Tuesday, January 3rd, 2017
আজকের সম্পাদকীয়
January 3rd, 2017 at 9:42 am
আজকের সম্পাদকীয়

ডেস্ক: তরুণদের সামাজিক উদ্যোগ শিরোনামে প্রথম আলো লিখেছে, “দেশের কৃষির নতুন খাত, নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠার মতো সামাজিক উদ্যোগেও তরুণদের এগিয়ে থাকা শুভপ্রদ ঘটনা। সম্প্রতি এক জরিপ জানাচ্ছে, এসব সামাজিক উদ্যোগে নেতৃত্বদানকারীদের ৭০ শতাংশেরই বয়স ৩৫ বছরের কম। তরুণেরা অতীতেও সামাজিক উদ্যোগ ও সেবামূলক কাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন, এখন সামাজিক ব্যবসার মতো নতুন খাতেও তাঁদেরই অগ্রণী হয়ে থাকা জাতীয় আত্মবিশ্বাস ও আস্থা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।

এক হাজার সামাজিক উদ্যোগের ওপর পরিচালিত ব্রিটিশ কাউন্সিলের ওই জরিপ জানাচ্ছে, সামাজিক উদ্যোগের বেলায় দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে তারুণ্যের সমাগম বেশি বাংলাদেশে। কোনো সামাজিক সমস্যার সমাধানের জন্য নেওয়া ব্যবসায়িক উদ্যোগগুলোকে বলা হচ্ছে সামাজিক উদ্যোগ। এ ধরনের উদ্যোগে উদ্যোক্তারা ব্যক্তিগত মুনাফা না নিয়ে প্রতিষ্ঠানে তা পুনর্বিনিয়োগ করেন এবং সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে থাকেন। সেবামূলক কর্মসূচি পরিচালনা এর বড় এক দিক।

তরুণেরাই এ ধরনের উদ্যোগে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। এর ইতিবাচক সাড়ার পেছনে রয়েছে বাংলাদেশের জনসংখ্যাকাঠামোর গুণগত পরিবর্তন। জনসংখ্যার বড় অংশই এখন তরুণ। জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদেরা একে বলছেন ‘পপুলেশন ডিভিডেন্ড’ বা জনসংখ্যা-সুবিধা। এই পরিস্থিতিতে কাজ করা মানুষের সংখ্যা কাজ না-করা মানুষের চেয়ে বেশি থাকে। বাংলাদেশে এখন অন্যের উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যাও কম। প্রতি তিনজন মানুষের দুজনই উপার্জন করে।”

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে নির্বাচিত জেলা পরিষদ শিরোনামে কালের কণ্ঠ লিখেছে, “নানা কারণে বিতর্কিত হলেও দেশে প্রথমবারের মতো জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যানসহ ২১ সদস্যের পরিষদ নির্বাচিত হয়েছে। দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন হলেও নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের বিদ্রোহী প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন।

জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটার ছিলেন স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচিত সদস্যরা। ভোটারসংখ্যা খুব বেশি না হলেও নির্বাচনে ভোট বেচাকেনার অভিযোগ উঠেছে। ভোটের পর ভোট বিক্রির টাকা ফেরত নেওয়া নিয়েও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে।

নির্বাচন হলেও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের ক্ষমতা ও মর্যাদা নিয়ে এখন পর্যন্ত স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। তবে জেলা পরিষদ কী কী কাজ করতে পারবে, তা অনেকটাই স্পষ্ট। দেশের প্রতিটি জেলা পরিষদের বিশাল সম্পদ রয়েছে। আবশ্যিক ও ঐচ্ছিক আইন অনুযায়ী তা দেখভালের দায়িত্ব জেলা পরিষদের। জেলার উন্নয়নকাজ তদারকির দায়িত্বও থাকবে স্থানীয় সরকারের এই প্রতিষ্ঠানের ওপর। সরকারের অনুমোদনক্রমে জেলার যেকোনো বাণিজ্যিক কার্যক্রম বা প্রকল্প গ্রহণ, বাস্তবায়ন ও পরিচালনা করবে জেলা পরিষদ। এখানেই জেলা পরিষদের যেকোনো পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার রহস্য। দুঃখজনক হলেও সত্য, সাম্প্রতিককালের রাজনীতিতে জনসেবার চেয়ে অর্থ উপার্জনের বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে, জেলা পরিষদের নির্বাচনকে যা প্রভাবিত করেছে বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে। একেকটি জেলা পরিষদের অধীনে যে শতকোটি টাকার সম্পদ আছে, তা থেকে পরিষদের যেমন আয়ের সুযোগ আছে, তেমনি তা চেয়ারম্যানসহ পরিষদের সদস্যদেরও বাড়তি আয়ের মাধ্যম হতে পারে।”

