত্যাগ করলে তিনি বঙ্গভবনে আনুগত্য প্রকাশ না করেই পদত্যাগ করতেন। ধরে নিলাম সেনা ও নৌবাহিনী প্রধানের মতো তিনিও জীবনের ভয়ে খুনি মোশতাক সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন। জনাব এ কে খন্দকার সাহেব যদি পরবর্তী ২৪-৪৮ ঘণ্টা বা সর্বোচ্চ কয়েকদিনের মধ্যে পদত্যাগ করতেন তাহলে তিনি অন্তত দাবি করতে পারতেন যে, ‘আমি ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর পদত্যাগ করেছিলাম।’ বঙ্গবন্ধু হত্যার ‘প্রতিবাদে’ পদত্যাগ করেছিলাম বলে দাবি করতে হলে কারণ হিসেবে পদত্যাগপত্রে তার উল্লেখ থাকা’ও বাঞ্ছনীয়। কারণ পারিবারিক বা স্বাস্থ্যগত কারণেও যে কেউ পদত্যাগ করে থাকতে পারেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যার পর সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো সংঘবদ্ধ প্রতিরোধ না হলেও বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকজন সামরিক বাহিনীর অফিসার এর প্রতিবাদ করেছিলেন! ’৭৫-এর ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীর ওসমান বীরপ্রতীক, ’৭০ সালে তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজের ছাত্র সংসদের ভিপি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নভেম্বরে নির্বাচিত হয়ে ’৭২-এর আগস্টে কমিশনপ্রাপ্ত অফিসার ছিলেন তিনি। বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে তিনি দেশ ছেড়ে চলে গেলেন।

১৯৭৫ সালের জানুয়ারি মাসে কমিশনপ্রাপ্ত বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির প্রথম ব্যাচের সদস্য ছিলেন লেফটেন্যান্ট আবদুল কাদের। ১৫ আগস্ট প্রত্যুষে তিনি ঢাকা স্টেডিয়ামে সেনাবাহিনীর টিম নিয়ে অনুশীলন করছিলেন। বিকেলেই তিনি প্রতিবাদী হয়ে দেশ ত্যাগ করেন। পরে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে এলে ওসমান ও কাদের দুজনেরই কোট মার্শাল হয়।’ (সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে আটাশ বছর, মেজর জেনারেল মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, পৃষ্ঠা ৩৮)



১৯৭৫-এ বঙ্গবন্ধু হত্যার পর জনাব এ কে খন্দকার পদত্যাগ করেছিলেন বলে তার বইয়ে দাবি করা হলেও তিনি কবে পদত্যাগ করেছিলেন তার কোনো উল্লেখ নেই! জনাব এ কে খন্দকার সাহেবের কাছে যদি তার পদত্যাগপত্রের কোনো কপি থেকে থাকে, তা উল্লেখিত বইয়ের ‘পরিশিষ্ট’-এ প্রকাশ করলে তার দাবির নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণিত হতো। একই সঙ্গে তার পদত্যাগপত্রে কী কারণে তিনি পদত্যাগ করেছিলেন অবশ্যই তার উল্লেখ থাকার কথা। তিনি যদি তার পদত্যাগপত্রের কপি হারিয়ে ফেলেন, তাহলে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তার ফটোকপি জোগাড় করে তার বইয়ের পরবর্তী সংস্করণে প্রকাশ করবেন বলে আশা করব।
আমার বিশ্লেষণ যাতে নিরপেক্ষ, নির্মোহ এবং আবেগতাড়িত না হয়, তার জন্য আমি বেশ কিছুদিন অপেক্ষা করি এবং ১৯৭১ ও ১৯৭৫ সালের ঘটনাবলির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রচুর বই নতুন করে পড়াশোনা করি। ‘১৯৭১ ভেতরে বাইরে’ বইটির মধ্যে ভূমিকা ও পরিশিষ্টসহ মোট ১৫টি অধ্যায় রয়েছে। এর মধ্যে নৌ কমান্ডো ও বিমানবাহিনী অধ্যায় দুটি তথ্যবহুল এবং অনুমানের ওপর নির্ভরশীল নয়। এই দুটি অধ্যায়ের সঙ্গে নৌ কমান্ডো খলিলুর রহমানের ‘মুক্তিযুদ্ধে নৌ অভিযান’, মো. শাহজাহান কবির বীরপ্রতীকের ‘চাঁদপুরে নৌ-মুক্তিযুদ্ধ’ এবং মেজর রফিকুল ইসলাম পিএসসির ‘মুক্তিযুদ্ধে নৌ কমান্ডো’র এবং ক্যাপ্টেন আলমগীর সাত্তার বীরপ্রতীকের ‘সত্তায় বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ’ গ্রন্থের অপূর্ব মিল লক্ষণীয়! তাই এই দুটি অধ্যায় বাদে বাকি বিতর্কিত অধ্যায়গুলোর একটি নিরপেক্ষ এবং নির্মোহ বিশ্লেষণ করাই আমার লক্ষ্য। এই বই মুক্তিযুদ্ধ এবং ’৭৫-এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সম্পর্কে অত্যš নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স বই হিসেবে সমাদৃত হবে বলে আমার বিশ্বাস।

