Monday, July 4th, 2022
৩ নভেম্বর জেল হত্যা: মোশতাকের দায়বদ্ধতা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ
November 3rd, 2016 at 10:03 am
৩ নভেম্বর জেল হত্যা: মোশতাকের দায়বদ্ধতা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ

ড. খোন্দকার মুশফিকুর রহমান

১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ধানমন্ডিস্থ তার নিজ বাসভবনে সেনাবাহিনীর কতিপয় সদস্যের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন। এই ঘটনায় শুধু সারাদেশই নয়, সারাবিশ্ব স্তব্ধ হয়ে যায়। ১৯৭০ ও ’৭৩-এ  চুয়াডাঙ্গা-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আফজালুর রশীদ (বাদল রশীদ নামেই যিনি সমধিক পরিচিত) এই শোকাবহ ঘটনা ও পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে এক সাক্ষাৎকারে জানান, ‘শোকাবহ এই ঘটনা শোনার পর হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেছিলাম। বঙ্গবন্ধু নেই, আমাদের অভিভাবকও নেই। কি করণীয় তা বুঝতে পারছিলাম না। তাই তাজউদ্দিন আহমদ সাহেবকে টেলিফোন করি। কিন্তু না পেয়ে তার সাথে দেখা করার সিদ্ধান্ত নিই। সে সময় ব্যাপারটা খুব সহজ ছিল না। তারপরও তার বাসভবনে গিয়ে দেখা করি। সে সময় তিনি খুবই বিমর্ষ ছিলেন। যাওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করার আগেই অনুরোধ করলাম স্যার, যদি কিছু মনে না করেন তাহলে আপনাকে আমার গাড়ী দিয়ে ভারত সীমান্ত পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসি। আপনি ভারতে চলে যান। তিনি বললেন, বঙ্গবন্ধুকে যদি হত্যা করতে পারে তাহলে আমার মতো লোকের জীবনের মূল্য কোথায়? আমাকে যদি হত্যা করে তাহলে আশ্চর্য হবার কিছু নেই। আমি কোথাও যাব না। মরতে যদি হয় এদেশেই মরবো। তবে আপনার এত সাহস দেখানো ঠিক হয়নি। যাহোক তাকে কোনোভাবেই রাজি করাতে পারলাম না। অতঃপর জেনারেল ওসমানীর বাসভবনে গেলাম। আমাকে দেখেই তিনি রেগে গেলেন। জিজ্ঞেস করলেন, আমাকে কেউ যেতে দেখেছে কিনা? না বলার পর, কয়েকটি কথা বলেই আমি যে গেট দিয়ে ঢুকেছি সে গেট দিয়ে বের না হয়ে অন্য গেট দিয়ে বের হওয়ার পরামর্শ দেন।  তিনি বললেন, মনে রাখবেন ওরা খুবই সুসংগঠিত। সবকিছু ওয়াচ করছে।’ এ থেকেই বুঝা যায় ঐ কতিপয়রা কতটা সুসংগঠিত ছিল।
লক্ষ্যণীয় ব্যাপার এই যে, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর সংবিধান অনুযায়ী ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং ভাইস প্রেসিডেন্টের অবর্তমানে জাতীয় সংসদের স্পীকার আব্দুল মালেক উকিলের প্রেসিডেন্ট হওয়ার কথা। কিন্তু অত্যন্ত সুেেকৗশলে দুজনকেই বাদ দিয়ে খন্দকার মোশতাক আহমদ প্রেসিডেন্টের পদ দখল করেন (১৫ আগস্ট সকাল ১০ টায়)। বিদ্বজ্জনদের মতে তিনি সেনাবাহিনীর মদদেই ক্ষমতা দখল করেন । তবে সেনাবাহিনীর দাপট ও সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে তিনি বরাবরই অত্যন্ত সজাগ ছিলেন। তাই বিদেশে নিজের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখা ও একটি স্থিতিশীল সিভিল গভর্ণমেন্ট গঠন করার জন্য বঙ্গবন্ধু মন্ত্রিসভার সদস্যদের তার মন্ত্রিসভায় যোগ দেবার জন্য আমন্ত্রণ জানান। তার এই আমন্ত্রণ অনেকেই প্রত্যাখ্যান করেন। দ্বি-মত থাকা সত্ত্বেও বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী, ড. এ.আর. মল্লিক, ড. মোজাফ্ফর আহমদ চৌধুরী, ফণীভূষণ মজুমদার, আব্দুল মান্নান, আব্দুল মোমেন, খন্দকার আসাদুজ্জামান প্রমুখ তার মন্ত্রিসভায় যোগদান করেন। পরবর্তীতে(২৪ আগস্ট) জেনারেল এম.এ.জি.ওসমানী রাষ্ট্রপতির প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা হিসাবে যোগ দেন। অবশ্য তাদের অনেকেই অনতিবিলম্বে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করা হবে এই আশা নিয়ে যোগ দিয়েছিলেন। যাহোক তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন, ভারত, আফগানিস্তান, পশ্চিম জার্মানী, উগান্ডা, নিউজিল্যান্ড, হাঙ্গেরী, বুলগেরিয়া, রুমানিয়া, ওমানসহ বিভিন্ন দেশ এই সরকারের প্রতি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এবং স্বাভাবিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার আশ্বাস প্রদান করে।