রফতানি বাণিজ্য নিয়ে গতানুগতিকতা ভাঙার চ্যালেঞ্জ শিরোনামে সমকাল লিখেছে, “চলতি অর্থবছরে (২০১৬-১৭) বাংলাদেশের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ৩৭ বিলিয়ন ডলার, আমাদের মুদ্রায় প্রায় তিন লাখ কোটি টাকা। গত বছরের তুলনায় রফতানি আয় বাড়বে ৮ শতাংশ। ৩৭ বিলিয়নের মধ্যে ৩০ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় দুই লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা আয় হবে তৈরি পোশাক খাত থেকে। একক পণ্যের ওপর নির্ভরতা কতটা, এ তথ্য থেকে স্পষ্ট। কেবল একক পণ্যে নির্ভরতা নয়, বাজারও সীমিত। তৈরি পোশাকের প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের কয়েকটি দেশ। এ চিত্র উদ্বেগের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার বাণিজ্য মেলা উদ্বোধন উপলক্ষে প্রদত্ত ভাষণে সঙ্গত কারণেই নতুন বাজার সৃষ্টি ও পণ্য বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। আমাদের রফতানি বাড়ছে। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে রফতানি থেকে বাংলাদেশ আয় করেছিল ১৪ বিলিয়ন ডলার। এক দশকেরও কম সময়ে রফতানি আড়াই গুণেরও বেশি বৃদ্ধি করতে পারা অবশ্যই উদ্যোক্তা, শ্রমিক, বিভিন্ন বাণিজ্য এবং সর্বোপরি সরকারের সক্ষমতার প্রমাণ। আমরা এ ভিতের ওপরে দাঁড়িয়েই ২০২১ সালে কেবল তৈরি পোশাক খাত থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার আয় করতে চাইছি। প্রধানমন্ত্রী চামড়া শিল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। কাঁচা পাট ও পাটজাত দ্রব্য রফতানি বাড়াতে বলেছেন। দক্ষিণ এশিয়া ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্কোন্নয়নের পাশাপাশি কানেকটিভিটি বাড়াতে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে তার সুযোগ গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন। এক কথায়, গতানুগতিকতা ভাঙার আহ্বান এসেছে রাজনৈতিক নেতৃত্বের দিক থেকে।”

শিক্ষার আলো সর্বত্র সমভাবে ছড়াইয়া পড়ুক শিরোনামে ইত্তেফাক লিখেছে, “বহুবিধ সমস্যায় জর্জরিত গ্রামীণ পর্যায়ের শিক্ষা ব্যবস্থা বত্সর কয়েক পূর্বেও শহরের তুলনায় অনেকাংশেই পিছাইয়া ছিল বলা যায়। বছরের শেষপ্রান্তে আসিয়া জেএসসি, জেডিসি এবং পঞ্চম শ্রেণির পরীক্ষার ফলাফলের মাধ্যমে প্রমাণিত হইল—না, গ্রামীণ শিক্ষার্থীরা আর পিছাইয়া নাই। শিক্ষার আলো এখন শহরের গণ্ডি পার হইয়া গ্রামের কুটিরেও সমভাবে প্রজ্বলিত হইতেছে। প্রকাশিত ফলাফলের সবকয়টি সূচকেই গ্রাম-শহর, বিশেষ করিয়া জেলা-উপজেলা পর্যায়ের মধ্যে তফাত্ ছিল খুব সামান্য। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদন হইতে জানা যায়, সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে জেলা ও উপজেলা সদরের বিশেষায়িত ও সরকারি স্কুলগুলি আগাইয়া আছে ঠিকই, কিন্তু গড় পাসের হারের দিক হইতে গ্রামাঞ্চলের স্কুল এবং শহরের স্কুলগুলির মধ্যে পার্থক্য ছিল খুবই সামান্য। উল্লেখ্য যে, এই বত্সর ঢাকা বোর্ডের তুলনায় অন্যান্য বোর্ডের গড় পাসের হার ছিল বেশি।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, বত্সরের শুরুতে পাঠদান কার্যক্রম শুরু, বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ, শতভাগ উপবৃত্তি প্রদান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মনিটরিং জোরদার, অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়ানো, ভর্তি বাণিজ্যের লাগাম টানা এবং অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান গ্রহণের মতো সরকারি পদক্ষেপগুলিই এই বৈষম্য হ্রাসের অন্যতম নিয়ামক হিসাবে কাজ করিয়াছে। তবে এই সাফল্যের পিছনে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের সচেতনতাও ছিল অন্যতম কৃতিত্বের দাবিদার। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক একজন চেয়ারম্যানের মতে, দেশব্যাপী সৃজনশীল বিষয়ে শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিং-এর মতো বিষয়গুলিও এই বৈষম্য হ্রাসের অন্যতম অনুঘটক। এই সাফল্যের পাশাপাশি হতাশার চিত্রও কিন্তু একেবারে মুুছিয়া যায় নাই। এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করিবার পূর্বেই ঝরিয়া যায়। সন্দেহাতীতভাবেই তাহা উদ্বেগজনক। উহার কারণ অনুসন্ধান করিয়া যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য হইয়া পড়িয়াছে। দেশের সর্বত্র শতভাগ পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করিবে এবং সমানুপাতে তাহাদের পাসও নিশ্চিত হইবে—ইহাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।”

গ্রন্থনা: প্রণব


সর্বশেষ

আরও খবর

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন


কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর

কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর


সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ

সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ


গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা

গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা


৯ মাস পর কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক কাজল

৯ মাস পর কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক কাজল


জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ধাপ্পার অভিযোগ ভারতীয় লেখকের!

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ধাপ্পার অভিযোগ ভারতীয় লেখকের!


বিদায় কিংবদন্তি যুদ্ধ সাংবাদিক রবার্ট ফিস্ক

বিদায় কিংবদন্তি যুদ্ধ সাংবাদিক রবার্ট ফিস্ক


মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা

মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা


গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা

গণমাধ্যম, স্বাধীনতা এবং মিডিয়া মালিকানা


তাসের ঘর : দুর্দান্ত স্বস্তিকায় নারীমুক্তি?

তাসের ঘর : দুর্দান্ত স্বস্তিকায় নারীমুক্তি?