এই ব্যাপারে আমার আত্মীয় এবং শুভাকাক্সক্ষী একাত্তরের বীর যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ জসীমউদ্দিন (মতলব, চাঁদপুর), শেরে-বাংলা হলের প্রিয় ছোট ভাই প্রকৌশলী কামরুল চৌধুরী (মেলবোর্ন), বন্ধু মুশতাক আহমেদ আমাকে প্রেরণা জুগিয়েছিলেন। আমার এই লেখাটি কয়েক বছর ধরে প্রকাশের অপেক্ষায় পড়েছিল। পিআইবির মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ ভাই এবং আমাদের ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের সতীর্থ অনুজপ্রতিম মোঃ আনিসুর রহমান সরকার (লিটু), কাওসার এবং ডাঃ রাজিয়া রহমান জলি (জাগৃতি প্রকাশনী) আমাকে বইটি প্রকাশের জন্য অনুরোধ করে। তাদের সবার অনুপ্রেরণাতেই বইটি প্রকাশ সম্ভব হতে যাচ্ছে।
তথ্যসূত্র : ১. এক জেনারেলের নীরব সাক্ষ্য, স্বাধীনতার প্রথম দশক; মেজর জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরী,  ২. বাংলাদেশ : রক্তাক্ত অধ্যায় ১৯৭৫-৮১; ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেন, ৩. একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ রক্তাক্ত মধ্য-আগস্ট ও ষড়যন্ত্রময় নভেম্বর, কর্নেল শাফায়াত জামিল, ৪. তিনটি সেনা অভ্যুত্থান ও কিছু না বলা কথা, লে. কর্নেল এমএ হামিদ, ৫. বাংলাদেশ : আ লেগেসি অব ব্লাড, অ্যান্থনি ম্যাসকারেনহাস, ৬. বাংলাদেশ : দ্য আনফিনিশড রেভল্যুশন, লরেন্স লিফশুলজ, ৭. বঙ্গবন্ধু হত্যা : ফ্যাক্টস অ্যান্ড ডকুমেন্টস, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, ৮. হু কিলড মুজিব, আব্দুল লতিফ খতিব, ৯. পঁচাত্তরের রক্তক্ষরণ, মেজর রফিকুল ইসলাম পিএসসি, ১০. সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে আটাশ বছর, মেজর জেনারেল মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক.

নিউজনেক্সটবিডি


সর্বশেষ

আরও খবর

মুক্তিযুদ্ধে যোগদান

মুক্তিযুদ্ধে যোগদান


স্বাধীনতার ঘোষণা ও অস্থায়ী সরকার গঠন

স্বাধীনতার ঘোষণা ও অস্থায়ী সরকার গঠন


শিশু ধর্ষণ নিয়ে লেখা উপন্যাস ‘বিষফোঁড়া’ নিষিদ্ধ!

শিশু ধর্ষণ নিয়ে লেখা উপন্যাস ‘বিষফোঁড়া’ নিষিদ্ধ!


১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে

১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে


সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণে এলেন বেলারুশের সাংবাদিকেরা!

সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণে এলেন বেলারুশের সাংবাদিকেরা!


লুণ্ঠন ঢাকতে বারো মাসে তেরো পার্বণ

লুণ্ঠন ঢাকতে বারো মাসে তেরো পার্বণ


বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডঃ জিয়া-এরশাদ-খালেদা কর্তৃক খুনিচক্রের স্বার্থরক্ষা

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডঃ জিয়া-এরশাদ-খালেদা কর্তৃক খুনিচক্রের স্বার্থরক্ষা


বঙ্গবন্ধুকে হত্যা, কথা বলছে ইতিহাস!

বঙ্গবন্ধুকে হত্যা, কথা বলছে ইতিহাস!


বাঙালির শোকের দিন!

বাঙালির শোকের দিন!


দ্য লাস্ট খন্দকার

দ্য লাস্ট খন্দকার