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে খন্দকার মোশতাক আহমদ, মাহবুব আলম চাষী ও তাহের উদ্দিন ঠাকুরের বিতর্কিত ভূমিকা সম্পর্কে তাজউদ্দিন আহমদ ও সৈয়দ নজরুল ইসলাম অবগত ছিলেন। তাই স্বাধীনতার পর দেশে ফিরেই মোশতাক আহমদকে পররাষ্ট্র মন্ত্রীর পদ থেকে বাদ দিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রী করা হয়,পররাষ্ট্র মন্ত্রী করা হয় আব্দুস সামাদ আজাদকে। এই রদবদলে মোশতাক খুবই মনোক্ষুণ্ন হয়েছিলেন। ফলে তাজউদ্দিন আহমদ এর সঙ্গে মোশতাকের সম্পর্কের অবনতি ঘটতে থাকে। তাজউদ্দিন আহমদকে মন্ত্রিপরিষদ থেকে বাদ দেওয়ার ব্যাপারেও মোশতাকের ভূমিকা ছিল। তাজউদ্দিনের পরিবর্তে মোশতাককেই অর্থমন্ত্রী করা হবে এমন ধারণাও ছিল সেই সময় অনেকের (এ.আর. মল্লিক, আমার জীবন কথা ও বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম, আগামী প্রকাশনী,ঢাকা,১৯৯৫,পৃষ্ঠা,১৭৮)। যাহোক মোশতাক ক্ষমতা গ্রহণের পর তাজউদ্দিন আহমদ ও সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্টজনদের প্রতি নজর দেন। তিনি ২৩ আগস্ট দুর্নীতি, অপরাধমূলক কার্যকলাপ, বে-আইনি অস্ত্র-শস্ত্র ও গোলাবারুদ রাখা এবং গর্হিত পন্থায় সম্পদ ও সম্পত্তি অর্জনের মতো অপরাধসমূহের জন্য মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড,সশ্রম কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিধান সম্বলিত সামরিক আইনের বিধিমালা ঘোষণা করেন। বলা হয়,সামরিক আইনের বিধিসমূহ উপরাষ্ট্রপতি, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, স্পীকার, ডেপুটি স্পীকার, সংসদ সদস্য, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, বিধিবদ্ধ সংস্থা ও সংগঠনের পরিচালক, ট্রাস্টি সদস্য বা কর্মকর্তা রাজনৈতিক বা শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা অথবা দণ্ডবিধির ২১নং ধারার অর্ধে সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এও বলা হয়, বিধি জারী হওয়ার আগে বা পরে অন্যায়ভাবে স্বীয় ক্ষমতার অপব্যাবহার করে নিজের বা কোনো ব্যাক্তির জন্য স্থাবর বা অস্থাবর কোনো সম্পত্তি অর্জনকরে থাকলে বা করার চেষ্টা করে থাকলে তজ্জন্য তাকে ঐ অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কিংবা ১৪ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং সেইসঙ্গে আর্থিক জরিমানা অথবা তার সম্পূর্ণ বা আংশিক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা যাবে। সামরিক আদালতে বিচারকালে অভিয্ক্তু ব্যাক্তির পক্ষে কোনো আইনজীবী হাজির করা যাবে না। উল্লেখ্য তিনি সংবিধান বহাল রেখেই সামরিক শাসন জারী করেন- যা ছিল সম্পূর্ণ অবৈধ। যাহোক দুর্নীতি, সমাজবিরোধী তৎপরতা,স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যাবহারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ ও সম্পত্তি হস্তান্তর করার অভিযোগে সামরিক বিধিমালার আওতায় বঙ্গবন্ধু সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী মনসুর আলী, তাজউদ্দিন আহমদ ও এ. এইচ. এম. কামরুজ্জামানসহ মোট ২৬ জনকে গ্রেফতার করা হয় (দৈনিক ইত্তেফাক,২৪ আগস্ট ১৯৭৫)।
বঙ্গবন্ধু হত্যাকারী মেজররা তখন বঙ্গভবনে অবস্থান করায় ক্যান্টনমেন্টে চাপা অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছিল। সিনিয়রদের অনেকেই জুনিয়রদের পাঠানো অর্ডার মেনে নিতে সম্মত ছিলেন না। এমনি এক প্রেক্ষাপটে সামরিক বাহিনীতে ‘চেইন অব কমা-’ ঠিক রাখার জন্য ২ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেনাবাহিনী প্রধান (২৫ আগস্ট নিযুক্ত) জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ক্যান্টনমেন্টে গৃহবন্দি ও পদত্যাগে বাধ্য করে নিজে সেনাবাহিনী প্রধান হন (৩ নভেম্বর ১৯৭৫ থেকে যা কার্যকর করা হয়)। আবশ্য ৭ নভেম্বর অপর একটি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে খালেদ মোশাররফ তার কয়েকজন অনুসারীসহ নির্মমভাবে নিহত হন। জিয়া বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন এবং সেনাবাহিনী প্রধান পদে ফিরে আসেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সংঘটিত সামরিক অভ্যুত্থানের সংবাদ বঙ্গভবনে পৌঁছানো মাত্রই প্রেসিডেন্ট মোশতাক ও তার অনুসারী মেজররা জেল হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন। তাদের আশঙ্কা ছিল খালেদ মোশাররফ চার নেতার যে কাউকে ক্ষমতায় বসাতে পারে। তাই ২ নভেম্বর মধ্যরাতে মেজর বজলুল হুদা, মেজর ডালিম, লে. কর্নেল (অব:) শাহরিয়ার, রিসালদার মোসলেম উদ্দিনসহ সেনাবাহিনীর একদল সদস্য ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে যায়। অবশ্য রাতে কারা কর্তৃপক্ষ জেল কোড অনুযায়ী প্রথমে তাদের কারাগারে ঢুকতে দেয়নি। তখন টেলিফোনে প্রেসিডেন্ট মোশতাক আহমদ কারা কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেয়, ওরা যা করতে চাই তা করতে দিতে। বঙ্গভবনের বিশেষ অনুমতির পর কারা কর্তৃপক্ষ তাদের কারাগারে প্রবেশ করতে