Wednesday, July 13th, 2016
নিন্দার তোপে রামপাল চুক্তি সাক্ষর
July 13th, 2016 at 12:32 am
নিন্দার তোপে রামপাল চুক্তি সাক্ষর

ঢাকাঃ পরিবেশবাদী আন্দোলন ও নাগরিক প্রতিনিধিদের যৌক্তিক বিরোধিতা উপেক্ষা করে রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ ও ভারত। মঙ্গলবার সন্ধ্যায়, পাঁচ তারকা প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে, দু’শ কোটি ডলারের এই চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রতিনিধিরা।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করতে ভারত হেভি ইলেকট্রিক্যালস লিমিটেড (ভেল) এবং বাংলাদেশ ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিলি) এর মধ্যে চুক্তিটি সম্পাদিত হয়। নির্মাণ ঠিকাদার হিসেবে ভেলের নির্বাচন ও নিযুক্তির বিষয়টি বাংলাদেশ পক্ষ তথা পিডিবি অনুমোদন করেছে গত জানুয়ারি মাসে। এরপর এনটিপিসির অনুমোদন পাওয়ার পর চুক্তি সইয়ের জন্য ভেলকে চিঠি দেওয়া হয়। তবে এই প্রকল্পের যন্ত্রপাতি (ক্যাপিটাল মেশিনারিজ) শুল্কমুক্ত আমদানির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দেরীতে মঞ্জুরি দেয়ায় নির্মাণ চুক্তি সইও পিছিয়ে যায়। সংশ্লিষ্টরা জানান, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ২০১০ সালে পিডিবি ও এনটিপিসি’র মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। আমদানিকৃত কয়লানির্ভর সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্পটি ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কেন্দ্রটিতে ব্যবহারের জন্য কয়লার উৎস, কয়লা আনার প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি নিশ্চিত হয়নি। নির্মাণ শেষে কেন্দ্রটির জন্য প্রতিদিন কয়লা লাগবে প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন। কেন্দ্রটির নির্মাণস্থল সুন্দরবনের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তসীমা থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে। এটি নির্মাণের সময় ও পরবর্তীতে পরিবেশ দূষণের ফলে সুন্দরবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে উল্লেখ করে প্রকল্পটি অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন পরিবেশবিদরা ও বিভিন্ন সংগঠন।

এই চুক্তি স্বাক্ষর করতে ভারতের প্রতিনিধি দল আজ সন্ধ্যায় বাংলাদেশ এসে পৌঁছে। আগামীকাল ভারতীয় প্রতিনিধি দলের রামপাল পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, “কোনো সন্ত্রাস আমাদের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না, আমরা এগিয়ে যাবোই।”

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সচিব মনোয়ার ইসলাম বলেন, “বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে সবরকম নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ হলে সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি হবে না।”

“বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে সবরকম নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ হলে সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি হবে না।”

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ভারতের এনপিটিসি চেয়ারম্যান গুরুদ্বীপ সিং এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান শামসুল হাসান মিয়া।

রামপাল কেন্দ্রের ৭০ শতাংশ অর্থ ঋণ নেয়া হবে। এই ঋণ দেবে ভারতের এক্সিম ব্যাংক। বাকি ৩০ শতাংশ পিডিবি ও এনটিপিসি যৌথভাবে বিনিয়োগ করবে।

সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই কেন্দ্র স্থাপনে আনুমানিক খরচ ধরা হয়েছে ২০১ কোটি ৪৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার। এর ১৫ শতাংশ হিসাবে ৩০ কোটি ২১ লাখ ৮৪ হাজার ডলার দিতে হবে পিডিবিকে।

রামপালে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা পরিবেশবান্ধব হবে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করতে ইউনেসকো ইতোমধ্যে রামপাল এলাকা পরিদর্শন করেছে। বাংলাদেশের একাধিক পরিবেশবিদ ও সংগঠন এই কেন্দ্র স্থাপনের বিরোধিতা করে আসছে। তারা মনে করছেন, রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে সুন্দরবনের ক্ষতি হবে।

 rampal

এদিকে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের কারিগরি চুক্তি স্বাক্ষরের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি।

দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন সংস্থা ও বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করছেন যে, এ প্রকল্প সুন্দরবন ধ্বংসের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও বিশ্বের অপূরণীয় ক্ষতি করবে। তারপরও সরকার সব জনমত ও বিশেষজ্ঞমত অস্বীকার করে একগুয়েমি করে বাংলাদেশের জন্য মহাবিপদ ডেকে আনছে।

 

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কার্যালয়ে কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় কমিটির জরুরি সভায় এ নিন্দা জানিয়েছেন। কমিটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ কথা জানানো হয়।

anu

বৈঠকে নেতারা বলেন, দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন সংস্থা ও বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করছেন যে, এ প্রকল্প সুন্দরবন ধ্বংসের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও বিশ্বের অপূরণীয় ক্ষতি করবে। তারপরও সরকার সব জনমত ও বিশেষজ্ঞমত অস্বীকার করে একগুয়েমি করে বাংলাদেশের জন্য মহাবিপদ ডেকে আনছে।

তারা বলেন, এ চুক্তির আয়োজন প্রমাণ করে যে, রামপাল তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের পক্ষে জনমত এবং যুক্তি কোনটাই সরকারের নাই। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যত উত্তেজনাই থাকুক সুন্দরবন ধ্বংসের মতো আত্মঘাতী কার্যক্রম ও লুটপাট নির্বিঘ্নে করার ক্ষেত্রে সরকারের সক্রিয়তা উন্মাদনার পর্যায়ে পৌঁছেছে। নেতারা এ চুক্তি বাতিল করা এবং সুন্দরবন বিনাশী কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জন্য জোর দাবি জানায়।

বৈঠকে আগামী ১৬ জুলাই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

নিউজনেক্সটবিডিডটকম/এসকেএস


সর্বশেষ

আরও খবর

প্রয়াণের ২১ বছর…

প্রয়াণের ২১ বছর…


মানুষের জন্য কিছু করতে পারাই আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

মানুষের জন্য কিছু করতে পারাই আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী


পাওয়ার গ্রিডের আগুনে বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন পুরো সিলেট, ব্যাপক ক্ষতি

পাওয়ার গ্রিডের আগুনে বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন পুরো সিলেট, ব্যাপক ক্ষতি


বাস পোড়ানোর মামলায় বিএনপির ২৮ নেতাকর্মী রিমান্ডে

বাস পোড়ানোর মামলায় বিএনপির ২৮ নেতাকর্মী রিমান্ডে


মাইন্ড এইড হাসপাতালে তালা, মালিক গ্রেপ্তার

মাইন্ড এইড হাসপাতালে তালা, মালিক গ্রেপ্তার


বিরোধী নেতাদের কটাক্ষ করতেন না বঙ্গবন্ধু: রাষ্ট্রপতি

বিরোধী নেতাদের কটাক্ষ করতেন না বঙ্গবন্ধু: রাষ্ট্রপতি


দেশের ইতিহাসে প্রথম সংসদের বিশেষ অধিবেশন শুরু

দেশের ইতিহাসে প্রথম সংসদের বিশেষ অধিবেশন শুরু


আমেরিকা নির্বাচন: দুজনেরই জয় দাবি

আমেরিকা নির্বাচন: দুজনেরই জয় দাবি


বৃহস্প্রতিবার থেকে ব্রিটেনে এক মাসের  জাতীয়  লকডাউন ডিসেম্বর পর্যন্ত  ফার্লো স্কীমের সময় বৃদ্ধি

বৃহস্প্রতিবার থেকে ব্রিটেনে এক মাসের জাতীয় লকডাউন ডিসেম্বর পর্যন্ত ফার্লো স্কীমের সময় বৃদ্ধি


সামরিক ডাইজেষ্ট

সামরিক ডাইজেষ্ট