দেয়। অতঃপর তারা রাষ্ট্রীয় হেফাজতে আটক সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, এম. মনসুর আলী ও এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামানকে নির্মমভাবে হত্যা করে। চার নেতাকে হত্যা করার পর ঘাতকরা নির্বিঘ্নে কারাগার ত্যাগ করে। মধ্যরাতে কারা অভ্যন্তরে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটলেও বাইরের পৃথিবীর কেউ তা জানত না। এরপর সারাদিন লাশ পড়ে থাকে মেঝেতে। উল্লেখ্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করে দেশকে শত্রুমুক্ত করতে তাদের অবদান ছিল অসামান্য। কিন্তু তাদের জীবন দিতে হয় নির্মমভাবে। কারা অভ্যন্তরে ঢুকে এ ধরনের নিষ্ঠুর মানবতাবিরোধী হত্যাকাণ্ডের নজির বিশ্ব ইতিহাসে বিরল।
৩ নভেম্বর দুপুরের পর প্রেসিডেন্ট মোশতাক আহমদের সাথে আলোচনার জন্য খালেদ মোশাররফের পক্ষ থেকে ৩-৪ জন অফিসারের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে যান। অনেক দর কষা-কষির পর সম্ভাব্য গৃহযুদ্ধ, রক্তক্ষয় ও বে-সামরিক নাগরিকদের জান-মালের ক্ষয়-ক্ষতি এড়ানোর জন্য জেনারেল ওসমানীর মধ্যস্থতায় বঙ্গবন্ধু ও জেলহত্যাকাণ্ডের কুশীলব মেজরদের ৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় সপরিবারে ব্যাংকক পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। শুধু তাই নয়, মোশতাক তার ইতোপূর্বে জারীকৃত(২৬ সেপ্টেম্বর১৯৭৫) ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ অনুযায়ী তাদের সাংবিধানিক নিরাপত্তা প্রদানের ব্যবস্থাও করেন।
লক্ষ্য করার বিষয় এই যে, ৪ নভেম্বর সকাল ১০ টার আগে পর্যন্ত খালেদ ও তার অনুসারীগণ জানতেন না জেল হত্যাকাণ্ডের কথা। স্পেশাল ব্রাঞ্চের ডি. আই. জি. জনাব ই. এ. চৌধুরীর মাধ্যমে তারা এ খবরটি জানতে পারেন। ৪ তারিখ সন্ধ্যার পর জেল কর্তৃপক্ষ এ সংবাদ প্রদান করে। যাহোক সংবাদ শোনার পর খালেদ মোশাররফ সরাসরি বঙ্গভবনে যান এবং বেশ কিছুক্ষণ তর্ক-বিতর্কের পর তিনি প্রেসিডেন্ট মোশতাক আহমদের কাছ থেকে পদত্যাগপত্র আদায় করেন। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ রাতেই কারাগারে বিশেষ ব্যবস্থাধীনে চার নেতার ময়না তদন্তের ব্যবস্থা করে। অতঃপর রাত পৌনে দুইটার পর আত্মীয়-স্বজনের কাছে তাদের লাশ হস্তান্তর করে (দৈনিক ইত্তেফাক, ৫ নভেম্বর ১৯৭৫)।
ঘটনা জানাজানির পর জনসাধারণের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ঐ রাতেই প্রেসিডেন্ট মোশতাক আহমদ  জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে সংঘটিত জঘন্য অপরাধমূলক কার্যকলাপের সাথে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জড়িত রয়েছে বলে কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল যে গুজব রটিয়ে বেড়াচ্ছে তার সাথে সেনাবাহিনী কোনোক্রমেই জড়িত নয় বলে ঘোষণা করেন। শুধু তাই নয়, অনতিবিলম্বে ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের জন্য সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের বিচারপতি জনাব আহসান উদ্দিন চৌধুরীকে (প্রধান) এবং সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের বিচারপতি জনাব কে. এম. সোবহান ও বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ এর সমন্বয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিশন গঠনের কথা ঘোষণা করেন। কি অবস্থায় কিছু সংখ্যক দুষ্কৃতিকারীকে নিরাপদে দেশত্যাগ করতে দেওয়া হয় সে সম্পর্কেও কমিশন তদন্ত করবেন বলে তিনি ঘোষণায় উল্লেখ করেন (দৈনিক ইত্তেফাক,৫ নভেম্বর ১৯৭৫)। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য তদন্ত কমিটির রিপোর্ট  প্রকাশিত হয়নি।
৫ তারিখে জনসাধারণ ঢাকায় এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে মিছিলের চেষ্টা করে। এ প্রেক্ষিতে সরকারি এক প্রেস নোটে সর্বসাধারণকে স্মরণ করিয়ে বলা হয় ১৯৭৫ সালের জরুরী বিধি অনুযায়ী বাংলাদেশের সর্বত্র জনসভা, গণজমায়েত, মিছিল ও হরতালের ওপর সাধারণভাবে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। সুতরাং আইন অমান্যকারী উক্ত বিধি মোতাবেক দণ্ডনীয় হইবে। এদিন রাতেই তিনি ১৯৭৫ সালের দ্বিতীয় সংশোধনী আদেশ জারি করেন এবং এ আদেশ অনুযায়ী ৬ তারিখ সকালে সুপ্রীম কোর্টের তদানীন্তন প্রধান বিচারপতি জনাব এ. এস. এম. সায়েমের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।
এভাবে তিনি একদিকে জনসাধারণের ব্যাক্তি-স্বাধীনতা খর্ব ও ভীতিকর অবস্থার সৃষ্টি করেন। অন্যদিকে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেও পার পেয়ে যান।

kh-mushfiq-copy

লেখক : গবেষক ও প্রাবন্ধিক


সর্বশেষ

আরও খবর

সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস, সংবিধান এবং আশাজাগানিয়া মুরাদ হাসান

সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস, সংবিধান এবং আশাজাগানিয়া মুরাদ হাসান


গণতন্ত্রের রক্ষাকবজ হিসাবে গণমাধ্যম ধারালো হাতিয়ার

গণতন্ত্রের রক্ষাকবজ হিসাবে গণমাধ্যম ধারালো হাতিয়ার


মহামারী, পাকস্থলির লকডাউন ও সহমতযন্ত্রের নরভোজ

মহামারী, পাকস্থলির লকডাউন ও সহমতযন্ত্রের নরভোজ


ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন


নাচ ধারাপাত নাচ!

নাচ ধারাপাত নাচ!


মাতৃভাষা বাংলা’র প্রথম লড়াই ১৮৩৫ সালে হলেও নেই ইতিহাসে!

মাতৃভাষা বাংলা’র প্রথম লড়াই ১৮৩৫ সালে হলেও নেই ইতিহাসে!


তারুণ্যের ইচ্ছার স্বাধীনতা কোথায়!

তারুণ্যের ইচ্ছার স্বাধীনতা কোথায়!


সমাজ ব্যর্থ হয়েছে; নাকি রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে?

সমাজ ব্যর্থ হয়েছে; নাকি রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে?


যুদ্ধ এবং প্রার্থনায় যে এসেছিলো সেদিন বঙ্গবন্ধুকে নিয়েই আমাদের স্বাধীনতা থাকবে

যুদ্ধ এবং প্রার্থনায় যে এসেছিলো সেদিন বঙ্গবন্ধুকে নিয়েই আমাদের স্বাধীনতা থাকবে


বঙ্গবন্ধু কেন টার্গেট ?

বঙ্গবন্ধু কেন টার্গেট ?